• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

ব্রেকিং :

সঙ্কট নিরসনে হাফতার-সিসির বৈঠক

সরকার-বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে বিধ্বস্ত লিবিয়া, নিহত ১২০

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:০১

লিবিয়ায় সংঘর্ষ
লিবিয়ায় সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে সরকারি বাহিনী। (ছবিসূত্র : দ্য পলিটিকো)

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে রাজধানী ত্রিপোলির কাছে চলে এসেছে। যে কারণে দেশটির সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী এই সংগঠনটি সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।

এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ১২০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক আহত হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। তবে এতে নিহতরা সকলে সৈনিক না সাধারণ নাগরিক তা এখন স্পষ্ট করে জানায়নি সংস্থাটি।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ এক প্রতিবেদনে জানায়, চলমান সংকটে দেশটিতে ইতোমধ্যে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি বেসামরিক বাস্তুচ্যূত হয়েছেন।

জাতিসংঘের সমর্থিত ন্যাশনাল অ্যাকর্ডের (জিএনএ) সামরিক সূত্র জানায়, বিদ্রোহী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সদস্যরা রাজধানীর ত্রিপোলির দক্ষিণ সীমান্তের নিয়ন্ত্রণে নিতে রবিবার সেখানে পৌঁছায়। আর সেখানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সেনাদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

od

লিবিয়ায় সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন বাসিন্দারা। (ছবিসূত্র : মিয়ামি হেরাল্ড)

এলএনএ সূত্রের বরাতে ‘আল-জাজিরার’ প্রতিবেদক মাহমুদ আবদেলহেদ ত্রিপোলি থেকে বলেছেন, ‘জিএনএ সদস্যরা আকাশে টহলরত এলএনএর একটি যুদ্ধ বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। যদিও বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার সময় এর পাইলট প্যারাসুট ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।’

এ দিকে সরকারি বাহিনীর দাবি, তারা আহত পাইলটের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিতে ত্রিপোলির দিকে যাত্রা শুরু করে বিরোধী হাফতার বাহিনীর সদস্যরা। তখন জাতিসংঘ সমর্থিত সেনারা বিরোধীদের দমনে বিমান হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১২১ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হন।

ডব্লিউএইচও এও জানায়, চলমান সংঘর্ষে উভয় পক্ষই স্থানীয় বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এবারের সংঘর্ষের কারণে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি লোক নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

যদিও জাতিসংঘের কার্যনির্বাহী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনওএচএচএ) দাবি, এতে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যা বেসামরিক এখনও সংঘাত প্রবল অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন।

od

সঙ্কট নিরসনে মিশরের প্রেসিডেন্ট এল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করছেন লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতার। (ছবিসূত্র : মিয়ামি হেরাল্ড)

দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফয়জ-আল-স্যারি বলেন, ‘ত্রিপোলির দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন। বিদ্রোহীরা জনসাধারণকে স্থানচ্যুত করার জন্যই এই সঙ্কটটি সৃষ্টি করেছে। যা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।’

অপরদিকে রবিবার (১৪ এপ্রিল) কায়রোতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেছিলেন বিদ্রোহী নেতা হাফতার।

পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ বলেন, ‘এই বৈঠকে হাফতার সরাসরি আক্রমণাত্মক কোনো কথা উল্লেখ করেননি। যে কারণে লিবিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থি গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রচেষ্টার জন্য মিশরের সমর্থন নিশ্চিত।’

আরও পড়ুন :- কোয়ালিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথে ফিনিশ বামপন্থীরা

এ বিষয়ে সিসি-হাফতার বৈঠক প্রসঙ্গে জাতিসংঘের লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, ‘দেশের অস্থিরতার অবসান ঘটানোর জন্য আমাদের এই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না।’

এর আগে গত ৪ এপ্রিল রাজধানী অভিমুখে রওনা দিয়েই ত্রিপোলির একশো কিলোমিটার দক্ষিণের শহর গারিয়ানের নিয়ন্ত্রণ নেয় হাফতারের (এলএনএ) সদস্যরা। তাছাড়া ২০১৪ সাল থেকে বন্ধ থাকা রাজধানীর একমাত্র বিমানবন্দরটিরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় দলটির সদস্যরা।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড