• মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শুভেচ্ছা পত্র

সবুজ নিমপাতা হয়ে ওঠো, প্রিয় সবুজ

  তাজবীর সজীব

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:০৭
ওয়াহেদ সবুজ

দিনটা চলে গেছে কয়েক দিবস আগেই, যাক। শুভাশিষ আর ভালোবাসা জানাতে বিশেষ কোনো দিনের কি আসলেও বিশেষ প্রয়োজন আছে? তবে দিনটি উছিলা হতেই পারে।

মাকে ভালোবাসলেও মুখ ফুটে ভালোবাসি বলা হয় না, কেমন একটা ছেলেমি লজ্জা ভর করে। মা দিবস যখন আসে লজ্জার মাথা খেয়ে সন্তানেরা কেউ কেউ মুখে কেউ কার্ডে কেউ সাধ্য মতো একটা গিফট এর মাধ্যমে, আর এখন যেটি খুব প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া, মা তোমাকে ভালোবাসি। খুব বেশি।

এমন করে অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে, অনেক দিবসের। আজ আমি সেসব দিবসের খেরোখাতা খুলে বসিনি। লিখতে বসেছি আমার জীবনের বিশেষ একজন মানুষকে নিয়ে।

গত সপ্তাহে ছিল তার জন্মদিন। আমি কাজের চাপাকলের মতো মধ্যে বিরাজ করায়, তাকে ছোট করে একটু উইশ করেছি।

আসলে বড় করে উইশ করার মানুষের তার অভাব নেই, আমারও না। কিন্তু আমাদের যার যার জন্মক্ষণে আমি আর সে দুজনেই প্রত্যাশা করি আমাদের থেকে একটু ভালোবাসার প্রকাশ আসুক, ভালোবাসার দোল দুলে যাক। কারণ সারাবছর দু'জনের, জীবনের নানা যাতাকলে ঠিক মতো কথাও হয় না, হয়ে উঠে না। কিন্তু অনুভূত হয় তার অনুভব। পরস্পরায়। তাই এই বিশেষ কিছু লেখা, মনের দুয়ার কিছুটা হলেও উন্মোচন করা, তার জন্য, আমার জন্য, ফেলে দেওয়ার ব্যাপার তো নয়ই, জীবনের প্রাপ্তির খাতায়, প্রাপ্তিযোগ।

বন্ধু নামে অনেকেই ডাকে, বন্ধু অনেকেই হয় না। কেউ কেউ হয়। ওয়াহেদ সবুজ আমার বন্ধু। সাংবাদিক, কলামিস্ট, ভাষা আন্দোনকারী, উদ্যোক্তা, উপস্থাপক, ব্লগার, লেখক, শিক্ষক, নির্মাতাসহ আরও অসংখ্য পরিচয় তার নামের সাথে যুক্ত কিন্তু আমার কাছে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় সে আমার বন্ধু।

আমরা নিমপাতা নামক একটি টকশো করতাম অধিকারে। একসাথে আরও অনেক কিছু করেছি, কিছু আলোর মুখ দেখেছে কিছু দেখেনি, তবে একসাথে অনেক কিছু করার স্বপ্ন আমরা এখনও দেখি।

তার জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলোর অন্যতম নিয়ামক যখন আমাকে করা হয় আমি কৃতজ্ঞ থাকি, আমিও কম যাই না, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত পরিকল্পনা তাকে বলে ফেলা হয় অবলীলায়, নিশ্চিন্তে। এই একটা মানুষ, কখনো তাকে নেতিবাচক বলতে শুনিনি। আমার বড় বড় স্বপ্নের বিপরীতেও সে বলেছে, আরে পারবা, তুমি না পারলে কেউ পারবে না। সে স্বপ্নগুলোর কিছু কিছু আজ ধরা দিয়েছে, এ ধরায়। এ সাহস কজনে দেয়, কজনের এমন সাহস টনিক হিসেবে জীবনে কাজ করে?

তার উদ্যোগ এবং প্রাণশক্তিতে গড়ে ওঠা বানান আন্দোলন নামক প্রতিষ্ঠান পৃথিবীব্যাপী যে অবদান রেখে চলেছে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যে সেটি নিয়ে একটি বড় কলেবরের বই হতে পারে। ও হ্যাঁ, বানান আন্দোলন এজেন্সি হিসেবে সুচারুভাবে বইয়ের প্রুফ এর কাজ করে যাচ্ছে, এটিও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ থেকেই এসেছে। জীবনের নানা জটিলতা আর পেশাগত ব্যস্ততায় দায়িত্বশীল হিসেবে দায়িত্ব পালন ওভাবে হয়ে না উঠলেও আমিও আছি এ যাত্রার অগ্রপথিকদের একজন হিসেবে এ ভাবনাটাও আমাকে আনন্দ দেয়। বানান আন্দোলন গ্রুপটির প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচিত রেজবুল সহ সাবেক বর্তমান সকল যোদ্ধাদেরকে সাংগঠনিক প্রধান হিসেবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সংগঠন, এই প্লাটফর্ম, এই প্রতিষ্ঠান তাদের ছাড়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভবপর হত না বলেই আমি বিশ্বাস করি। তবে তেমন কিছুই হয়নি করা আমার হতে, হবে না কখন সে নিশ্চয়তা কে দিতে পারে। বানান আন্দোলন বাংলা ভাষা নিয়ে প্রোডাক্টিভ একটি অ্যাপস ছেড়েছে বাজারে যেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এটির বিস্তারিত কন্টেন্ট নিয়ে আলাদা একটি ফিচার আসবে অধিকারে। তাই অ্যাপস এর আলোচনা দিয়ে বানান আন্দোলন এর প্রসঙ্গের ইতি টানছি, কারণ এত বেশি এক্টিভিটিজ আমাদের। বই লেখা ছাড়া উপায় নেই।

আগেই উল্লেখ করেছি, আমরা, আমি আর সবুজ দুজনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অধিকারে স্যাটায়ার ধর্মী নিমপাতা নামক একটি টকশো করতাম। নামটাকে প্রসংজ্ঞ রেখেই বলি, বন্ধু সবুজ, নিমপাতা হয়ে ওঠো, তিতা কিন্তু যে বা যারা গ্রহণ করবে, বড্ড উপকার পাবে। কারণ পাতাটি তিতা কিন্তু উপকারী। আচ্ছা, ভালো থেকো বন্ধু। আরে না না, এখানেই শেষ করা যাবে না, তাইলে তোমার বউ, আমার ভাবি কাম ছোট বোন বেশি, আয়াত মাইন্ড খাবে, দেখা হলে আমার মাথাও খেয়ে ফেলতে পারে, এমনকি আমাকে না পেলে তোমার মাথার গ্যারান্টিও দিতে পারছি না। তোমরা সবুজ আয়াত নামে ব্লগ করছ। দারুণ হচ্ছে। কতটা দারুণ বন্ধু হিসেবে আমি বললে পক্ষপাতিত্ব হবে তবে গত বইমেলায় আমাদের তিনজনের একান্ত সময় তোমাদের ভক্তকূল ছিনিয়ে নিয়েছিল এটি আমি ভুলি নাই। এমন মধুর বিড়ম্বনা দেখে যেতে চাই। তোমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তোমাদের সন্তানকে নিয়ে অনেক ভালো থাকো, পরিশেষে এই একান্ত চাওয়া, ভীষণ চাওয়া।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড