• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তীরে এসে তরী ডুবাল ভারতের ‘চন্দ্রযান-২’

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৮
'চন্দ্রযান- ২'
চাঁদের মাটিতে অবতরণের অপেক্ষায় ভারতের 'চন্দ্রযান- ২'। (ছবিসূত্র : দ্য হিলস টাইমস)

সমস্ত ভারতবাসীর পাশাপাশি অধীর আগ্রহে চোখ মেলে গভীর রাত পর্যন্ত বসে ছিল গোটা বিশ্ব। মধ্যরাতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও 'বিক্রমে'র চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ দেখতে বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ইসরোর সদর দপ্তরে হাজির হন। যদিও চাঁদের মাটিতে নামার কয়েক মুহূর্ত আগেই ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় 'চন্দ্রযান- ২' এর।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এখনো 'বিক্রমে'র সঙ্গে কোনো ধরনের সংযোগ স্থাপন করতে পারেননি ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বিজ্ঞানীদের মতে, শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেই 'চন্দ্রযান-২' এর ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন গণমাধ্যম 'এনডিটিভি'কে বলেন, 'রাত ১.৩৮ মিনিটে আমাদের অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। চন্দ্রযান চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। মূলত এর পরপরই রাত ২টা ২০ মিনিটে যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যা এখনো স্থাপন করা যায়নি।'

যদিও এরই মধ্যে মুষড়ে পড়েছে ইসরোর বিজ্ঞানীরা। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজ্ঞানীদের বলেছেন, 'এটা জীবনের এক উত্থান ও পতন। এটা আমাদের জন্য কম কৃতিত্ব নয়। আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আপনারা সবাই দেশ, বিজ্ঞান ও মানুষের জন্য দারুণ কাজ করেছেন। সব রকমভাবে আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যান।'

ইসরোর মিশন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, 'আগামী দিনেও ভারত মহাকাশে 'বিক্রম' দেখবে। আমরা ভবিষ্যতে আরও অভিযান করব। আমি আপনাদের পাশে, হিম্মত রাখুন। আপনাদের সাহসে দেশ আরও আনন্দ করবে।'

চাঁদের মাটি থেকে পৃথিবীর দৃশ্য। (ছবিসূত্র : নাসা)

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের মাধ্যমে প্রথম দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল ভারতের। যদিও শেষমেশ মিশনকে আর সফলের বার্তা দিতে পারেনি ইসরোর বিজ্ঞানীরা।

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মতে, ইসরো চাঁদে নতুন অভিযানের জন্য সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। যেখানে অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছিল 'চন্দ্রযান-২' নামে নতুন স্যাটেলাইট। এবার যানটি চাঁদে অবতরণ করতে পারলে এটি হতো বিশ্বের চতুর্থ কোনো দেশের সফলভাবে চন্দ্র অভিযান। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফলভাবে নিজেদের অভিযানটি সম্পন্ন করেছিল।

ইসরো জানায়, চাঁদ থেকে পানি, খনিজ ও পাথর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ১৫ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এই 'বিক্রম' নামে যানটিকে। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই এর ল্যান্ডর থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল ভীষণ ছোট একটি রোভার 'প্রজ্ঞান'। যার ওজন মাত্র ২০ কিলোগ্রাম। আর 'চন্দ্রযান-২' এর সার্বিক ওজন ৩ হাজার ৮৫০ কিলোগ্রাম। ল্যান্ডরটি নেমে আসার সময় 'চন্দ্রযান-২' এর অরবিটারটি চাঁদের পিঠ (লুনার সারফেস) থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার ওপরে ছিল।

আরও পড়ুন :- মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি পাঠিয়েছে 'চন্দ্রযান-২'

এর আগে ভারতের প্রথম চন্দ্রাভিযান হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন চাঁদের কক্ষপথে গিয়েছিল 'চন্দ্রযান-১'। চাঁদে পানির অন্যতম উপাদান হাইড্রক্সিল আয়নের খোঁজ দিয়েছিল যানটি।

ওডি/কেএইচআর

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড