• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জার্মানি বনাম যুক্তরাষ্ট্র, ম্যানহাটন প্রজেক্ট বনাম ইউরানভেরেইন

  জুবায়ের আহাম্মেদ

০৭ আগস্ট ২০১৯, ১০:২৬
‘মাশরুম ক্লাউড’
পারমাণবিক বিস্ফোরণে সৃষ্ট ‘মাশরুম ক্লাউড’ (ছবিসূত্র: হিস্টোরি ডট কম)  

১৯৪৫ সালে আগস্ট মাস। ২য় বিশ্বযুদ্ধের একেবারেই শেষ বছর। অবশ্য শেষের শুরুটাও তখন অন্তত দেখা হয়ে গিয়েছে। এডলফ হিটলারের মৃত্যু হবার পরেও জাপান যদিও হাল ছাড়েনি। কিন্তু তখন পর্যন্ত হাইজেনবার্গ পুরোপুরি ব্যস্ত নিউক্লিয়ার বোমার আবিষ্কারের চিন্তাভাবনা নিয়ে। বন্দি হলেও নিজেদের গোপন প্রজেক্ট ‘ইউরানভেরেইন’ বা ‘ইউরেনিয়াম ক্লাব’ নিয়ে চিন্তাভাবনা ছিল তার মনে। এসময় খবর এলো, অক্ষশক্তির অন্যতম সদস্য জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছে মিত্রশক্তির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ‘লিটল বয়’ নামের সেই বোমার ধ্বংসযজ্ঞে হাইজেনবার্গ কেবল বলেছিলেন, ‘পুরো বিষয়টার একবর্ণও আমি বিশ্বাস করি না।’ জার্মান নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামের প্রধান ওয়ার্নার হাইজেনবার্গকে বিশ্বাস করাতেই যেন হিরোশিমার দিন তিনেক পর নাগাসাকিতে আঘাত করলো আরেক পারমাণবিক বোমা ‘ফ্যাটম্যান।’ জাপানের জন্য যুদ্ধটা বলতে গেলে ওখানেই শেষ। অক্ষশক্তির পরাজয় হয়ে যায় সময়ের ব্যাপার। 

সেই সাথে আরেকজনের স্বপ্নের ইতি ঘটে। এডলফ হিটলারের দেশ জার্মানির সেবার আর পারমাণবিক বোমা নির্মাণ করা হয়নি। হাইজেনবার্গ শেষ পর্যন্ত অমর হয়ে রইলেন অনিশ্চয়তা সূত্র নিয়ে, সেটাও সম্মানের সাথে। সম্মানিত হলেন অ্যালবার্ট আইন্সটাইনও। যার সূত্র থেকে মার্কিনিদের পারমাণবিক বোমার আবিষ্কার। তিনি সম্মান পেলেন আগেভাগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করার কারণে। 

হিটলারের স্বপ্নের শুরু যেখানে

সময়টা আরো পেছানো যাক। সালটা ১৯৩৯। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে এডলফ হিটলার। সাথে আছে একঝাঁক মেধাবী বিজ্ঞানী। তাদের মাঝে অন্যতম ছিলেন অটো হান এবং স্ট্রেসম্যান। আমেরিকা তখন তাদের সেরা বিজ্ঞানীদের নিয়ে ব্যস্ত ম্যানহাটন প্রজেক্ট নিয়ে, যার লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক বোমার আবিষ্কার। অটো হান এবং স্ট্রেসম্যান আবিষ্কার করলেন ফিশন বিক্রিয়া। ম্যানহাটন প্রজেক্টকে টেক্কা দেয়ার জন্য হিটলারের কাছে তাই হয়ে দাঁড়ালো তুরুপের তাস। আর সেসময় আরেকজন বিজ্ঞানী স্বপ্ন দেখালেন হিটলারকে। 

হিটলার

হিটলারের বিশ্বস্ত ছিলেন হাইজেনবার্গ; (ছবিসূত্র: গেটি ইমেজ)  

মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ মিউনিখ থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বয়স যখন মাত্র ৩১, কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়ে গেলেন পরম আরাধ্য নোবেল পুরষ্কারটাও। নাম ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ। তিনি দেখালেন, এই ফিশন বিক্রিয়া থেকেই সম্ভব পারমাণবিক বোমার নির্মাণ। হিটলার বিশ্বাস রাখলেন জার্মান রক্তের উপর। হাইজেনবার্গ নামলেন নতুন এক যুদ্ধে। সাথে পেলেন জার্মানির আরো একঝাঁক মেধাবী মুখ। শুরু হলো ‘ইউরানভেরেইন’ বা ‘ইউরেনিয়াম ক্লাব।’ আর এই যুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ অন্য মহাদেশের আরেক বড় রাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে আগেই সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন হিটলার বিদ্বেষী আরেক বিখ্যাত জার্মান পদার্থবিদ, সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইন্সটাইন।  

শক্তির লড়াইয়ে জার্মানি বনাম যুক্তরাষ্ট্র

জার্মানি যে পারমাণবিক বোমা নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছে এবং তা যে মানবজাতির জন্য কত বড় হুমকি তা জানিয়ে ১৯৩৯ সালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজোভেল্টকে চিঠি দিয়েছিলেন অ্যালবার্ট আইন্সটাইন। আইন্সটাইন তার চিঠিতে সতর্ক করে লিখেছিলেন, ‘বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামের সাহায্যে একটি রাসায়নিক চেইন বা শিকল বিক্রিয়া সম্ভব যা বিপুল পরিমাণ শক্তি এবং ব্যাপক তেজস্ক্রিয় ক্ষমতাসম্পন্ন।’ আইনস্টাইন কি ভুল করেছিলেন? সাধাসিধে আলভোলা এই মানুষটি হয়ত জানতেন না রুজোভেল্ট ঠিক কি করতে যাচ্ছেন এরপর। অথচ সেসময় মার্কিন নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনা ছিল পারমাণবিক বোমা কেন্দ্রিক। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই যুদ্ধ তারাই জিতবে যারা প্রথম পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।

১২

অ্যালবার্ট আইন্সটাইন, যিনি সতর্ক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে; (ছবিসূত্র: আরটি ডট কম)  

যদিও এই নিয়ে মার্কিনদের মাঝে কোনপ্রকার স্বস্তি ছিল না। ম্যানহাটন প্রজেক্টের বৈদেশিক কূটনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা রবার্ট ফারম্যান এর মতে পুরো ম্যানহাটন প্রজেক্ট ছিল আতঙ্কের এক নাম। ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট বলতে গেলে একটা ভয়ের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে ছিল। ভয় ছিল, শত্রুপক্ষ আগেই বোমা বানিয়ে রাখছে কিংবা এই বিশ্বাস ছিল আমাদের আগেই তারা তা করতে সক্ষম’। ম্যানহাটন প্রজেক্টের পদার্থবিদ লিওনা মার্শালও একই সুরে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, সে সময় আমরা এই ভয়টা পাচ্ছিলাম যে জার্মানি আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে। কারণ সেই সময় পদার্থবিজ্ঞানের জগতে জার্মানি আমাদের চেয়ে বেশ এগিয়ে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছিলো। যুদ্ধের সময়টায় হিটলারও বেশ বিধ্বংসী ছিল। এটা খুবই ভয়াবহ একটি সময় ছিল।’

১৩

প্রজেক্ট ম্যানহাটনের দক্ষযজ্ঞ; (ছবিসূত্র: পিন্টারেস্ট)  

মার্কিন সাফল্যের শুরু যেখানে

মার্কিন বিজ্ঞানীরাই যে তখন জার্মান ভয়ে ভীত ছিলেন তা মোটেই না। ভয় ছিল মার্কিন সরকারের মনেও। আইন্সটাইন ইহুদি হবার কারণে জার্মানি থেকে বিতাড়িত হয়েই রুজোভেল্টকে সতর্ক করেছেন। ভয়ের কারণ যথেষ্টই ছিল। ম্যানহাটন প্রজেক্টের প্রধান জেনারেল গ্রুভস বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের কাছে একেবারেই সুনিশ্চিত কোন খবর আসছে আমাদের ধরেই নিতে হয়েছে জার্মান সরকারের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এবং জার্মান শিল্পের সবটুকু ব্যবহার করেই তাদের বিজ্ঞানীরা পারমাণবিক গবেষণা করে যাচ্ছে। এছাড়া অন্য যেকোন ধারণা আমাদের জন্য ছিলো অবাস্তব এবং বিপজ্জনক’।

১৪ 

প্রজেক্ট ম্যানহাটন এর কার্যক্রম ছিল এইস্থানে; (ছবিসূত্র: পিন্টারেস্ট)  

যুদ্ধের এই ডামাডোলেই যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪২ সালে হাইজেনবার্গকে অপহরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলো। এর জন্য অবশ্য বড় কারণও ছিলো। ঠিক আগের বছর, অর্থাৎ ১৯৪১ সালে পারমাণবিক বোমার ব্যপারে আলোচনার জন্য হাইজেনবার্গ প্রকাশ্যে হাজির হন কোপেনহেগেনে আরেক নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীর সাথে সাক্ষাৎ করতে। তিনি নীলস বোর। যার পরমাণু মডেল এখনো বিশ্বে অমর। বোর এবং হাইজেনবার্গের এই বৈঠক প্রজেক্ট ম্যানহাটনের জন্য ব্যাপক ভয়ের ছিল। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৪৩ সালে ‘অ্যালসস মিশন’ নামে এক গোপন মিশনে নামে যুক্তরাষ্ট্র যার মূল উদ্দেশ্য ছিল জার্মানির পারমাণবিক গবেষণার আদ্যোপান্ত জেনে নেয়া। 

১৬

নীলস বোর এবং হাইজেনবার্গ; (ছবিসূত্র: মিডিয়াম ডট কম)  

এক বছর পর প্রথমবারের মত প্রজেক্ট ম্যানহাটনে সুখবর আসে। ‘অ্যালসস মিশন’ খবর পাঠায় জার্মানরা পারমাণবিক বোমার কাছাকাছিও যেতে পারেনি। তারা কেবল প্রাথমিক গবেষণার ক্ষেত্রেই অনেকখানি এগিয়ে আছে। এরইমাঝে কোণঠাসা হতে শুরু করেন এডলফ হিটলার। ১৯৪৫ সালের এপ্রিলেই নিশ্চিত হয় যুদ্ধে জার্মানির পরাজয়। জুলাই মাসের ৩ তারিখ ১০ জন জার্মান বিজ্ঞানীকে ইংল্যান্ডের গডম্যানচেস্টারের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে বন্দী করে রাখা হয়। এই দশজনের মাঝে অন্যতম ছিলেন হাইজেনবার্গ নিজেও। সাথে ছিলেন কার্ল ডিবনার এবং কার্ল ভন ওয়েস্কার। এই ৩ জনই সরাসরি যুক্ত ছিলেন জার্মানির ‘ইউরেনিয়াম ক্লাব’ এর হয়ে। এছাড়া অন্যান্য বন্দীরা যেমন অটো হান এবং ম্যাক্স ভন ল্যু সন্দেহভাজন হলেও পরবর্তীতে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। 

১৭

বোর, হাইজেনবার্গ এবং ইউরেনিয়াম ক্লাব; (ছবিসূত্র: স্টাফ অব জিনিয়াস)   

আর এখানেই ইতিহাসের অন্যতম বড় সত্যটা প্রকাশ পায়। হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের খবর পাবার পর হাইজেনবার্গ আর অন্যান্য বিজ্ঞানীর অবাক বিষ্ময় প্রকাশ করে জার্মানি পারমাণবিক বোমার কাছাকাছিও যেতে পারেনি। একজন তো রীতিমতো বলেই বসলেন, ইউ-২৩৫ তৈরি করতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমান জায়গা প্রয়োজন। বোঝায় যায়, পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারে জার্মানি কতটা পিছিয়ে ছিল সেই ১৯৪৫ সালে। 

১৯৪৬ সালের ৩ জানুয়ারী যখন ইংল্যান্ডের বন্দীশালা থেকে বেরিয়ে আসলেন হাইজেনবার্গ আর ইউরেনিয়াম ক্লাবের সব বিজ্ঞানী। কিন্তু তখন আর কোন স্বপ্নই তারা দেখতে রাজিনা।  

জার্মানি কেন ব্যর্থ ছিলো? 

যদি প্রশ্ন করা হয় মার্কিনদের হাতে হাইজেনবার্গ, অটো হানদের মত নামী কোন বিজ্ঞানী না থাকলেও কি করে সম্ভব হলো জার্মানিকে টেক্কা দেয়া? তবে উত্তর একটাই। তাদের ঐক্য। ম্যানহাটন প্রজেক্টে সরকার, মার্কিন বিজ্ঞানী এবং আমেরিকান শিল্পখাত একসাথে কাজ করতে পেরেছিলো। যা জার্মানিতে ছিলো একেবারেই অনুপস্থিত। বন্দীশালায় আটকে থাকা অবস্থায় ইউরেনিয়াম ক্লাবের বৈজ্ঞানিক হ্রস্ট ক্রসচিং জানিয়েছিলেন, ‘আমেরিকানদের পারস্পরিক সহযোগিতা ছিল একেবারেই অন্যরকম। যেটা আমাদের জার্মানিতে একেবারেই অসম্ভব। প্রত্যেকেই বলত অন্য একজন একাজের জন্য খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নন।’

১৯

ইউরেনিয়াম ক্লাবে শ্রমিকদের ব্যস্ততা; (ছবিসূত্র: গেটি ইমেজ)  

এছাড়া এই কাজে সরকারী প্রচুর অনুদান প্রয়োজন ছিল যা মার্কিন সরকার ব্যবস্থা করতে পেরেছিল কিন্তু এডলফ হিটলার এইরকম কোন জুয়া খেলতে একেবারেই রাজি ছিলেন না। জার্মানির আরো একটি বড় সমস্যার মূলে ছিলেন এডলফ হিটলার নিজেই। তার মনোভাবের কারণে অনেক বিজ্ঞানীই জার্মানি ত্যাগ করেন এবং যার একটি বড় অংশ হিটলারকেই ঠেকাতে যোগ দেন প্রজেক্ট ম্যানহাটনে। হিটলারের জন্য এটি বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।  

২০ 

জার্মান রাষ্ট্রনায়ক এডলফ হিটলার; (ছবিসূত্র: রেডিট ডট কম)  

এদিক থেকে অবশ্য দায় এড়াতে পারেননা বিজ্ঞানী হাইজেনবার্গ নিজেও। ১৯৪২ সালে বিজ্ঞানী এবং সরকারের উচ্চপদস্থ এক যৌথ বৈঠকে হাইজেনবার্গ ভি-২ নামের এক মিসাইল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন যা হিটলারের খুব বেশি মনঃপুত হয়। পরবর্তীতে হিটলার ইউরেনিয়াম ক্লাবের চেয়ে এই মিসাইলের পিছনেই বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন যার কারণে দীর্ঘ ৬ বছরেও জার্মানির পক্ষে কাগজ কলমের চেয়ে বেশি দূর এগুনো সম্ভব ছিল না। 

এছাড়া জার্মানির দূর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থাও তাদের জন্য বড় একটা ক্ষতি সেসময় ডেকে এনেছিলো। 

নরওয়েজিয়ান হেভি ওয়াটার প্ল্যান্ট

সত্যি বলতে হিটলারের এবং ইউরেনিয়াম ক্লাবের পারমাণবিক বোমার ক্ষেত্রে বড় বাঁধা ছিল নরওয়েতে ভারী পানির উৎপাদন কেন্দ্রে মিত্রবাহিনীর সফল অভিযান। এই ওয়াটার প্ল্যান্ট ২য় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পারমাণবিক বোমার ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক একটি উপাদান হয়ে উঠতে পারতো। ১৯৪০ সালে ‘নর্ক্স হাইড্রো হেভি ওয়াটার প্ল্যান্ট’র দখল নেবার পর থেকেই জার্মানি পারমাণবিক বোমার কাজে আরো বেশি গতি অর্জন করে। কিন্তু ১৯৪৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির ‘অপারেশন গানারসাইড’ এর মাধ্যমে এই পানি উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয় মিত্রবাহিনী। এতে প্রায় ৫০০ কেজি ভারি পানির মজুদ হারায় জার্মানি। এই অপারেশনের প্রধান জোয়াকিম রনেবার্গ পরবর্তীতে জানান, ‘পুরো অপারেশনে অনেককিছুই ছিলো কেবলই ভাগ্য আর সুযোগের ব্যবহার। আমাদের কোন পরিকল্পনা ছিল না। আমরা শুধু প্রার্থনা করছিলাম আমাদের জন্য যা ভাল তাইই যেন হয়।’ তিনি ধারণা করেন যদি তাদের অপারেশন সফল না হতো তবে লন্ডনকেও অল্পকদিনের মধ্যে আরেক হিরোশিমা হতে হতো। 

২১

নরওয়ের ভারী পানি উৎপাদন কেন্দ্র; (ছবিসূত্র: মিডিয়াম ডট কম)  

হাইজেনবার্গ বেঁচে ছিলেন এরপরে আরো অনেকগুলো বছর। বেঁচে ছিলেন আমেরিকাকে সতর্ক করে দেয়া আইন্সটাইন কিংবা জার্মানি থেকে পালিয়ে যাওয়া ইহুদি বিজ্ঞানীরাও। জার্মানি না পারলেও পারমাণবিক বোমাও ঠিকই পৃথিবীর বুকে আঘাত হেনেছিলো। শুধু নামগুলো ঠিক ছিল না। যা হতে পারতো জার্মানির তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। আর জার্মানি এখনো পারেনি পরমাণু গবেষণায় পৃথিবীর বড় হুমকি হয়ে উঠতে। নরওয়ের ভারী পানির প্ল্যান্টের ধ্বংস আর হাইজেনবার্গদের ভুলগুলো পৃথিবীকে কিছুটা হলেও ভালো রেখেছে আজ পর্যন্ত। 

তথ্যসূত্র: এটোমিক হেরিটেজ 

ওডি/এএন 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড