• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অবশেষে সিংহাসনে বসলেন জাপানি সম্রাট

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৩০
জাপানি সম্রাট
জাপানের সিংহাসনে বসছেন নতুন সম্রাট নারুহিতো। (ছবিসূত্র : বিবিসি নিউজ)

এশিয়ার সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতোর (৫৯) অভিষেক হয়েছে। চলতি বছরের পয়লা মে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করলেও এতদিন তার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক করা হয়নি। রাজ পরিবারের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাজধানী টোকিওতে মনোমুগ্ধকর এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্রাটের আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসন আরোহণ পর্বের প্রথম অংশটি সম্পন্ন হয়।

সরকারি সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম ‘দ্য জাপান টাইমস’ জানায়, জাপানি ঐতিহ্য অনুযায়ী- উত্তরাধিকার সূত্রে নারুহিতো দেশের ১২৬তম সম্রাট। স্থানীয় ভাষায় ‘সোকুই নো রেই’ নামে পরিচিত অনুষ্ঠানটি এই নতুন সম্রাটের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় দুই হাজার ৬৮০ বছরের প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী ব্যাপক জাঁকজমকের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবার বিশ্বের প্রায় ১৯০টির বেশি রাষ্ট্রের দুই হাজারের অধিক রাষ্ট্রনেতা ও প্রতিনিধি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেন।

এবার মূল রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সম্রাটের প্রাসাদে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সম্রাট নারুহিতো এবং সম্রাজ্ঞী মাসাকো পূর্ণাঙ্গ রাজকীয় সাজপোশাক পরিধানের মাধ্যমে অপেক্ষমাণ অতিথিদের সামনে উপস্থিত হন। শুরুতে সম্রাট নিজেকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করে একটি বিবৃতি প্রদান করেন। মূলত এর পর জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠ করে শোনান।

এর পর উপস্থিত অতিথিরা সমবেতভাবে ‘বানজাই’ ধ্বনি তুলে নতুন সম্রাটের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করে জাপানি পানীয় ‘সাকে’ পান করেন। জাপানি ভাষায় এই ‘বানজাই’ শব্দের অর্থ ‘১০ হাজার বছর’। অর্থাৎ সাম্রাজ্যের দীর্ঘায়ু কামনা করেই শব্দটি উচ্চারণ করা হয়ে থাকে।

এর আগে গত পয়লা মে সম্রাট নারুহিতোর বাবা আকিহিতো বার্ধক্যজনিত কারণে সিংহাসন পরিত্যাগ করেন। মূলত সে দিনই সিংহাসনে নতুন সম্রাট হিসেবে আরোহণ করেন নারুহিতো। বিগত দুই শতকে সম্রাট আকিহিতোই প্রথম সম্রাট যে কিনা স্বেচ্ছায় নিজের সিংহাসন পরিত্যাগ করেছেন।

সম্রাটের অভিষেক অনুষ্ঠানে দেশটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে জাপানি প্রধানমন্ত্রী, সুপ্রিমকোর্টের বিচারকমণ্ডলী এবং পার্লামেন্ট সদস্যরা অংশ নেন। যেখানে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লস, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং চি-শান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়েওন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে থাকছেন পরিবহনমন্ত্রী এলেইন চাও এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

জাপানের রাজ পরিবার। (ছবিসূত্র : দ্য স্যাটেল টাইমস)

বিশ্লেষকদের মতে, সম্রাট নারুহিতোর অভিষেকানুষ্ঠানের জন্য মোট ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক এক হাজার ৬০০ কোটি ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্কিত চারটি অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সম্রাটের প্রাসাদে আয়োজিত সিংহাসন আরোহণ সংক্রান্ত ঘোষণা, মোটরগাড়ি শোভাযাত্রা, সম্রাটের প্রাসাদের আয়োজিত রাজকীয় ভোজসভা এবং প্রধানমন্ত্রীর ভোজসভা।

যদিও গত সপ্তাহে জাপানের ওপর আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘হাগিবিসের’ কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মোট ৩০ মিনিটের মোটরগাড়ি শোভাযাত্রার অনুষ্ঠানটি বিলম্বিত করে আগামী ১০ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

মূলত এর মাধ্যমে দেশটির ১২৬তম সম্রাট হলেন আকিহিতোর বড় পুত্র যুবরাজ নারুহিতো। ৫৯ বছর বয়সী এই সম্রাট এরই মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তাছাড়া তিনি ইতোমধ্যে বিশ্ববিখ্যাত টেমস নদীর ওপর একটি গবেষণাপত্রও লিখেছেন।

১৯৮৬ সালে দেশটির একটি চায়ের আসরে যুবরাজ্ঞী মাসাকো ওয়াডার সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পরে ১৯৯৩ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকো ২০০১ সালে জন্ম গ্রহণ করেন।

যদিও দেশটির বর্তমান আইন অনুযায়ী কখনোই কোনো নারী এই সিংহাসনে বসতে পারবেন না। যে কারণে প্রিন্সেস আইকো এই আসনটির উত্তরাধিকারী নন। যে কারণে যুবরাজ নারুহিতোর পর উত্তরাধিকারী তালিকায় রয়েছেন তার ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো। আর এর পরে অবস্থানে আছেন ফুমিহিতোর সন্তান মাত্র ১২ বছর বয়সী হিসাহিতোর নাম।

এর আগে ২০১৬ সালে ৮৫ বছর বয়সী সম্রাট আকিহিতো ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। তাছাড়া স্বাস্থ্য আর আগের মতো ভালো নেই। এ কারণে ভয় হচ্ছে যে, আমি ঠিকভাবে এই মহান দায়িত্ব পালন করতে পারব কিনা। তাই আমি আগেভাগেই এই সিংহাসন ছাড়ার পরিকল্পনা করছি।’

পরবর্তী সময়ে সম্রাটের নির্দেশেই দেশটিতে একটি জনমত জরিপ করা হয়। যেখানে দেখা যায়, মূলত স্বাস্থ্যের কারণে সিংহাসন ত্যাগের বিষয়ে জাপান সম্রাটের ইচ্ছাকে সরাসরি সমর্থন করেছেন দেশটির বেশিরভাগ নাগরিক। পরে যদিও দেশটির পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করা হয়। যেখানে উল্লেখ করা ছিল যে তিনি খুব শিগগিরই এই সিংহাসন ত্যাগ করতে পারেন। আর এতে স্থলাভিষিক্ত করা হবে তারই বড় সন্তান যুবরাজ নারুহিতোকে।

জাপানে যখনই সম্রাট পরিবর্তন হয়, মূলত তখনই তার হাত ধরে এক নতুন যুগের সূচনা করা হয়। যেখানে প্রত্যেক সম্রাটের রাজত্ব আমলের একটি করে নাম রয়েছে; যেটিকে মূলত খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন :- জাপানের সম্রাট নারুহিতোর অভিষেক হচ্ছে আজ

সদ্য ক্ষমতা গ্রহণ করা সম্রাট নারুহিতোর রাজত্বের নাম এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। যা নির্ধারণ করা হয়েছে ‘রেইওয়া’ নামে। যাকে বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘শৃঙ্খলা এবং শান্তি’। এবারই প্রথমবারের মতো দেশটির একটি প্রাচীন কবিতা থেকে এই নামটি নেওয়া হয়। এর আগে সাবেক সম্রাট আকিহিতোর যুগের নাম রাখা হয়েছিল ‘হেইসেই’, যার অর্থ ‘শান্তি অর্জন’।

ওডি/কেএইচআর

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড