• মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন আজ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৩৫
মহাত্মা গান্ধী
ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী। (ছবিসূত্র : দ্য ইন্ডিয়া টুডে)

যুগে যুগে কিছু মানুষ আলোর মশাল নিয়ে আসেন। নতুন করে মানুষকে ভাবতে শেখান, অধিকার আদায়ে সচেতন হতে শেখান। মানুষকে স্বাধীনতার স্বাদ নিতে শেখান। এমন একজন মানুষ কিংবদন্তি মহাত্মা গান্ধী। যিনি তার জীবনের সবটুকু দিয়ে মানব কল্যাণের বাণী রচনা করেছেন। 

গান্ধী অহিংস মতবাদ ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রবক্তা। মহাত্মা তার উপাধি। মহান আত্মা যার। উপাধিটি দিয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের দিকপাল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। 

১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর পোরবন্দরের হিন্দু মোধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন পোরবন্দরের দেওয়ান (প্রধানমন্ত্রী)। মা পুতলিবা করমচাঁদের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন। পুতলিবা প্রণামী বৈষ্ণব গোষ্ঠীর ছিলেন। করমচাঁদের প্রথম দুই স্ত্রীর প্রত্যেকেই একটি করে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। ধার্মিক মায়ের সঙ্গে এবং গুজরাটের জৈন প্রভাবিত পরিবেশে থেকে গান্ধী ছোটবেলা থেকেই জীবের প্রতি অহিংসা, নিরামিষ ভোজন, আত্মশুদ্ধির জন্য উপবাসে থাকা, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ইত্যাদি বিষয় শিখতে শুরু করেন। তিনি জন্মেছিলেন হিন্দু বৈশ্য গোত্রে যা ছিল একটি ব্যবসায়ী গোত্র। 

গান্ধীকে কিশোর বয়সে বিয়ে করানো হয়। ১৮৮৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সের গান্ধীর সঙ্গে ১৪ বছর বয়সী কাস্তবাইকে বিয়ের বন্ধনে বেঁধে দেওয়া হয়। ছোট বেলায় গেঁথে দেওয়া সে বাঁধন গান্ধী সারাজীবন অটুট রেখেছিলেন। গান্ধীর সকল আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা দাত্রীও ছিলেন কাস্তবাই। যদিও ৩৭ বছর বয়সে গান্ধী নারী সংসর্গ পরিত্যাগ করেন। গান্ধীর বৈবাহিক জীবনে ৪ ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

মহাত্মা গান্ধী তার ছোটবেলায় পোরবন্দর ও রাজকোটের ছাত্রজীবনে মাঝারি মানের ছাত্র ছিলেন। কোনো রকমে গুজরাটের ভবনগরের সামালদাস কলেজ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এমনকি কলেজেও সুখী ছিলেন না, কেন না তার পরিবারের ইচ্ছা ছিল ব্যারিস্টারি পড়ানো।

গান্ধী পরিবার

স্ত্রী কাস্তবাইয়ের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী। (ছবিসূত্র : দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন)

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৮৮৮ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে যান তিনি। সেখানে ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডনে ভর্তি হওয়ার পর তার জীবন যাপন ছিল ভারতে থাকতে মায়ের কাছে করা শপথ প্রভাবিত। জৈন সন্ন্যাসী বেচার্জীর সামনে তিনি তার মায়ের কাছে শপথ করেছিলেন যে তিনি মাংস, মদ এবং উচ্ছৃঙ্খলতা ত্যাগ করার হিন্দু নৈতিক উপদেশ পালন করবেন।

যদিও তিনি ইংরেজ আদব কায়দা পরীক্ষামূলকভাবে গ্রহণ করেছিলেন; যেমন নাচের শিক্ষা, কিন্তু তিনি তার বাড়িওয়ালীর দেওয়া ভেড়ার মাংস এবং বাঁধাকপি খেতেন না। তিনি লন্ডনের গুটি কয়েক নিরামিষভোজী খাবারের দোকানের একটিতে নিয়মিত যেতেন। শুধু তার মায়ের কথায় সাধারণ নিরামিষভোজী জীবন যাপন না করে তিনি এ বিষয়ে পড়াশোনা করে একান্ত আগ্রহী হয়ে নিরামিষভোজন গ্রহণ করেন। নিরামিষভোজী সংঘে যোগ দেন এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন, এ সংস্থার একটি স্থানীয় শাখাও প্রচলন করেন। তার এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেকভাবে কাজে লাগে।

গোটা বিশ্বে একমাত্র মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন যিনি নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে ৫ বার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯ এবং ১৯৪৭ সালে মনোনয়ন দিলেও ১৯৪৮ সালে শান্তিতে নোবেল তারই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বছর ৩০ জানুয়ারি আততায়ীর গুলিতে মৃত্যু হওয়ায় গান্ধীকে পুরস্কার দিয়ে খাটো করা যায়নি।

যে দেশের বিরুদ্ধে গান্ধী সারাজীবন যুদ্ধ করেছিলেন সেই গ্রেট ব্রিটেন তার মৃত্যুর ২১ বছর পর তার সম্মানার্থে স্ট্যাম্পে গান্ধীর ছবি ছাপায়।

গান্ধীর নামে ভারতে ৫৩টি বড় সড়ক এবং সারা পৃথিবী জুড়ে মোট ৪৮টি জনপদের নামকরণ করা হয়। শুধুমাত্র এই নয়, ‘Time Magazine’ এর ‘Man of the Year 1930’ হয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী।

দেশের মানুষের জন্য যারা জীবনের সব অর্জন উৎসর্গ করেন বরাবর তাদের বলি হতে হয় নষ্টদের হাতে। মহাত্মা গান্ধী নিজেও এর হাত থেকে মুক্তি পাননি। 

১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে পথসভা করার সময় নাথুরাম গডসে নামক একজন হিন্দু মৌলবাদী তাকে গুলি করে হত্যা করে। 

গান্ধীর ইচ্ছানুযায়ী তার দেহভস্ম বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান নদী যেমন— নীল নদ, ভোলগা, টেমস প্রভৃতিতে ভাসানো হয়। এরপর তার দেহভস্ম সেলফ রিয়ালাইজেশন ফেলোশিপ লেক স্রাইনের মহাত্মা গান্ধী বিশ্বশান্তি সৌধে একটি হাজার বছরের পুরনো চৈনিক পাথরের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। 

মহাত্মা গান্ধীর উল্লেখযোগ্য কিছু বাণী:-

- একজন মানুষ তার চিন্তার দ্বারা পরিচালিত, তার ভাবনার মতোই তার ভবিষ্যতের চেহারা হয়।

- জীবন নশ্বর, তাকে অমর করতে শেখো।

- শক্তি দেহের ক্ষমতা থেকে আসে না, আসে মনের বলের মাধ্যমে।

- দুর্বল মানুষ ক্ষমাশীল হতে পারে না, ক্ষমা শক্তিমানের ধর্ম।

- নিজেকে পাল্টাও, নিজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

- চোখের বদলে চোখ গোটা বিশ্বকে অন্ধ করে দেবে।

- প্রতিদিন কিছু শেখো, প্রতিদিন পরিণত হও।

- কয়েক টন ব্যক্তিত্বের থেকে এক আউন্স ধৈর্য অনেক দামি।

- লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টার মধ্যে সম্মান আছে, শুধু লক্ষ্যে পৌঁছানোর মধ্যে নয়।

সূত্র : ইন্টারনেট

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড