• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যে দাঙ্গায় সহস্রাধিক মুসলিমের মৃত্যু হয়েছিল

গুজরাট দাঙ্গায় মুসলিমদের পক্ষ নেয়া মোদী বিরোধী আইপিএসের যাবজ্জীবন

তিন দশক পুরোনো একটি খুনের মামলা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ জুন ২০১৯, ১৮:৩১
গুজরাট দাঙ্গা
আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভট্ট (উপরে ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

গুজরাট দাঙ্গায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা নিয়ে যিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, তিন দশক পুরোনো একটি মামলায় সেই আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভট্টকে এবার যাবজ্জীবন সাজা দিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মুসলিমদের ওপর যাবতীয় আক্রোশ যাতে হিন্দুরা মিটিয়ে নিতে পারেন, দাঁড়িয়ে থেকে মোদী নিজে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সে সময়ে অভিযোগ করেছিলেন এই কর্মকর্তা।

জামনগর থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন এক বন্দির মৃত্যুতে সঞ্জীব ভট্টের বিরুদ্ধে খুনের মামলা চলছিল। সেই মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সাজা হয়েছে আর এক প্রাক্তন আইপিএস অফিসার প্রবীণসিন জালারও। দোষী সাব্যস্ত আরও ছয় পুলিশ অফিসারের সাজা ঘোষণা এখনো বাকি। 

ঘটনাটি ১৯৯০ সালের, গুজরাটের জামনগর জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে মোতায়েন ছিলেন সঞ্জীব ভট্ট। সে সময় লালকৃষ্ণ আদবাণী এবং তার সমর্থকদের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধে জামজোধপুর এলাকায়। সেই ঘটনায় প্রায় ১৫০ জনকে আটক করেন সঞ্জীব ভট্ট। তাদের মধ্যে প্রভুদাস বৈষ্ণণী নামের এক ব্যক্তিও ছিলেন। ছাড়া পাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয়। হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশি নির্যাতনেই প্রভুদাসের মৃত্যু হয়েছে বলে সে সময় দাবি করে তার পরিবার। পরবর্তীকালে এ নিয়ে থানায় এফআইআরও দায়ের করেন প্রভুদাসের ভাই। তাতে সঞ্জীব ভট্ট এবং আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি।

সেই মামলা চলাকালীন ২০১১ সালে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সঞ্জীব ভট্টকে সাসপেন্ড করা হয়। ২০১৫-র আগস্ট মাসে সরকারি গাড়ি অপব্যবহারের অভিযোগে বরখাস্তও করা হয় তাকে।

বরাবরই নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের কট্টর সমালোচক সঞ্জীব ভট্ট। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং আরও দুজনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার তদন্ত বিপথে চালিত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। এমনকি গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাঙ্গায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ভট্ট। যদিও শীর্ষ আদালত নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়। মোদী নিজেও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ভারতের ১৯৮৮ ব্যাচের আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভট্ট এই মুহূর্তে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। দুদশকেরও বেশি পুরানো একটি মাদক মামলায় গতবছর তাকে গ্রেফতার করে সিবিআই। বনসকাঁথার ডিএসপি থাকাকালীন সুমেরসিংহ রাজপুরোহিত নামের এক আইনজীবীকে মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করেন তিনি। কিন্তু ভুয়া অভিযোগে রাজপুরোহিতকে ফাঁসানো হয়েছিল বলে পরবর্তীকালে তদন্তে উঠে আসে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড