• বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

মহাকাশে ইসরোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নাসা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৭
ইসরো-নাসার লোগো
ইসরো এবং নাসার লোগো। (ছবিসূত্র : ইন্ডিয়া টুডে)

ভারতের সদ্য সমাপ্ত চন্দ্রাভিযান শতভাগ সফল না হলেও দেশটির সকল প্রচেষ্টাই এবার নজরে এসেছে আন্তর্জাতিক মহলের। যার অংশ হিসেবে মহাকাশে আসন্ন অভিযানগুলোয় ইতোমধ্যে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা)। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক টুইট বার্তায় সংস্থাটি নিজেদের এমন এমন আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানায় ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা 'রয়টার্স'।

নাসার করা টুইট পোস্টে বলা হয়, 'মহাকাশ ভীষণ চ্যালঞ্জিং স্থান। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ইসরোর 'চন্দ্রযান-২' অবতরণ প্রচেষ্টার আমরা ব্যাপক প্রশংসা করছি। এক্ষেত্রে আপনারা আমাদের উৎসাহিত করেছেন। আশা করছি, ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণায় আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারব।'

যদিও এই চন্দ্রাভিযানের আগে ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, 'চন্দ্রযান-২' এর অভিযানটি অত্যন্ত জটিল। কেননা এটি আগের সব অভিযানগুলোর তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান চালানো হয়নি। তাই সেখানেই এবার কাজ করার কথা ছিল ভারতীয় চন্দ্রযান বিক্রমের।

ইসরো বিজ্ঞানীদের মতে, শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেই 'চন্দ্রযান-২' এর ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান কে শিবন গণমাধ্যম 'এনডিটিভি'কে বলেন, 'রাত ১.৩৮ মিনিটে আমাদের অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। চন্দ্রযান চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। মূলত এর পরপরই রাত ২টা ২০ মিনিটে যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যা এখনো স্থাপন করা যায়নি।'

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের মাধ্যমে প্রথম দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল ভারতের। যদিও শেষমেশ মিশনকে আর সফলের বার্তা দিতে পারেনি ইসরোর বিজ্ঞানীরা।

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মতে, ইসরো চাঁদে নতুন অভিযানের জন্য সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। যেখানে অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছিল 'চন্দ্রযান-২' নামে নতুন স্যাটেলাইট। এবার যানটি চাঁদে অবতরণ করতে পারলে এটি হতো বিশ্বের চতুর্থ কোনো দেশের সফলভাবে চন্দ্র অভিযান। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফলভাবে নিজেদের অভিযানটি সম্পন্ন করেছিল।

ইসরো জানায়, চাঁদ থেকে পানি, খনিজ ও পাথর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ১৫ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এই 'বিক্রম' নামে যানটিকে। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই এর ল্যান্ডর থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল ভীষণ ছোট একটি রোভার 'প্রজ্ঞান'। যার ওজন মাত্র ২০ কিলোগ্রাম। আর 'চন্দ্রযান-২' এর সার্বিক ওজন ৩ হাজার ৮৫০ কিলোগ্রাম। ল্যান্ডরটি নেমে আসার সময় 'চন্দ্রযান-২' এর অরবিটারটি চাঁদের পিঠ (লুনার সারফেস) থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার ওপরে ছিল।

আরও পড়ুন :- তীরে এসে তরী ডুবাল ভারতের ‘চন্দ্রযান-২’

এর আগে ভারতের প্রথম চন্দ্রাভিযান হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন চাঁদের কক্ষপথে গিয়েছিল 'চন্দ্রযান-১'। চাঁদে পানির অন্যতম উপাদান হাইড্রক্সিল আয়নের খোঁজ দিয়েছিল যানটি।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড