• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

একই মঞ্চে চিরশত্রু মায়াবতি-মুলায়াম

মুলায়ম মোদীর মতো ভণ্ড নন : মায়াবতী

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:০৪

ভারতের লোকসভা নির্বাচন
একই মঞ্চে মায়াবতী (বামে), মুলায়াম সিং যাদব (মাঝে) এবং অখিলেশ যাদব (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের চিরশত্রু মায়াবতী ও মুলায়াম সিং যাদব একসঙ্গে মঞ্চে উঠে রাজ্যসহ দেশের সব মানুষকে অবাক করে দিয়েছে। প্রায় ২৪ বছর আগে লক্ষ্ণৌ গেস্ট হাউসে মুলায়াম সিং এর সমাজবাদী পার্টির কর্মীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছিলেন মায়াবতী। তারপর থেকেই ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করে আসছিলেন এই দুজন।

তবে, লোকসভা নির্বাচনের আগে পুরনো তিক্ততা ভুলে জোট করেছে দুটি দল। আর শুধু তাই নয় শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) উত্তর প্রদেশের মৈনপুরীতে একসঙ্গে জনসভা ও করলেন মায়াবতী এবং মুলায়ম সিং। ছিলেন অখিলেশ যাদবও। শুধু এক মঞ্চে হাজির থাকা নয়, মুলায়ম সিং যাদবের হয়ে প্রচার করলেন মায়াবতী।

জনসভায় মায়াবতী বললেন, মুলায়ম মোদীজির মতো ভন্ড নন, তিনি প্রকৃতই পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষের নেতা। রাজনীতিতে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবতে হয়। মুলায়ম সিং যাদব সবসময় চেয়ে এসেছেন যাতে মহিলারা কোনও ভাবেই নিজেদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন।

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির এই বিরল দৃশ্য বৃহত্তর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এমন ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট বাধা দলগুলির মনোবল বাড়বে বলে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের বিশ্বাস। জনসভার শুরু থেকেই মুলায়ম এবং মায়াবতীকে পাশাপাশি বসতে দেখা যায়।

মুলায়াম সিং তার দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে মায়াবতীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার আহ্বান করেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, মায়াবতীজিকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আমি চিরকাল তাঁকে শ্রদ্ধা করে এসেছি।

এবারও সমাজবাদী পার্টির স্থায়ী আসন মৈনপুরী থেকেই নির্বাচনে লড়ছেন মুলায়ম। সেখানে মায়াবতীকে দিয়ে প্রচার করানোর মূল উদ্দেশ্যই বৃহত্তর ক্ষেত্রে বার্তা দেওয়া। যাতে অন্যত্র দুটি দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে সেই পথই সুগম করলেন দু'দলের শীর্ষ নেতারা। তবে, এই প্রথম নয় এর আগেও জোট করেছিল এই দুটি দল।

১৯৯৫ সালে সেই জোট ভেঙে যায়। সে সময় সমাজবাদী পার্টির সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়ার কথা ভাবছিলেন মায়াবতী। বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এমনই সময় ঘটে যায় লক্ষ্ণৌ গেস্ট হাউস কাণ্ড। তারপর থেকেই আলাদা হয়ে যায় দুটি দলের পথ।

যতদিন পর্যন্ত মুলায়ামের হাতে দল ছিল, ততদিন মায়াবতীর সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগই অসম্ভব ছিল। অখিলেশ দায়িত্বে আসার পর মায়াবতীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন আর এখন উত্তর প্রদেশ এই দুজনকে বুয়া এবং বাবুয়া বলে সম্বোধন করা হয়। লোকসভা নির্বাচনের জোট করার আগে দুটি দল কয়েকটি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে এক সঙ্গে লড়াই করে এবং তাতে কাইরানা থেকে শুরু করে গোরক্ষপুর এবং ফুলপুরে বিজেপিকে হারাতেও সক্ষম হয় তারা।

ওডি/এসএমএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড