• মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সিরিয়ায় সেনা অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে উদ্বিগ্ন নয় তুরস্ক

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৩১
সিরিয়ার তুর্কি অভিযান
সিরিয়ার শহরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে তুর্কি সেনারা। (ছবিসূত্র : এমএসএন)

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুরস্কের চলমান অভিযানে নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। শনিবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত অন্তত পাঁচ শতাধিক কুর্দি সেনাকে ‘নিউট্রালাইজ’ করেছে তুরস্ক। কোনো সন্ত্রাসীকে হত্যা, আটক বা কোনো সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করলে তুরস্ক নিউট্রালাইজ শব্দটি ব্যবহার করে। তুর্কি জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অঞ্চলটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে তুর্কি হামলা বন্ধ না হলে দেশটির ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৬ অক্টোবর) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ নুচিন এসব হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তুর্কি সেনাদের আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হলে খুব শিগগিরই ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের এসব হুমকি-ধামকিতে উদ্বিগ্ন নয় তুরস্ক বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগান।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের দাবি, সিরিয়ার সঙ্গে থাকা আমাদের সীমান্ত এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এখন পর্যন্ত অনেক চাপই এসেছে। যদিও আঙ্কারা এসব নিষেধাজ্ঞার ভয়ে উদ্বিগ্ন নয়। তুরস্ক এর কোনোটারই পরোয়া করে না।’

এ দিকে সমালোচকদের ভাষায়, সংঘাত শুরুর পরপরই অঞ্চলটি থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মূলত এর মাধ্যমে তিনি দিয়ে তুরস্ককে হামলার ‘সবুজ সঙ্কেত’ দিয়েছে। যদিও এরপর থেকে দেশ-বিদেশে তাকে ব্যাপকভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

এর আগে গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা থেকে সিরীয় কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের সেনা অভিযান শুরু করে তুরস্ক। আঙ্কারার দাবি, নিজ দেশের সীমান্তের সিরীয় অংশে একটি সেফ জোন নির্মাণের জন্যই তারা এই কার্যক্রমটি চালাচ্ছে। যার মাধ্যমে সেখানে প্রায় ২০ লক্ষাধিক শরণার্থীকে পুনর্বাসন করা হবে। যদিও অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণাটি দেওয়ার পর পরই তুরস্ক তাদের অভিযান শুরু করে।

তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরান। তাছাড়া তুরস্কের এই আগ্রাসন ভালোভাবে নিচ্ছে না ভারত, ইতালির মতো বহু দেশ। এমনকি সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। তবে এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থন কিন্তু তুর্কি প্রশাসনের প্রতিই আছে।

এত কিছুর পরও এরদোগান কিন্তু একরোখা। নিজের টুইট পোস্টে ‘পিস স্প্রিং’ (শান্তির বসন্ত) আনার কথা উল্লেখ করে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করেছেন তিনি।

কোনো দেশের পরোয়া না করে গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) উল্টো ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) হুমকি দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘তুরস্কের এই অভিযানকে আগ্রাসনের তকমা দেওয়া হলে আঙ্কারা থেকে অবিলম্বে ৩৫ লক্ষাধিক শরণার্থীকে সরাসরি ইউরোপেই ফেরত পাঠানো হবে।’

অপর দিকে সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তুর্কি হামলা অব্যাহত থাকায় দেশটির ওপর অচিরেই এক বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এমনকি ন্যাটো বাহিনীতে তুরস্কের সদস্য পদ থাকা নিয়েও এবার আলোচনা শুরু হয়েছে বলে এরই মধ্যে দাবি করেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স।

আরও পড়ুন :- সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান আমাদের বিষয় নয়, দাবি ট্রাম্পের

এর আগে গত বুধবার (৯ অক্টোবর) সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর ওপর সশস্ত্র অভিযান শুরু করে তুরস্ক। যা এখনো অব্যাহত আছে।

ওডি/কেএইচআর

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড