• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়ে হংকংয়ে গণতন্ত্রকামীদের বিক্ষোভ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০১৯, ১২:০১
বিমানবন্দরে বিক্ষোভ
হংকংয়ের বিমানবন্দরে অবস্থানরত বিক্ষোভরত গণতন্ত্রকামীরা। (ছবিসূত্র : দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস)

ইউরেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলবর্তী দেশ হংকংয়ে গত দশ সপ্তাহ যাবত চলা বিক্ষোভের অংশ হিসেবে এবার দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছে গণতন্ত্রকামী কর্মীরা। তিন দিন যাবত সেখানেই অবস্থানের মাধ্যমে বিমানবন্দরটিতে আগত বিদেশিদের কাছে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তাদের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। 

শনিবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে কর্মসূচি শুরুর পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিমানবন্দরটির মূল টার্মিনালের আগমনী হলে প্রবেশ করেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, আন্দোলনরতরা বিদেশ থেকে আগত লোকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। যে কারণে সকল যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি এই হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এগারোশর বেশি যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান ওঠানামা করে। বিমানবন্দরটি থেকে দিনে প্রায় দুইশর বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান যাতায়াত করে থাকে।

আগত বিক্ষোভকারীরা বলছেন, 'পুলিশ বাহিনী আমাদের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।' এ সময় বিক্ষোভকারীরা যাত্রীদের কাছে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও দাবিগুলো তুলে ধরেন। 

যেখানে দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, খসড়া বিল সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার, সার্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা বন্ধ করা।

হংকং

হংকং-এ বিক্ষোভরত গণতন্ত্রকামীদের পেটাচ্ছে পুলিশ। (ছবিসূত্র : রয়টার্স)

বিশ্বের ম্যাপে এক সময় ব্রিটিশ কলোনি হিসেবে পরিচিত হংকং বর্তমানে চীনের অংশ। যে কারণে 'এক দেশ, দুই নীতি'র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে দেশটির জনগণ। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা ও আইন ব্যবস্থাও রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে অনেকাংশে ভিন্ন। 

গত ৯ জুন থেকে হংকংয়ে কথিত আসামি প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নামেন লক্ষাধিক জনগণ। আন্দোলনকারী জনগণের আশঙ্কা, বিতর্কিত সেই বিলটিকে অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

যে কারণে লাখো জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে বিলটিকে 'মৃত' বলে ঘোষণা করেন দেশটির চীনপন্থি শাসক ক্যারি ল্যাম। যদিও তখন বিলটিকে পুরোপুরি বাতিল না করায়; এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে সরকারের পতনের দাবিতে সড়কে অবস্থান নেন সেখানকার নাগরিকরা।

এবারের বিক্ষোভকে সামনে রেখে গত শুক্রবার থেকেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে জানিয়ে আগেভাগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়। 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্লাইট জটিলতাকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে বৈধ টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ভ্রমণ নথি ছাড়া কাউকে চেক ইন এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তাই বিমানবন্দরে আগত সকল যাত্রীকে অবশ্যই নিজেদের হাতে সকল কাগজপত্র রাখতে হবে।

ক্যারি ল্যাম

হংকংয়ের চীনপন্থি শাসক ক্যারি ল্যাম। (ছবিসূত্র : লস এঞ্জেলেস টাইমস)

প্রায় ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের অধীনে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অঞ্চলটি শক্তিশালী চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই দিবসটির ২২ বছর পূর্তিতে গত ১ জুলাই আন্দোলনে সড়ক অবরোধ করেন গণতন্ত্রকামী লোকজন। প্রতি বছরের এই দিনে কর্মকর্তারা এক দিকে সরকারি ভবনগুলোতে উৎসব পালন করেন আর অপর দিকে গণতন্ত্রকামীরা অবস্থান নেন রাজপথে।

দীর্ঘদিন যাবত হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল থেকে অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দেয় দেশটি। এর আগে গত মাসেও চীনপন্থি এক বিল নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ইউরেশিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূলের এই দেশ। 

মূলত চীন এবং তাইওয়ানে আসামি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে তখন গোটা দেশে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ দাঁড়ায় চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে।

আরও পড়ুন :- হংকংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আহ্বান

বেইজিংয়ের দুর্বল আইন ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ডের কারণে হংকংয়ের সাধারণ মানুষ সেখানে কাউকে ফেরত পাঠাতে চাইছেন না। তাদের মতে, পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে চীনা হস্তক্ষেপের সুযোগ অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড