• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিক্ষোভের দশম সপ্তাহে আরও সংঘাতময় হংকং

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৪৪
হংকংয়ে বিক্ষোভ
হংকংয়ে বিক্ষোভরত গণতন্ত্রকামীদের দিকে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছেন পুলিশ সদস্যরা। (ছবিসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান)

এশিয়ার পরাশক্তি চীনা মদদপুষ্ট হংকং প্রশাসনের বিতর্কিত আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রতিবাদে ক্যারি ল্যাম সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামীদের বিক্ষোভ এবার টানা দশম সপ্তাহে পা দিয়েছে। যার অংশ হিসেবে গত রবিবার (১১ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাতে সড়কে আগত আন্দোলনকারীদের দমনে টিয়ার শেলের গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। যদিও এতে বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা পেট্রলবোমা ও পাথর ছুড়ে পুলিশকে যথাযথ জবাব দেয়।

কর্তৃপক্ষের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম 'বিবিসি নিউজ' জানায়, হংকংয়ের সীমান্ত সংলগ্ন ওয়ান চাই জেলায় সড়কে থাকা জনতাকে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে; পাথর ও বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের পাল্টা জবাব দিতে দেখা যায়। এতে ঘটনাস্থলে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরও বেশ কয়েকজন বেসামরিক আহতের খবর পাওয়া যায়।

তাছাড়া জেলার একটি সাবওয়ে স্টেশন এলাকায় পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহত হয়েছে বলে দাবি 'বিবিসি নিউজের'র প্রতিবেদকের। এতে কিছু সংখ্যক পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে থামাতে স্টেশনটির ভেতরে প্রবেশ করলে এই ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ চলন্ত সিঁড়ির মধ্যে নারীসহ উপস্থিত জনতাকে বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা বেশ কিছু রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হয়।

টানা দশ সপ্তাহ যাবত চলমান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে কার্যত অচল হয়ে উঠেছে হংকং। আসামি প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে গত জুনে আন্দোলন শুরু করে দেশটির গণতন্ত্রপন্থিরা। পরবর্তীতে এ দাবির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বিক্ষোভের জেরে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম বিলটিকে 'মৃত' ঘোষণা করেন। যদিও তখন তিনি এটিকে পুরোপুরি বাতিল করেননি।

হংকংয়ে বিক্ষোভ

হংকংয়ে বিক্ষোভরত গণতন্ত্রকামী। (ছবিসূত্র : দ্য ন্যাশনাল পোস্ট)

মূলত এর পরপরই ল্যামের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলনে মাঠে নামেন গণতন্ত্রকামীরা; যা এখনো অব্যাহত আছে। যার অংশ হিসেবে সোমবার সড়ক দখল করা আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভের পাশাপাশি ফের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

এ দিকে চলতি সপ্তাহেই হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের হুশিয়ারি দিয়ে দেশটিতে মোতায়েন চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) কমান্ডার চেন ডাওজিয়াং মাত্র ৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন। যেখানে তিনি বলেছিলে, 'আগামীতে এই অশান্তি চলতে থাকলে শক্ত হাতে বিষয়টির মোকাবিলা করা হবে।'

অপর দিকে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি অ্যাকটিভিস্টরা এরই মধ্যে তাদের টুইট বার্তায় রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাসের ব্যবহৃত খোলসের ছবি প্রকাশ করেছেন। যেখানে তারা জানান, সেগুলো বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ ব্যবহার করেছে। 

টুইট বার্তায় তারা আরও লিখেন, 'এসব অস্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা।' তাছাড়া গত বেশ কিছুদিনে সড়কে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস আচরণের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

প্রায় ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের অধীনে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অঞ্চলটি শক্তিশালী চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই দিবসটির ২২ বছর পূর্তিতে গত ১ জুলাই আন্দোলনে সড়ক অবরোধ করেন গণতন্ত্রকামী লোকজন। প্রতি বছরের এই দিনে কর্মকর্তারা এক দিকে সরকারি ভবনগুলোতে উৎসব পালন করেন আর অপর দিকে গণতন্ত্রকামীরা অবস্থান নেন রাজপথে।

হংকংয়ে বিক্ষোভ

হংকংয়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লাখো জনতা। (ছবিসূত্র : রয়টার্স)

দীর্ঘদিন যাবত হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল থেকে অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দেয় দেশটি। এর আগে গত মাসেও চীনপন্থি এক বিল নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ইউরেশিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূলের এই দেশ। 

মূলত চীন এবং তাইওয়ানে আসামি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে তখন গোটা দেশে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ দাঁড়ায় চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে।

আরও পড়ুন :- হংকংয়ে ধর্মঘট : গণতন্ত্রকামীদের বিরুদ্ধে চীনের হুঁশিয়ারি

বেইজিংয়ের দুর্বল আইন ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ডের কারণে হংকংয়ের সাধারণ মানুষ সেখানে কাউকে ফেরত পাঠাতে চাইছেন না। তাদের মতে, পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে চীনা হস্তক্ষেপের সুযোগ অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড