• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঈদের ছুটি পান না লক্ষাধিক বাংলাদেশি

  অধিকার ডেস্ক

২৬ মে ২০১৯, ২৩:৪৮
ঈদের নামাজ
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের নামাজ। (ছবি : সংগৃহীত)

ঈদের আন্দন্দ থেকে এবারও বঞ্চিত হচ্ছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি। দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৬০ ভাগই লোক কাজ করেন বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে। ঈদের দিনে নামাজ আদায়ের সময়টুকু বাদ দিলে পূর্ণদিবস কাজ করতে হয় তাদের। এজন্য ওভারটাইম কিংবা অন্য কোনও সুবিধাও দেওয়া হয় না।

শুধু বিদেশি মালিকরা না বাংলাদেশি মালিকরাও তাদের বঞ্চিত করেন ঈদের আনন্দ থেকে। হোটেল কর্মীদের কোনও অধিকারভিত্তিক সংগঠন না থাকায় মালিক সংগঠনগুলোও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।

দেশটিতে এই অমানবিক পরিস্থিতি চলমান রয়েছে শুধু ঈদের দিন সরকারি ছুটি না থাকার কারনে। সেখানকার বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে কেবল ক্রিসমাসের দিনেই ছুটি মেলে। তাদের আকুতি, সেই ছুটি কেড়ে নিয়ে হলেও অন্তত ঈদুল ফিতরের দিনে তাদের অবসর দেওয়া হোক।

সেখানকার প্রচলিত শ্রম ও কর্মসংস্থান আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতর, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মেসি, জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, সুপার মার্কেট পর্যন্ত প্রায় সব সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীই বি‌ভিন্ন ছুটি পায়।

রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানস্বীকৃত এসব নাগরিক ও আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয় কেবল বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টে কর্মরতদের। এই খাতের লক্ষাধিক শ্রমিক-ওয়েটার-কুক-শেফ-ম্যানেজার-অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার কেউই বছরের এই নির্ধারিত জাতীয় ছুটির দিনে সবেতন ছুটি ভোগ করতে পারেন না। এমনকি বছরের দুই ঈদের দিনেও ছুটি থেকে বঞ্চিত হন তারা। কেননা, ক্রিসমাসের দিন ছাড়া রেস্টুরেন্ট কখনও বন্ধ থাকে না।

ঈদের ছুটির আবেদন জানিয়ে ব্রিটেনে অবস্থানরত এক হোটেল কর্মী বলেন, দেশটিতে বছরে ৩৬৪ দিন রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে। বন্ধ থা‌কে কেবল বড়‌দিনে (ক্রিসমা‌সের দিন)। ক্রিসমাসে আমাদের কাজ করতে আপত্তি নেই, তবু অন্তত রোজার ঈদে আমাদের ছুটি দেওয়া হোক।

দেশটিতে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসসহ বি‌ভিন্ন স্কুল ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও ব্যতিক্রম ঘটে কেবল বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে। মালিকরা যখন ঈদের দিনে পরিবার-বন্ধু নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন, হোটেলে কর্মরতরা তখন রান্নাঘরে কিংবা বারের পেছনে কিংবা ওয়েটার হিসেবে কারও খাবার পরিবেশন করে দিন পার করেন। ঈদের আনন্দ তাদের কাছে কেবলই বাংলাদেশে রেখে যাওয়া স্মৃতি।

বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট কর্মীরা বহুদিন ধরেই ঈদের ছুটির দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে নিজেদের কোনও সংগঠন না থাকায় সম্মিলিতভাবে এই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি তারা। চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে তারা প্রতিবাদ জোরালো করতেও পারেনি।

ফ্রেন্ডস হেল্পিং সোসাইটি নামক এক প্রতিষ্ঠান রেস্টুরেন্ট কর্মীদের অধিকার প্রশ্নে লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ঈদের ছুটির দাবিতে মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছে তারা। সংগঠ‌নের সহ-সভাপ‌তি সাংবা‌দিক সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিনে ছুটি পাওয়া প্রত্যেক মুসলমানের ধর্মীয়, নাগরিক, আইনি ও মানবিক অধিকার। তবে ব্রিটেনের মতো দেশেও এশিয়ানদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে দিনের পর দিন নানা অজুহাতে এই ছুটি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশি মালিকদের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঈদের দিনটিকে ছুটি ঘোষণার দাবি প্রতিষ্ঠায় বি‌ভিন্ন সামাজিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে এলেও মালিকদের টনক নড়েনি। বিভিন্ন মা‌লিক সংগঠন এ ব্যাপারে কথা বলতেই নারাজ। সেখানকার মালিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইউকে’র সভাপতি মোস্তফা কামাল ইয়াকুব বলেন, ঈদের দিন রেস্টুরেন্ট খোলা থাক‌লেও কর্মীরা বিকাল পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই ছুটি ভোগ করতে পারেন।

ছুটির ব্যাপারে মালিক সংগঠনগুলোর দিক থেকে কোনও বাধ্যবাধকতা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। কেউ বন্ধ রাখলে স্বাগত জানা‌চ্ছি। তবে জোর করার ক্ষমতা আমাদের নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড