• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

শিয়াদের বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৬৩, আহত ১৮২

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ আগস্ট ২০১৯, ১২:৪০
আফগানিস্তান
আড়ম্বরপূর্ণ বিয়েবাড়ি পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে। ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত ওয়াশিংটন এবং তালিবানরা যখন আফগান ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস করার একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তখনই কাবুলে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানকে মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত করা হয় আত্মঘাতী বোমা হামলায়। পশ্চিম কাবুলে শনিবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে বিয়েটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ৬৩ জন নিহত এবং ১৮২ জন আহত হয়েছে বলে রবিবার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

এই হামলায় কোনোভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি তালিবানরা অস্বীকার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নসরত রহিমি মৃত্যুর সংখ্যা জানিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাবুলের সর্বোচ্চ। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরা রয়েছেন বলে জানান তিনি।

আফগান বিয়ে সাধারণত এপিক এবং প্রাণবন্ত হয়, যেখানে শত শত বা প্রায়শই হাজারো অতিথি বিশাল হলগুলোর ভেতরে উৎসব উদযাপন করে। পুরুষদেরকে সাধারণত নারী ও শিশুদের থেকে আলাদা করা হয়। আর এদের দুটো বিচ্ছিন্ন বিভাগে রাখা হয়।

বিস্ফোরণ পরবর্তী হলের অভ্যন্তরের চিত্রগুলো বর্ণনাতীত : মাটিতে রক্তাক্ত দেহ, ছেঁড়া জামা-কাপড়, টুপি, স্যান্ডেল এবং পানির বোতলগুলো পড়ে থাকার অসহনীয় দৃশ্য। এটি একটি শিয়া বিবাহ ছিল, তাই এখানে শিয়া জমায়েত হবে বলে আগে থেকেই ধারণা ছিল। সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে শিয়া হাজারাদের প্রায়শই সুন্নিদের হামলার শিকার হতে হয়। 

কাবুলের সক্রিয় জঙ্গি আইএস গ্রুপ, তালিবান বা সুন্নি মুসলিম জঙ্গিরাই সাধারণত এই হামলা পরিচালনা করে থাকে, তবে তত্ক্ষণাৎ কেউই শনিবারের হামলার দায়বদ্ধতা নেয়নি। বিয়েতে আসা মোহাম্মদ ফরহাজ ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান যে, তিনি যখন নারীদের বিভাগে ছিলেন তখন পুরুষদের বিভাগ থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান।

ফরহাজ বলেন, 'সবাই চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে ছুটে আসছিল। হলটি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য ধোঁয়ায় ভরা ছিল, পুরুষদের বিভাগের প্রায় সবাই মারা গেছেন নয়তো আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের দুই ঘণ্টা পরেও হল থেকে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।'

ছবি : সংগৃহীত 

হলটির এক ওয়েটার সৈয়দ আঘা শাহ বিবিসিকে বলেন, 'বিস্ফোরণের পর সবাই দৌড়াচ্ছিল। অনেক ওয়েটার নিহত হয়, অনেকে আহত হয়।' 

আফগান রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানির মুখপাত্র সেদিক সিদ্দিকি একটি টুইটার পোস্টে জানান, 'কাবুলের একটি বিয়ের হলের অভ্যন্তরে আত্মঘাতী হামলার খবর শুনে বিধ্বস্ত। আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে এ এক জঘন্য অপরাধ; কীভাবে একজন মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে একটি বিয়ের অভ্যন্তরে গিয়ে (নিজেকে) উড়িয়ে দিতে বলা সম্ভব?!!'

'এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিন্দার বাইরে' বলে জানায় আফগানিস্তানের ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন। আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেছেন, 'এই জঘন্য ও অমানবিক আক্রমণ প্রকৃতপক্ষে মানবতার বিরুদ্ধেই এক অপরাধ।'

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নামের তালিবানের এক মুখপাত্র বার্তার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই হামলার ব্যাপারে 'তীব্র নিন্দা' প্রকাশ করে বলেন, 'নারী-শিশুদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত নির্মম এই হামলার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।'

বিদ্রোহীরা প্রায়শই আফগান বিবাহতে হামলা চালায়। এদের লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া সহজ, কারণ তাদের ঘন ঘন কঠোর সুরক্ষা সতর্কতার অভাব রয়েছে। ১২ জুলাই, পূর্ব আফগানিস্তান প্রদেশ নানগারহারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছিল। এই হামলার দায় আইএস শিকার করেছিল।

প্রায় দুই দশকের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আফগান ভূখণ্ড থেকে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটন-তালিবান একটি শান্তি চুক্তির অপেক্ষো যেন বাড়ছেই। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তালিবানরা বিভিন্ন সুরক্ষা গ্যারান্টিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে। দীর্ঘদিন ধরে আল-কায়েদার আশ্রয় নেওয়া ইসলামপন্থী কট্টরপন্থীরা আফগানিস্তানকে আর কখনো জিহাদিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে দেবে না। 

ছবি : সংগৃহীত 

শুক্তবারের শান্তি আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে উভয় পক্ষে চুক্তি করার দিকে আগানোর কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'আফগানিস্তানে একটি খুব চমৎকার বৈঠক সম্পন্ন হলো। ১৯ বছরের এই যুদ্ধের অবসানে অপর পক্ষের (তালিবান) অনেকে এবং আমরা একটি চুক্তি করার দিকে এগোচ্ছি, যদি সম্ভব হয়।'

তবে, অনেক আফগান এই চুক্তিটি তালিবানদের একরকম ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার শঙ্কা প্রকাশ করেছে। তালিবানরা নারীদের কঠোর বিজয়ী অধিকার হ্রাস করতে পারে বা দেশটিকে আরও পাশবিক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ২০০১ সালে তালিবানদের ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমানেই তারা দেশটির সবচেয়ে বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আছে। 

সূত্র : এপি, এএফপি, বিবিসি, ডন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড