• রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

১৫০ ফুট গভীরেই ৩য় জন্মদিন কাটলো

পরিত্যক্ত নলকূপে ১০৯ ঘণ্টার জীবনযুদ্ধে হেরে গেল শিশুটি

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ জুন ২০১৯, ১৫:০৪
নলকূপে শিশু
ফুটফুটে ফতেবীর সিংহ নামের এই শিশুটি ১৫০ ফুট গভীর পরিত্যক্ত নলকূপে পড়ে গিয়ে ১০৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের সাংগ্রু জেলার ভগবানপুরের একটি ১৫০ ফুট গভীর পরিত্যক্ত নলকূপে প্রায় ৫ দিন ধরে আটকে থাকা দুবছরের একটি শিশুকে বহু চেষ্টার পর তুলে আনা হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। ফতেবীর সিংহ নামের এই শিশুটি সোমবারেই (১০ জুন) তিন বছরে পা দেয়, নলকূপের ভেতরেই তার জন্মদিন পার হয়। বহু দিন ধরেই নলকূপটি থেকে পানি তোলা হয়নি বলে সেটি কার্যত পরিত্যক্ত ছিল বলে জানায় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকালে ওই পরিত্যক্ত নলকূপটির পাশে খেলা করছিল শিশুটি। নলকূপটি গভীর হলেও তা ৭ ইঞ্চির বেশি চওড়া নয় এবং মুখটি ঢাকা দেয়া ছিল একটি কাপড় দিয়ে। খেলা করতে করতে শিশুটি সেই কাপড়ে পা দিয়ে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির ওজনে কাপড়টি ছিঁড়ে শিশুটি পড়ে যায় গভীর নলকূপের মধ্যে। তার মা তাকে উদ্ধারের অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু তার পক্ষে গভীর নলকূপটি থেকে শিশুটিকে বের করে আনা সম্ভব হয়নি।

ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা টানা ৫ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১১ জুন) ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ গভীর নলকূপ থেকে উপরে তুলে আনেন শিশুটিকে। তাকে ১২৫ ফুট গভীরতা থেকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য ৩৬ ইঞ্চি চওড়া আরও একটি নলকূপ খোঁড়া হয় ওই পরিত্যক্ত নলকূপটির পাশেই। উপরে তোলার পর চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ছবি : সংগৃহীত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য নলকূপের কাছেই রাখা ছিল একটি চপার। কিন্তু সেই চপারে না তুলে গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ১৫০ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে। শিশুটিকে কোনো খাবার বা জল দেয়া সম্ভব হয়নি। দেয়া হয়েছিল শুধুই অক্সিজেন।

এই গাফিলতির প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করার পর টুইট করে এই ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহ। তিনি শিশুটির পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড