• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক ধর্মঘট

'ব্যাপারটা এত দূর গড়াবে বুঝিনি, দয়া করে সব ঠিক করুন'

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ জুন ২০১৯, ১৪:১৫
কলকাতায় ধর্মঘট
কলকাতার এনআরএস মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত রোগীর ছেলে। (ছবিসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতার বিবিবাগান লেন এলাকার সবচেয়ে বড় জামে মসজিদ। তারই প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছেন সদ্য পিতৃ হারানো বিধ্বস্ত এক মুখ। তিনি বলছিলেন, 'মেনে নিলাম সব দোষই আমাদের; কিন্তু ব্যাপারটা যে এতদূর গড়াবে তা আমরা বুঝিনি!' এ সময় আশপাশে দাঁড়ানো স্থানীয় কিছু লোক পাশ থেকে একসঙ্গে বলে উঠল, 'এবার দয়া করে সব ঠিক করুন। শাহিদ ভাই আর ফিরবেন না। কিন্তু এ জন্য আরও অনেক রোগীর মৃত্যু হতে পারে!'

পশ্চিমবঙ্গের নীলরতন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (এনআরএস) থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের ট্যাংরার বিবিবাগান লেনের বাসিন্দা মহম্মদ শাহিদ। এতদিন সেখানকারই জামে মসজিদ সংলগ্ন ঘরে দুই ছেলে ও বৌমাকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

কলকাতাভিত্তিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ জানায়, গত সোমবার (১০ জুন) কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে শাহিদের স্বজনরা একজন জুনিয়র চিকিৎসককে আহত করেন। পরবর্তীতে এর ন্যায়বিচারের দাবিতে গোটা রাজ্যে শুরু হয় আন্দোলন।

এক পর্যায় ডাক্তাররা কর্মবিরতিতে গেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের কাজে ফিরতে 'হুঁশিয়ারি' দেন। মূলত এরপরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। যার প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে উত্তাল হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ, যা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে। যার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত শতাধিক চিকিৎসক তাদের ইস্তফা দিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) মৃত শাহিদের এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র প্রতিনিধি। নিজের শ্বশুরের খোঁজে সাংবাদিক এসেছেন শুনে ঘরে থেকে কাঁদতে শুরু করেন নিহতের পুত্রবধূ। এ সময় পাশ থেকে এক ব্যক্তি বললেন, 'আমরা খুব ভয়ে আছি। হাসপাতালে হাসপাতালে যা হচ্ছে, তাতে বড় কিছু হয়ে গেলে কেউই এখানে আর থাকতে পারবে না!'

শাহিদের বড় ছেলে মুহাম্মদ ইসরাইল এলাকার সেই জামে মসজিদটির ছোট ইমাম। তবে মসজিদে পৌঁছেও দেখা পাওয়া যায়নি তার। নমাজের সময় থাকায় তার বদলে কথা বলেন মৃতের ছোট ছেলে মুহাম্মদ সাবির। তার দাবি, দীর্ঘ এক মাস রোজা পালন শেষে কিছুটা দুর্বল ছিলেন তাদের বাবা। গত শনিবার মসজিদেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পার্শ্ববর্তী এনআরএস মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। 

নিহতের ছোট ছেলে অভিযোগ করে বলেন, 'গত সোমবার আমার বাবাকে আর কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। পরে একই দিন বিকাল পৌনে চারটার দিকে তার অবস্থার অবনতি হলেও সেখানকার কোনো চিকিৎসকই বাবাকে দেখতে আসেননি।' সাবিরের কথায়, 'মুহাম্মদ কালিম আমার বন্ধু; তখন সে আমার বাবার সঙ্গেই ছিল। অবস্থা খারাপ দেখে এক চিকিৎসককে ডাকতে গেলে তিনি সিনিয়র ডাক্তারদের কাছে যেতে বলেন। সিনিয়র ডাক্তারেরা ঠাণ্ডা একটা ঘরে বসে ছিলেন। জরুরি সময়ে সেখানে গিয়ে সাহায্য চাইলে তারা এক রকম দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন।'

ঘটনার এক পর্যায়ে তিনিও সিনিয়র চিকিৎসকদের কাছে গেলে তাকেও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ সাবিরের। তিনি বলেন, 'তখনই কালিম সেই ডাক্তারের হাত ধরে জোর করে টেনে রোগীর সামনে নিয়ে আসে। তিনি কোনো রকমে বাবাকে দেখলেও মুখে কিছু না বলেই চলে যান। আর এতেই ডাক্তারেরা নাকি রেগে গিয়েছেন। পরে সেদিনই বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে বাবার মৃত্যু হলেও রাত পর্যন্ত দেহ হাসপাতালেই আটকে রাখা হয়। এ সময় ক্ষমা না চাইলে দেহ দেওয়া হবে না বলেও জানান চিকিৎসকরা।'

সাবির জানান, এর পরে পার্শ্ববর্তী এন্টালি থানার পুলিশ গিয়ে চিকিৎসকদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় না। তার দাবি, 'এর পরই মাথা ঠাণ্ডা না রাখতে পেরে আমাদের ছেলেরা হাসপাতালের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করে। কিন্তু ব্যাপারটা যে এত দূর গড়াবে তা আমরা বুঝিনি।'

আরও পড়ুন :- পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক ধর্মঘট : বিপাকে লক্ষাধিক রোগী

সাবিরের এই কথা শেষ হওয়ার আগেই উপস্থিত লোকজনের ভিড় থেকে এক জন চেঁচিয়ে বলে উঠেন, 'ওই ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার জন্যই ২০১২ সালে মারা গিয়েছিলেন শাহিদ ভাইয়ের স্ত্রী!' তখন উত্তেজিত ভিড়কে শান্ত করে সাবির বলেন, 'কই, তখন তো আমরা এ সব করিনি!'

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড