• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

রোহিঙ্গা নির্যাতনে দোষীদের বিচারের চাপ অব্যাহত আছে : যুক্তরাষ্ট্র

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৫ আগস্ট ২০১৯, ০৯:২৭
রোহিঙ্গা শরণার্থী
কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী। (ছবিসূত্র : দ্য জাকার্তা পোস্ট)

মিয়ানমারের বিতর্কিত রাখাইন অঞ্চলে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের নিধনের দুই বছর পর আবারও নির্যাতনে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে নিরীহ বেসামরিকদের ওপর নির্যাতনকারীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশটির রাখাইন রাজ্যের বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিচ্ছিন্ন হামলা হয়। মূলত এর জেরে অঞ্চলটিতে সন্ত্রাসী দমনের নামে পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামো বদ্ধ সহিংসতা জোরালো অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। 

এ সময় হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো বেসামরিক পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এদের মধ্যে অনেকে আবার প্রতিবেশী দেশ ভারতেও আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়ে আছে। 

পরবর্তীতে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমারের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার হরণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয় জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দলটি দাবি করে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারীরা ধারাবাহিকভাবে দেশটির সেনা সদস্যদের দ্বারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যে কারণে ঘটনা তদন্তে কক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থী শিবিরে গিয়ে দলটির সদস্যরা সেই সব ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ঘটনা সম্পর্কে জানতে সক্ষম হন।

এ দিকে এই রোহিঙ্গা নিধনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সংশ্লিষ্টদের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান রেখে এক রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা সরবরাহের আহ্বান জানায়। 

মর্গান অর্তেগাস

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মর্গান অর্তেগাস।  (ছবিসূত্র : ইউএস টুডে)

দপ্তরের মুখপাত্র মর্গান অর্তেগাস তার বিবৃতিতে বলেছেন, 'মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভীষণ দায়বদ্ধতার অভাব এবং তাদের ওপর বেসামরিক নজরদারির এখতিয়ার না থাকায় এখনো রাখাইনে নিপীড়ন অব্যাহত আছে। আমাদের ধারনা একই ঘটনা কাচিন, শান কিংবা মিয়ানমারের অন্যান্য সব রাজ্যেরও।'

একসঙ্গে প্রায় সারে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে মার্কিন এই মুখপাত্র বলেন, 'অতীতের মতো অন্যান্যদেরও এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ২০১৭ সালের সহিংসতা পর থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় প্রায় ৫৪ কোটি ২০ লাখের অধিক ডলার এরই মধ্যে ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র।'

অর্তেগাস তার বিবৃতিতে আরও বলেন, 'মিয়ানমারকে একটি শক্তি, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে দোষীদের অবশ্যই বিচার ও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা অপরিহার্য। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছি।'

অপর দিকে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, তখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার উদ্দেশ্যে অভিযানটি চালানো হয়েছিল। যে কারণে রাখাইনে এখনো তাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

আরও পড়ুন :- রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘকে ব্যর্থ বলল বাংলাদেশ

যদিও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে আরোপিত অর্থনৈতিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এখনো অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবির প্রতি সহমত জানিয়ে বিষয়টিকে কখনোই গণহত্যা বলে মন্তব্য করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন থেকে এমনভাবে বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হলে তা দ্বারা মিয়ানমার সরকারের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক চাপের মাত্রা বৃদ্ধি পেত।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড