• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

দিনে ১০০ কোটি রুপির বেশি লেনদেন

সপ্তাহ না পেরোতেই ২৫০০ কোটি রুপির সম্পদ জব্দ

  অধিকার ডেস্ক    ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০৯

ভারতের লোকসভা নির্বাচন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচনের ব্যয় ইতিহাসে শুরুর আগেই স্থান করে নেয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনেও রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে দেশটি। এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলো এখন পর্যন্ত নগদ অর্থ, মদ, মাদক দ্রব্য, স্বর্ণ এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ জব্দ করেছে। ভোট শুরুর এক সপ্তাহও হয়নি এর মধ্যেই জব্দ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপির সম্পদ, যা ইতোমধ্যেই ২০১৪ সালের সম্পূর্ণ নির্বাচনে ব্যয় হওয়া অর্থের বেশি।

এনফোর্সমেন্ট সংস্থাগুলো রোজ কমপক্ষে ১০০ কোটি রুপির সমমানের সম্পদ জব্দ করা হচ্ছে। এসব জিনিস বিলাতে অপরাধীরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে এবং ফ্ল্যাশিং লাইটযুক্ত দিয়ে যানবাহনে নগদ অর্থ বহনে ব্যবহার করে এবং ভোটারদের আকর্ষণের জন্য লাঞ্চ বক্সগুলোতে হ্যান্ডআউটগুলো দেয়।

অবৈধ অর্থের সন্দেহ থাকলে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক, নজরদারি দল এবং প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিমানবন্দর, মহাসড়ক, রেলওয়ে স্টেশন, হোটেল ও খামার বাড়িগুলোতে হানা চালাচ্ছে। ন্যায্য ভোট নিশ্চিত করার জন্য সংস্থাগুলো আর্থিক দালাল, নগদ কুরিয়ার এবং ঘুষের দালালদের ওপর নজর রাখছে। বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করা যানবাহন এবং বাসগুলোতে উঠে ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখছে।

ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভি এস সাম্পাথ বলেন, 'এটি একটি বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বলেই অনুমান হচ্ছে। এটি একটি জাতীয় ব্যাধি। নীতি এবং প্রোগ্রামগুলোর চেয়ে লোকেরা কীভাবে অর্থের ওপর আরও বেশি বিশ্বাসী হয়ে উঠছে এটি তারই প্রমাণ।'

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের এবং অপরাধীদের মধ্যে বিড়াল এবং ইঁদুর খেলা ঘটেছে কারণ ছোট হাতের হ্যান্ডআউটগুলো এমন একটি দেশের লোকেদের কাছে অনেক কিছু, যেখানে জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ এখনও ২ ডলারের চেয়েও কম উপার্জন করে।

ছবি : ব্লুমবার্গ

রাজনীতিবিদগণ নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয় সীমার মধ্যে থাকতে প্রার্থীদের পেট্রল, বিনা মূল্যে খাবার, ছাতা এবং টর্চের মতো হ্যান্ডআউট প্রদান করে। সর্বাধিক সাত মিলিয়ন রুপি বা জাগুয়ার শীর্ষ বিলাসি গাড়ি মডেলের সমমূল্য একেক প্রার্থী ব্যয় করতে পারবে। জনসাধারণের প্রচারের শীর্ষে রয়েছে, স্মার্টফোন থেকে ওয়াইফাই, সাইকেল থেকে প্রেশার কুকার সরবরাহ করা।

ভোট দেয়ার জন্য বা ভোট না দেয়ার জন্যে প্রার্থীর অর্থগ্রহণকে আইনত জরিমানা বা উভয়ই দণ্ডনীয় করা হয়েছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন কমিশন ১২০০ কোটি টাকার নগদ ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ করেছিল।

নির্বাচনি নজরদারি বিভাগের মুখপাত্র শেফালি সরান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো পূর্বে ভোটারদের তাদের পক্ষে ভোট দিতে শারীরিক ভীতি বা 'পেশি শক্তি' ব্যবহার করত, এখন তারা 'অর্থ ক্ষমতা' ব্যবহার করছে। নির্বাচন কমিশন ক্রমবর্ধমান অর্থের অপব্যবহার যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে। লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে কিন্তু একই সময়ে নির্বাচন কমিশন তার নজরদারিও বৃদ্ধি করেছে।'

ভোট কেনার এই প্রবৃদ্ধি নির্বাচনের ব্যয় বৃদ্ধিরও একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ। ভারতের এই নির্বাচন বিশ্বের ব্যয়বহুল নির্বাচনের স্বীকৃতি পেয়েছে। খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে বলে জানায় নয়াদিল্লি ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ।

ওডি/এসএমএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড