• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যে কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে পারছেন না রুহানি!

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৮
হাসান রুহানি
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। (ছবিসূত্র : প্রেস টিভি)

আসছে সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম সম্মেলনে যোগদানে বিরত থাকতে বাধ্য হতে পারেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও তার প্রতিনিধিদল। কেননা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কাররই ভিসা ইস্যু করা হয়নি বলে দাবি তেহরানের।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'ইরনা' জানায়, জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গত সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রুহানি ও তার প্রতিনিধিদের নিউ ইয়র্ক যাওয়ার কথা ছিল। যদিও এখন পর্যন্ত তা আর হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। যে কারণে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি ভিসা ইস্যু করা না হয়, তাহলে বাধ্য হয়েই সফরটি সম্ভবত বাতিল করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান থেকে পাঠানো প্রতিনিধিদলে শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফও রয়েছেন। তবে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালেই তার নিউ ইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা ছিল। যদিও গত ৩১ জুলাই ইরানি এ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

এ দিকে ভিসা ইস্যু না করার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো মন্তব্য করতে এরই মধ্যে অস্বীকৃতি অস্বীকার জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। যদিও সেক্ষেত্রে ইরানিদের ভিসা অস্বীকার করা উচিত বলেই তিনি আভাস দিয়েছেন।

বর্তমানে সৌদি সফররত মাইক পম্পেও সাংবাদিকদের বলেন, 'ভিসা গ্রহণ কিংবা বাতিলের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্যই করতে পারব না। কেননা যদি আপনি একটি বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তা হলে বিষয়টি নিয়ে আমরা কিছুই করতে পারব না।'

তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা বিষয়ক একটি বৈঠকে উপস্থিত হতে আদৌ তাদের অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরও ভাবতে হবে।'

এর আগে গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার 'আরামকো কোম্পানি'র দুটি বৃহৎ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হুথি বিদ্রোহীরা। মূলত এ ঘটনায় এরই মধ্যে ইরানকে হামলার জন্য দায়ী করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

যার অংশ হিসেবে তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আলোচনায় করতে বর্তমানে রিয়াদে অবস্থান করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। যেখানে স্পর্শকাতর পারস্য উপসাগরীয় জলসীমায় কয়েক দফা ট্যাংকারে হামলাসহ শনিবার সৌদি তেল স্থাপনায় বিস্ফোরণের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

অপর দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর এ মন্তব্য সত্ত্বেও জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আশাবাদ জানিয়েছেন যে, বিশ্ব সংস্থাটির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে খুব শিগগিরই ইরানি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেওয়া হবে।

সংস্থাটির মহাসচিব বলেন, 'ইরানি প্রতিনিধিদলসহ সব অস্বাভাবিক ভিসা সংকট নিয়ে আমরা এরই মধ্যে আয়োজক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি, এতে অতি দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।'

এর আগে ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কমানোর জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে বিশ্বের ক্ষমতাধর ছয় দেশের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। যেখানে শর্ত ছিল ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনবে, যার বিনিময়ে তাদের উপর আরোপিত সকল অবরোধ ক্রমশ তুলে নেওয়া হবে। এতে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি।

আরও পড়ুন :- তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে রিয়াদের পথে পম্পেও

যদিও পরবর্তীতে গত বছরের ৮ মে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে একে একটি অকার্যকর চুক্তি বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের তেল বিক্রিতে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন; যা এখনও অব্যাহত আছে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড