• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা ঘোষণা : হুয়াওয়ের পাল্টা হুমকি

  জুবায়ের আহাম্মেদ ১৬ মে ২০১৯, ১৫:৪৫

ট্রাম্প
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম রক্ষা করতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

‘বিদেশি প্রতিপক্ষ’ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম রক্ষা করতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কোম্পানিগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে বাইরের দেশের টেলিকম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এক অধ্যাদেশে গত বুধবার ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন। অধ্যাদেশে নির্দিষ্ট করে কোনো কোম্পানির নাম উচ্চারিত না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি আর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে এর পুরোটাই চীন ভিত্তিক টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়েকে লক্ষ্য করে হাতে নেয়া।

যদিও চীনের কোম্পানি হুয়াওয়ে দাবি করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবসা বন্ধে ট্রাম্প নিজেই মার্কিন গ্রাহক এবং কোম্পানিগুলোর জন্য ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলছেন। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একাধিক মিত্ররাষ্ট্র প্রথমবার এই মর্মে আশঙ্কা প্রকাশ করে, চীন হয়তো তাদের গোপন নজরদারির ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে পণ্যের দ্বারস্থ হতে পারে। অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসন এবং হুয়াওয়ে নিয়ে দ্বন্দ্ব এবারই প্রথম না। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর প্রতি এরইমাঝে হুয়াওয়ে ‘ফাইভ জি’ নেটওয়ার্ক পরিহার করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ হুয়াওয়েকে সম্প্রতি ‘এনটিটি লিস্ট’ এ লিপিবদ্ধ করেছে। এর আওতায় বাইরের কোনো কোম্পানি মার্কিন সরকারের সরাসরি অনুমতি ব্যতীত যেকোনো প্রযুক্তি দেশটির কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে সক্ষম হবে না। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যকার উত্তেজনা আরও নাজুক অবস্থায় চলে যাবে। যা এরইমাঝে গেল সপ্তাহে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আরও বেশি হুমকির মাঝে পড়েছে।

বিগত কয়েকবছর ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য নিয়ে চীন মার্কিন দ্বন্দ্বে হুয়াওয়ে বেশ আলোচিত একটি নাম হিসেবেই বারবার উঠে আসছে ট্রাম্পের আচরণে।

অধ্যাদেশের ভাষ্য

হোয়াইট হাউজের দেয়া সূত্র অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা ‘সকল প্রকার বিদেশি প্রতিপক্ষ থেকে রক্ষা করার জন্য যারা সক্রিয়ভাবে এবং নিয়মিত হারে মার্কিন টেলিকমিউনিকেশনের গঠনতন্ত্র আর সেবার মান দুর্বল করে তুলছে তাদের হাত থেকে মার্কিনিদের রক্ষা করবে।’ এই অধ্যাদেশের ফলে মার্কিন প্রশাসনের বাণিজ্য বিভাগের সেক্রেটারি ‘জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে অবাঞ্চিত ঝুঁকি রোধে যেকোনো প্রকার ক্রয় বিক্রয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ করার ক্ষমতা লাভ করবেন বলেও নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান অজিত পাই। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ ‘আমেরিকার নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ফেডারাল সদস্যদের হুয়াওয়ে পণ্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং মিত্ররাষ্ট্রের প্রতিও একই আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডও নিজ নিজ দেশে হুয়াওয়ে ‘ফাইভ জি’ মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

হুয়াওয়ের প্রতিক্রিয়া

হুয়াওয়ে ইতোমধ্যেই জানিয়েছে তাদের কার্যক্রম কোনোভাবেই কোনো হুমকি নয়। যেহেতু এটি চায়না সরকার থেকে একেবারেই স্বাধীন। অধ্যাদেশের বিপরীতে কোম্পানিটি জানিয়েছে ‘হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই সুরক্ষিত বা শক্তিশালী করবে না’। ‘এর পরিবর্তে এটি কেবলই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল কিছু বিকল্প এবং ফাইভ জি প্রযুক্তি থেকেই পিছিয়ে রাখবে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এবং সাধারণ গ্রাহকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

গত মঙ্গলবার হুয়াওয়ে চেয়ারম্যান লিয়াং হুয়া তারা সরকারের সাথে লন্ডনে এক বৈঠকে ‘গুপ্তবৃত্তি নয় শীর্ষক চুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন’ কারণ ফাইভ জি ব্যবহার উপযোগী সকল হুয়াওয়ে পণ্যের বিপরীতেই বর্তমানে সতর্ক বার্তা বেড়ে চলেছে।

চীন মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধে এর প্রভাব

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবশেষ সিদ্ধান্ত চীনের সাথে সম্পর্কে নতুন আগুন উস্কে দিতে পারে। বাণিজ্য যুদ্ধের কবলে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত এই সম্পর্কে নতুন দিক হতে পারে ট্রাম্পের এই জরুরি অবস্থা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ২০১৬ সালে তার ক্ষমতায় আসার পূর্বে চীনের বাণিজ্য নীতি নিয়ে কড়া অভিযোগ করেছেন। এর ফলাফল হিসেবে গত শুক্রবার মার্কিন বাজারে চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক ২০০ বিলিয়নে বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। অবশ্য এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীনও মার্কিন পণ্যে শুল্ক আরোপ অব্যাহত রেখেছে। যদিও এতে করে শেয়ার বাজারে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। আগামী মাসে দুই প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠককে কেন্দ্র করে এখনো চাঙ্গা আছে দেশ দুটির শেয়ারবাজার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সামিটে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং এর সাথে মুখোমুখি সাক্ষাতের জন্য আগ্রহী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং জানিয়েছেন, দুইজনই ‘বিভিন্ন মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।'

ওডি/এএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড