• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কৃষকের ছেলে থেকে প্রধানমন্ত্রী, তারপর শান্তিতে নোবেল জয়

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৫৭
ইথিওপিয়া
এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ (ছবিসূত্র : এনডিটিভি)

এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নাম ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। নোবেল কর্তৃপক্ষ এক টুইট বার্তায় শান্তি অর্জনে উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য আবি আহমেদকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।

আবি আহমেদের জন্ম ইথিওপিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেশাসায় এক মুসলমান বাবা ও খ্রিষ্টান মায়ের ঘরে। ছোটবেলায় বাবাকে দেখেছেন কৃষিকাজ করতে। বিদ্যুৎ ও পানির স্বল্পতা ছিল তাদের বাড়িতে। তাকে রাত কাটাতে হতো ফ্লোরে ঘুমিয়ে।

নিজের বড় হওয়ার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে গত মাসে একটি রেডিওতে দেয়া সাক্ষাতকারে আবি আহমেদ বলেন, ‘বাড়ির আশেপাশে পানির ব্যবস্থা ছিল না। দূরের নদী থেকে আমাদের পানি বয়ে নিয়ে আসতে হতো। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও পাকা (পিচ) রাস্তা দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার।’

রাজনীতিতে আবি আহমেদের উত্থান ঘটে ক্ষমতাসীন জোট ইথিওপিয়ান পিপলস রিভ্যুলিউশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) গঠনের মধ্যে দিয়ে। কিশোর বয়েসে সামরিকবাহিনীর একজন রেডিও অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবি পেয়েছিলেন। ইথিওপিয়ার সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ছিলেন তিনি।

গরিব কৃষকের সন্তান, গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে একসময় আফ্রিকার দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির সংস্কারের নেপথ্য নায়কে পরিণত হন আবি আহমেদ। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের কেবল কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েই থেমে থাকেননি, তাদের ওপর চালানো রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নৃশংসতার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। এছাড়া তার পূর্বসূরীরা যাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে দেশ ছাড়া করেছিল, সেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের নিজ দেশে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদ ২০১৮ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই দেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রিত সমাজ ব্যবস্থায় তিনি বড় ধরনের একটা নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- ক্ষমতা গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানেই প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশকের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তি চুক্তি সই করতে সমর্থ হন আবি আহমেদ। এজন্য তাকে এক অবিশ্বাস্য নেতা হিসেবে আখ্যায়িত দিয়েছেন ইথিওপিয়ার জনগণ।

ওডি/এসসা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড