• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হংকংয়ে বিক্ষোভ : আবারও গণতন্ত্রকামীদের দখলে সড়ক

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ জুলাই ২০১৯, ১৩:০১
হংকংয়ে বিক্ষোভ
হংকংয়ে আইন বাতিলের দাবিতে সড়কে বিক্ষোভরত জনগণ। (ছবিসূত্র : সিএনএন)

ইউরেশিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূলের দেশ হংকংয়ে গণতন্ত্রকামীদের সরকার বিরোধী বিক্ষোভে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। গত ১ জুলাই দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে হামলার পর বিক্ষোভরত লোকজনদের প্রায়ই সড়কে সরব হতে দেখা যায়। রবিবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সময় রাতে এর অংশ হিসেবে প্রতিবেশী চীন সীমান্ত সংলগ্ন সা তিন শহরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন তারা। যদিও এতে পুলিশি হস্তক্ষেপে এক রকম সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আন্দোলন।

এদিন দিবাগত রাত দশটার দিকে পিপার স্প্রে এবং লাঠিচার্জ করলে বিক্ষোভকারীরা একটি শপিং সেন্টারের ভেতর প্রবেশ করেন। এ সময় অনেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে নিজেদের হাতে থাকা ছাতা ও প্লাস্টিকের বোতল ছুড়ে মারেন। তখন পুলিশের ছোড়া পিপার স্প্রে থেকে বাঁচতে বিক্ষোভরত লোকজনকে মুখোশ ও বিশেষ চশমা পরে সড়কে অবস্থান নেন।

প্রশাসনের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানায়, এবারের বিক্ষোভে কয়েক জন গণতন্ত্রকামীকে সড়কে টহলরত পুলিশের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়।

হংকংয়ে নেতা

হংকংয়ের চীনপন্থি শাসক ক্যারি ল্যাম। (ছবিসূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল)

এর আগে গত মাসে হংকংয়ের চীনপন্থি সরকার বিতর্কিত একটি আসামি প্রত্যর্পণ বিল পাসের উদ্যোগ নিলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন অঞ্চলটির সাধারণ মানুষ। তাদের আশঙ্কা বিলটি পাস হলে হংকংয়ের রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপ অনেকাংশে বেড়ে যাবে। পরবর্তীতে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বিলটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, বিলটি স্থগিত না রেখে পুরোপুরি বাতিল করা হোক।

গত ১ জুলাই চীনের কাছে হংকং হস্তান্তর বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই সড়কে জড়ো হতে শুরু করে হাজার হাজার লোকজন। এক সময় সরকারি দফতরগুলোতে চালানো হয় ভাংচুর। এমনকি ধাতব বস্তু দিয়ে পার্লামেন্ট ভবনেও চালানো হয় হামলা। সরকার বিরোধী এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে রাজপথে অবস্থান নেয় হাজারও গণতন্ত্রকামী জনগণ।

এ দিকে গত সপ্তাহে কুউলোন শহরের মধ্য দিয়ে মিছিল নিয়ে আন্দোলনরতরা পশ্চিম কুউলোনের রেল স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। স্টেশনটির মাধ্যমেই দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চীনের মূল অংশের সঙ্গে সংযুক্ত হয় হংকং। মূলত মূল ভূখণ্ডের পর্যটকদের আকৃষ্টের জন্যই এবারের বিক্ষোভে চীনের জাতীয় সঙ্গীত এবং দেশটির ভাষায় লিখিত ব্যানার বহন করে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এডিসন এনজে নামে ১৮ বছর বয়সী এক গণতন্ত্রকামী ফরাসি বার্তা সংস্থা 'এএফপি'কে বলেন, 'আমরা মূলত পর্যটক এবং মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের হংকংয়ে যা চলছে তা দেখাতে চাই। আশা করি, তারা এই ধারণা চীনে নিয়ে যাবেন।'

হংকংয়ে বিক্ষোভ

সড়কে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত জনতা। (ছবিসূত্র : সিএনবিসি)

অপর দিকে গত রবিবার সন্ধ্যায় সা তিন শহরের রাস্তায় জড়ো হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হলে সহিংসতা শুরু হয়। পরে একই দিন এক বিবৃতিতে হংকং সরকার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া বিক্ষোভকারীদের কঠোর নিন্দা জানায়। এতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা ও শান্তি নষ্টের অভিযোগ করা হয়।

গত রবিবার রাতের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে পরদিন সোমবার (১৫ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার স্টিফেন লো বলেন, 'এবার অন্তত ৪০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এতে অন্তত দশ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২২ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। যাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।'

আরও পড়ুন :- গণবিক্ষোভে প্রত্যর্পণ বিলের মৃত্যু হয়েছে, দাবি হংকং শাসকের

প্রায় ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের অধীনে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অঞ্চলটি শক্তিশালী চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তখন 'এক দেশ দুই পদ্ধতি' একটা চুক্তি হয়েছিল। মূলত সেই চুক্তির ভিত্তিতে হংকং শাসিত হবে এবং স্বায়ত্তশাসনের গ্যারান্টি থাকবে। সম্প্রতি খসড়া করা প্রত্যর্পণ বিলে সেই স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভরত লোকজন।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড