• শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধলে সৌদি-আমিরাত ধ্বংস হবে: হিজবুল্লাহ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:২৯
হাসান নাসরুল্লাহ
হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ। (ছবিসূত্র : অয়াই নেট নিউজ)

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে মুসলিম অধ্যুষিত সৌদি আরব এবং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এমনটাই দাবি করেছেন লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেছেন, 'ইয়েমেনের নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিষয়ে যারা এখনো নীরব, সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার পর তাদের সরব হয়ে ওঠার ঘটনা উদ্বেগজনক। এতেই বোঝা যাচ্ছে তাদের কাছে রক্তের চেয়ে তেলের মূল্যই অনেক বেশি।' 

বিশ্লেষকদের মতে, আরামকোর দুই তেল স্থাপনায় ইয়েমেনি হামলার পর বিষয়টির সমালোচনা করে পশ্চিমা দেশগুলো যেসব বক্তব্য দিয়েছে; এবার তার সমালোচনা করেই নাসরুল্লাহ এমন মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে ইরানি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, 'ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।'

টেলিভিশন ভাষণে সৌদি-আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরান বিরোধী যুদ্ধের পাঁয়তারা করার অভিযোগ তুলে হাসান নাসরুল্লাহ বলেছিলেন, 'শিয়াপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের সামান্য একটি হামলায় সৌদি তেল স্থাপনার যে বিশাল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে; তা থেকে কেবল এটাই অনুমান করা যায় যে, ইরান হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি ঠিক কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।' তার ভাষায়, 'তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।'

সৌদি জোটের আগ্রাসনে হতাহত সকল ইয়েমেনির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে হিজবুল্লাহ মহাসচিব আরও বলেছেন, 'দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত ইয়েমেনের যেসব নারী ও শিশু চলমান সৌদি আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন আমরা তাদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি।' 

নাসরুল্লাহ বলেন, 'এখন যারা সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, তারা কেন ইয়েমেনি নারী ও শিশু হত্যার সময় নীরব ছিল। বিশ্ববাসী আজ তা-ই জানতে চায়।'

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার 'আরামকো কোম্পানি'র দুটি বৃহৎ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীরা। মূলত এ ঘটনায় এরই মধ্যে একের পর এক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও এর জন্য দেশের সার্বিক তেল ও গ্যাস উৎপাদন অনেকটাই কমে গেছে। মূলত সেই ঘটনার জেরে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং বাড়তি সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ দিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে বলে দাবি করে এরই মধ্যে বেশ কিছু স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হামলার পর হুথি বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানকেই দায়ী করে আসছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগটি ইতোমধ্যে অস্বীকার করেছে তেহরান।

গত শুক্রবার ওভাল অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন বলেছেন, 'তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি হচ্ছে ইরানের অর্থের সর্বশেষ উৎস। যা ভীষণ বড়। এবার আমরা দেশটির অর্থের সকল উৎসকেই বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছি।'

অপর দিকে ২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে অপসারণের মাধ্যমে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা। পরবর্তীতে সৌদির রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় মিত্রদের নিয়ে 'অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম' নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি প্রশাসন।

আরও পড়ুন :- আমরা খুব সহজেই ইরান দখল করতে পারি : ট্রাম্প

সৌদি সামরিক জোটের সেই অভিযানে ইয়েমেনে এখন পর্যন্ত নারী-শিশুসহ অন্তত ১০ হাজারের অধিক বেসামরিকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা এই দেশটিতে যে সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড