• সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইরানের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ 'স্নাপ'

হিজাব না পরায় চালকের অসদাচরণ, ক্ষমা চাইলো নারীই

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ জুন ২০১৯, ১৭:২১
ইরানের হিজাব সংকট
হিজাব বা স্কার্ফ না পরায় মাঝপথেই যাত্রীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় চালক। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে বাধ্যতামূলক ইসলামিক স্কার্ফ বা হিজাব পরিধাব না করায় দেশটির জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি স্নাপের এক চালক এক নারীকে মাঝপথেই গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। এমন আচরণের শিকার নারী টুইটারে একটি পোস্ট করে ঘটনা প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রথমে কোম্পানিটি ওই নারীর কাছে ক্ষমা চাইলেও সংরক্ষণবাদীদের চাপে অ্যাপ ত্যাগের ঝড় উঠলে চালকের কাছেই কোম্পানি ও নারী উভয়েই ক্ষমা চান।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই নারীদের প্রকাশ্যে হিজাব বা স্কার্ফ পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যদিও দেশটির নারীরা প্রায়ই এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। নারী যাত্রীটি টুইটারে চালকের একটি ছবিসহ পোস্ট করেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) তিনি টুইটারে লেখেন, 'এই সেই চালক, যিনি আমাকে মটরওয়ের ( রাজধানী তেহরানে) মাঝপথেই নামিয়ে দেন'। স্নাপ পরে ক্ষমা চায় এবং ওই চালকের বিরুদ্ধে নিন্দা জানায় বলে নারীটি উল্লেখ করেন।

এ দিকে, দেশটির সংরক্ষণবাদিরা 'ইসলামিক মূল্যবোধের' অবমাননাকারী ব্যক্তির কাছে বশ্যতা স্বীকার করায় কোম্পানির সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করে। শনিবার থেকে ফার্সি-ভাষায় একটি হ্যাশট্যাগ আন্দোলন যার অনুবাদ #বয়কট স্নাপ, ৬৬ হাজার বার ব্যবহার করা হয়েছে।

হিজাবের জন্য পুলিশের সতর্কতা। ছবি : সংগৃহীত

একজন ব্যবহারকারী টুইট করে বলেন, 'স্নাপের ওই চালকের আপত্তিজনক আচরণের শিকার নারীর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সাঈদ আবেদকে (চালক) নিন্দা জানানোর ঘটনা সত্য হয় তাহলে, স্নাপ বর্জনের পাশাপাশি ওই ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ইসলামিক পেনাল কোড অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কোম্পানির ম্যানেজার ক্ষমাপ্রার্থনা ও চালককে নিন্দা জানানোর মাধ্যমে মূলত অসদাচরণকেই উৎসাহিত করেছেন।'

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরটিভি-৩ এর কাছে একটি সাক্ষাৎকারে জনাব আবেদ বলেন, গাড়িতে হিজাব না পরা নারীর প্রতি তার কর্মকাণ্ডকে যদি 'ধর্মীয় কর্তব্য' হিসেবে পুলিশ চিহ্নিত করতে না পারে তাহলে তাকে জরিমানা করা যেতে পারে। স্নাপে রিপোর্ট করে তাকে 'বদনাম' করা হয়েছে।

দেশটির কট্টরপন্থি ওয়েবসাইট জাহাননিউজ অনুসারে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস কর্পসের মহাকাশ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজীজায়েদ ওই স্নাপ চালকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন এবং এমন কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

হিজাবকে কেন্দ্র করে ইরানে তরুণীদের মধ্য মতবিরোধ। ছবি : সংগৃহীত

তারা ওই চালকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে শনিবার এক বিবৃতিতে জানায় স্নাপ। বিবৃতিতে বলা হয়, চালকের বিবরণ প্রকাশের জন্য তার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। তিনি স্নাপে সন্তোষজনকভাবে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া, গ্রাহক-সম্মান নীতি আমাদের যাত্রীটির সাথে সমঝোতা করার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, কারণ তার যাত্রা অসম্পূর্ণ ছিল। একইসাথে স্ন্যাপের শর্তাবলী সম্পর্কে অবহিত করা হবে।'

সোমবারে ওই নারী যাত্রী তার প্রথম টুইটটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চান। এক নতুন টুইটে তিনি জানান, 'আমি এখানে ওই চালক, স্নাপ কোম্পানি এবং সবাই যারা আমার সাম্প্রতিক টুইটে আঘাত পেয়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি ঘোষণা করছি যে, আমি আমার দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।'

রাস্তায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার হিজাব আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে কর্তৃপক্ষ দমন করে দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে ইরানি সরকার কমপক্ষে ৪৮ জন নারী অধিকার রক্ষাকারীকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে চারজন পুরুষও রয়েছে।

হিজাবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ (বামে) করছে দেশটির এক তরুণী, অন্যদিকে বাধ্যতামূলক হিজাবকে ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছে তরুণীরা। ছবি : সংগৃহীত

হিজাববিরোধী প্রচারাভিযান গ্রুপ বলছে যে, তাদের অনেক অধিকার কর্মীর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে এবং কারাগারে পাঠানো হয়েছে কিংবা গুরুতর অন্যায় বিচারের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ সতর্ক করে জানায় যে, যারা হিজাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করবে তাদের ১০ বছরের জেল হতে পারে। 'বিবিসি নিউজ'

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড