• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

নিরাপদ আশ্রয়ে ৩ লাখ মানুষ

'ফণী'র পর 'বায়ু' তাণ্ডব, বন্ধ গুজরাটের স্কুল-কলেজ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ জুন ২০১৯, ১৭:০১
ঘূর্ণিঝড় 'বায়ু'
ছবি : সংগৃহীত

সুপার সাইক্লোন 'ফণী' আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই মাসখানেকের মধ্যে আরেক ঘূর্ণিঝড় 'বায়ু' আতঙ্কে ভারত। আরব সাগরে গভীর নিম্নচাপের ফলে ঘূর্ণিঝড় 'বায়ু'র সৃষ্টি হয়েছে লক্ষ্মদ্বীপের কাছে। দ্রুত তা এগিয়ে চলেছে দেশটির উত্তর দিকে। ভয়াবহ সাইক্লোন হয়ে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে 'বায়ু' বৃহস্পতিবারই (১৩ জুন) আছড়ে পড়বে গুজরাট উপকূলে।

ভারতের গুজরাটের উপকূল এলাকায় ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত সর্তকতা জারি করা হয়েছে। কচ্ছ থেকে শুরু করে দক্ষিণ গুজরাটের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা পড়ছে সেই উপকূলে। সেখানে আগাম সর্তকতা হিসেবে স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বুধবার থেকেই গুজরাটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। 

দেশটির সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও উপকূল রক্ষী বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কেরালা ও কর্নাটক রাজ্যের উপকূল এবং লক্ষ্মদ্বীপের মৎস্যজীবীদের। বুধ ও বৃহস্পতিবার সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে গুজরাট উপকূলের মৎস্যজীবীদের। দেশটির নব-নির্বাচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার জানান, 'বায়ু' আছড়ে পড়ার পর কী কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, ইতোমধ্যেই সেই সব খতিয়ে দেখা হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার পোরবন্দর এবং মাহুবার মাঝামাঝি কোথাও আছড়ে পড়বে। রাস্তা থেকে শুরু করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আশঙ্কা রয়েছে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার। বুধবার সকালেই ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) কর্মকর্তা ও উদ্ধার কর্মীদের বিমানবাহিনীর 'সি-১৭' বিমানে করে জামনগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 'বায়ু' আছড়ে পড়ার পর তারা নেমে পড়বেন উদ্ধার কাজে। বিএসএফকেও উদ্ধার কাজে লাগানো হবে বলে গুজরাট প্রশাসন জানায়। গুজরাট এবং দমন-দিউ মিলিয়ে মোট তিন লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মোট ৭০০টি কেন্দ্রে।

ঘূর্ণিঝড়টি ইতোমধ্যেই সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্ট্রর্মে পরিণত হয়েছে। কচ্ছ, দ্বারকা, দেবভূমি, জুনাগর, সোমনাথ, আমরেলি, ভাবনা, কারসহ বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে। শুধু গুজরাট নয়, মহারাষ্ট্র উপকূলের জন্যও এই সতর্কতা জারি থাকছে বুধ ও বৃহস্পতিবারের জন্য।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি দ্বারকা ও সোমনাথে থাকা পর্যটকদের বুধবার বিকেলের মধ্যেই অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পর্যটকদের সাহায্য করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহন সংস্থাগুলোকে। টুইট করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, 'ঘূর্ণিঝড় "বায়ু" গুজরাটের দিকে এগোচ্ছে। আমি কংগ্রেসের সব কর্মীকে অনুরোধ করছি আপনারা মানুষের পাশে থাকুন।'

আরব সাগরে লক্ষ্মদ্বীপের উপকূলে আমিনিদিবিতে সৃষ্টি হয়েছে বায়ুর। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তারপর সেটি হবে উত্তরমুখী। ভেরাবল ও দিউয়ের কাছে, পোরবন্দর থেকে মাহুবার মধ্যে দিয়ে সেই ভয়াবহ ঘূর্ণি ঝড় বায়ু আছড়ে পড়বে গুজরাত উপকূলে। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে গড়ে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবার ভোরে যা ঘণ্টায় ১৩৫ বা ১৫০ কিলোমিটারও হতে পারে।

বুধবার (১২ জুন) বায়ুর গতিবেগ বেড়ে হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার জানায় আবহবিজ্ঞানীরা। তা আরব সাগরের পূর্ব-মধ্য দিক থেকে এগোতে থাকবে উত্তর-পূর্ব দিকে। বুধবার সকাল থেকেই বায়ুর ঝাপটা টের পেতে শুরু করবে গুজরাট উপকূল। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড