• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অবশেষে সরানো হচ্ছে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৩৬
ক্যারি লাম
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। (ছবিসূত্র : বিবিসি নিউজ)

ইউরেশিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূলের দেশ হংকংয়ে গণতন্ত্রকামীদের সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে প্রত্যাহার করা হচ্ছে অঞ্চলটির চীনপন্থি প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে। অঞ্চলটিতে গত কয়েক মাস যাবত চলা বিক্ষোভের পর এক রকম বাধ্য হয়ে চীন এই সিদ্ধান্তের দিকে পা বাড়াচ্ছে। খবর ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের’

যদিও এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ের কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা জানিয়েছিলেন লাম। তবে সে সময় চীনের তরফ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় তার সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি। তখন কর্তৃপক্ষ তাকে স্বপদে বহাল থাকার জন্য চাপ দেয়। পরে অবশ্য চীন এবং হংকং কর্তৃপক্ষ উভয়েই লামের পদত্যাগের ইচ্ছের বিষয়টি অস্বীকার করেছিল।

এ দিকে বিশ্লেষকদের মতে, খুব শিগগিরই ক্যারি লামের পরিবর্তে অঞ্চলটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী হিসেবে অন্য যে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। হংকংয়ে আসামি প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে টানা বিক্ষোভ-আন্দোলনের পর অবশেষে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাটি সামনে এল।

যদিও এর মাধ্যমে চীন ভূখণ্ডটির ওপর নিজেদের আরও বেশি কর্তৃত্ব জোরদার করতে পারবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যদি হংকংয়ের এই প্রধান নির্বাহীকে তার পদ থেকে অপসারণের বিষয়ে সম্মতি জানান, তবেই প্রক্রিয়াটি আলোর মুখ দেখবে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের মার্চের কোনো এক সময় ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ প্রধান নির্বাহীকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। যে কিনা ২০২২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ক্যারি লামের শাসনকাল পূর্ণ করবেন।

অপর দিকে লামের পরিবর্তে পদটিতে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন নরমান চান। যিনি এর আগে হংকংয়ের আর্থিক কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রায় ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের অধীনে থাকার পর ১৯৯৭ সালের পয়লা জুলাই লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অঞ্চলটি শক্তিশালী চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই দিবসটির ২২ বছর পূর্তিতে গত পয়লা জুলাই আন্দোলনে সড়ক অবরোধ করেন গণতন্ত্রকামী লোকজন। প্রতি বছরের এই দিনে কর্মকর্তারা এক দিকে সরকারি ভবনগুলোতে উৎসব পালন করেন আর অপর দিকে গণতন্ত্রকামীরা অবস্থান নেন রাজপথে।

দীর্ঘদিন যাবত হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল থেকে অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দেয় দেশটি। এর আগে গত মাসেও চীনপন্থি এক বিল নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ইউরেশিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূলের এই দেশ। 

মূলত চীন ও তাইওয়ানে আসামি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে তখন গোটা দেশে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ দাঁড়ায় চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে।

আরও পড়ুন :- সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর আলু-ডিম নিক্ষেপের ভিডিও ভাইরাল

বেইজিংয়ের দুর্বল আইন ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ডের কারণে হংকংয়ের সাধারণ মানুষ সেখানে কাউকে ফেরত পাঠাতে চাইছেন না। তাদের মতে, পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে চীনা হস্তক্ষেপের সুযোগ অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড