• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

'আগামী এপ্রিলের মধ্যেই তুরস্কে 'এস-৪০০' মোতায়েন'

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৯
'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র
'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। (ছবিসূত্র : রয়টার্স)

আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যেই পূর্ব ইউরোপের দেশ তুরস্কে 'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তুর্কি গণমাধ্যম 'দ্য ডেইলি সাবাহর’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার (১৫ জুলাই) তুরস্কের ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, 'রাশিয়া থেকে ইতোমধ্যে 'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আসতে শুরু করেছে। গত চার দিনে এর বিভিন্ন অংশ দেশে এসে পৌঁছেছে। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে আগামী ২০২০ সালের এপ্রিল নাগাদ এটি পুরোপুরি মোতায়েন সম্ভব হবে।'

প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, 'যারা আমাদের দেশে আঘাত হানতে চায় তাদের মোকাবিলায় 'এস-৪০০' হবে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে এটি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে রাশিয়ার তৈরি আটটি যুদ্ধবিমান কেনা হয়েছে।'

এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুলাই) মার্কিন বিরোধিতা সত্ত্বেও উপেক্ষা করে রাশিয়ার কাছ থেকে অতি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার 'এস-৪০০' প্রথম চালান তুরস্কে পৌঁছেছে। রাজধানী আঙ্কারার একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে এর প্রথম চালানটি পৌঁছায়। যদিও একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান এবং রাশিয়ার তৈরি 'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় আঙ্কারার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এ দিকে এরদোগান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও ১০০টি 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত একটি চুক্তি করেছে। সেই খাতেও দেশটি ইতোমধ্যে ব্যাপক বিনিয়োগ করে রেখেছে। যার অংশ হিসেবে বিমানটির ৯৩৭টি পার্টস উৎপাদন করছে তুর্কি কোম্পানিগুলো। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এটি একটি নিরাপত্তাজনিত হুমকি। 

ট্রাম্প প্রশাসন চায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বদলে তুরস্ক যাতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ক্রয় করে। তবে তুরস্কের দাবি, 'এফ-৩৫' ও 'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা অবস্থানে থাকবে। তাছাড়া বিকল্প ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই ধীরগতি দেখিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় চুক্তি আগামীতেও অব্যাহত থাকলে 'এফ-৩৫' কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে বাদও দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে দেশটি খুব শিগগিরই একটি অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও পড়তে পারে। 

অপর দিকে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, 'আমি বিশ্বাস করি রাশিয়ার কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয় ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কখনই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।'

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের সামরিক জোট ন্যাটোয় দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী এই তুরস্কের। মার্কিন সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই মিত্রের অবস্থান কৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ইরাক, সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে দেশটির।

আরও পড়ুন :- ইতালিতে নব্য নাৎসিবাদীদের আস্তানায় মিলল ক্ষেপণাস্ত্র

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল আঙ্কারা। তখন দেশটির বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সামরিক সহায়তা দিয়েছিল এরদোগান সরকার। যে কারণে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বেশ কয়েকটি ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে অবনতি দেখা দেয়। যা এখনো বিদ্যমান আছে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড