• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মানুষের দেহ থেকে জৈবসার উৎপাদনকে বৈধতা দিল যুক্তরাষ্ট্র

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ মে ২০১৯, ১৪:৩৭
জৈবসার
মানুষের দেহাবশেষ থেকে উৎপাদিত জৈবসার। (ছবিসূত্র : নিউ ইয়র্ক পোস্ট)

মৃত ব্যক্তির দেহাবশেষ থেকে জৈবসার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এমন ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটাই প্রথম। গত মঙ্গলবার (২১ মে) রাজ্যের গভর্নর জে ইন্সলে মৃত মানুষের দেহ সৎকারে ‘প্রাকৃতিক জৈব’ পদ্ধতি বিষয়ক একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জৈব সার উৎপাদনের অংশ হিসেবে প্রতিটি মৃতদেহকে এ পদ্ধতিতে কাঠের কুচি ও খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে রেখে দেওয়া হবে। এতে করে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা উন্নত জাতের সারে পরিণত হবে।

এ দিকে রাজ্যের সিয়াটল-ভিত্তিক পিপলস মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক নোরা মেনকিন বলেছেন, ‘এই পদ্ধতির মাধ্যমে মৃত্যুর পর আমাদের প্রত্যেকের শরীরকে একটি অর্থপূর্ণ কোনো কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’

তাছাড়া এসব মৃতদেহকে জৈব সারে রূপান্তরের মাধ্যমে সৎকার করাকে শবদাহ কিংবা কবর দেওয়ার চাইতে বেশি প্রকৃতি বান্ধব বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের দাবি, শবদাহ অথবা কবর দেওয়া মাটিকে দূষিত করে। শুধু তাই নয়, কফিনগুলো দীর্ঘ সময় যাবত মাটির নিচেও জায়গা দখল করে রাখে।

ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগটির পৃষ্ঠপোষক সিয়াটলের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেমি পেডারসেন বলেন, ‘কোনো লোকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতি বা মাটিকে এত ভারী বোঝা দেওয়াকে কখনই আমরা মেনে নিতে পারি না। যা একদমই অনুচিত।’

মরদেহকে সারে রূপান্তর বিষয়ক সংগঠন রিকম্পোজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাটরিনা স্পেড বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক করার সময় প্রথমে এই মৃতদেহকে জৈব সারে রূপান্তরের ধারণাটি পাই। কেননা বহু যুগ ধরে কৃষকরা এভাবেই পশুর মরদেহ থেকে সার উৎপাদন করে আসছেন।’ 

অপর দিকে স্পেডের দেওয়া এই ধারণাকে বাস্তবে পরিণত করতে গত বছর ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ পাওয়া ছয়টি মানবদেহ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে যা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জৈব সারে রূপান্তর করা হয়।

যদিও রিকম্পোজের ওয়েবসাইটে এই মৃতদেহ সৎকারের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে লেখা হয়, ‘আমারা রিকম্পোজিশনের মাধ্যমে মরদেহগুলোকে সারে বদলে দিই, যাতে করে সকলে মৃত্যুর পরেও নতুন প্রাণের সেবা করতে পারে। কেননা সেবাই মানুষের ধর্ম।’

আরও পড়ুন :- মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা : কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের পথে চীন

তবে ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগের ফলে অনেকের কাছ থেকে ইতোমধ্যে প্রশংসার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও পেয়েছেন বলে জানান সিনেটর পেডারসেন। তাছাড়া অনেকে এটিকে জঘন্য এবং ধর্মের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেছেন। যদিও পুরো বিষয়টি যথাযোগ্য মর্যাদার এবং সম্মানের সঙ্গে করা হবে বলেও সকলকে আশ্বস্ত করেছেন পেডারসেন।

সূত্র : নিউ ইয়র্ক পোস্ট

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড