• সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সন্ত্রাসের কোন ধর্ম নাই

পশ্চিমাদের 'ইসলামোফোবিয়া', শান্তির ধর্মকে সন্ত্রাসে রূপান্তরের আদ্যোপান্ত

আজোভ ব্যাটালিয়ান, মুসলিমদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী সংগঠন

  এস এম সোহাগ ২৩ মার্চ ২০১৯, ১৯:২৯

ইসলামোফোবিয়া
শুধুমাত্র মুসলমান হওয়াতে প্রার্থনারত অবস্থায় নির্বিচারে মানুষ মারাকে এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। ছবি : সংগৃহীত

সভ্যতার শুরু থেকেই প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজের উচ্চ শ্রেণির মানুষের স্বার্থে নির্ধারণ করা কিছু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসছে। যত সভ্য, উদার কিংবা আধুনিক হোক না কেন, মানুষের মধ্যে সমাজের এই শ্রেণি বিদ্বেষ যে পরম সত্য ও বাস্তব তা আমরা ইতিহাস থেকে বরাবরই শিক্ষা নিয়ে থাকি। শিক্ষার কোনো শেষ নেই, এমনটা এজন্যেই বলা হয়ে থাকে হয়তো। স্বল্প কিছু মানুষের আরোপ করা বিশ্বাসগুলো একেকটা শিল্পের মতো, যার থেকে তারা কেবল মুনাফাই শোষণ করে না, কেড়ে নিতে থাকে মানবজীবন এবং মানবতা।

সমসাময়িক বিশ্বে সবচেয়ে বহুল পরিচিত এক তত্ত্ব হলো 'ইসলামোফোবিয়া'। বিশ্বে নানান জাতি, নানান বর্ণ, বিচিত্র সংস্কৃতি আর বিভক্ত ধর্মে পরিচিত মানুষ। যেখানে সবার একটা অভিন্ন পরিচয় আর তা হলো মানুষ, তারচেয়েও মুসলমান মানুষের বড় পরিচয় এখন সন্ত্রাসী হিসেবে, ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবে মানুষের পরিচয় ছাপিয়ে তাকে এক ধর্মান্ধ জাতি হিসেবে বিবেচনার শিল্পের প্রচলন এখন দারুণ অবস্থায় পৌঁছেছে। পশ্চিমা স্বার্থে ইসলামোফোবিয়া শিল্পের বাম্পার ফলন দেখা যায় আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে, এশিয়া থেকে আমেরিকা এবং সর্বশেষ ভৌগলিক অবস্থায় সর্ব দক্ষিণে থাকা অতি শান্তিপ্রিয় ভূখণ্ড নিউজিল্যান্ডে। 

চলতি শতকের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (ওয়ার অন টেরর) ঘোষণা করে, কি এক অলৌকিক কারনে এই যুদ্ধটা মুসলিম জাতির বিরুদ্ধেই সমাধিক খ্যাতি পেয়ে যায়। এভাবেই আজকের ক্রাইস্টচার্চের বীজ বপন হয়েছিল পেন্টাগনের গোপন কোনো কক্ষে, আধুনিক বিশ্বের মোড়লদের চকচকে হাতে। গেল শতকে ইহুদি হত্যার বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, মানবতার পক্ষে দুটা বিশ্বযুদ্ধে যারা যুদ্ধ করে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ছিনিয়ে নিয়েছিল, তারা এখন নয়া-ফ্যাসিবাদি, বর্ণবাদীতাকে প্রতিষ্ঠিত করায় মত্ত। ইসলামবিদ্বেষ, সদা সাদা শ্রেষ্ঠ, এই শিল্পকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যার ফলে কিছু মূর্খ বর্বর শিকারির হাতে পাখির মতো প্রাণ হারাতে হয়েছে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে প্রার্থনারত ইসলাম ধর্মের অর্ধশত মানুষকে।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের আগে-পরে আল-কায়েদানামক ইসলাম ধর্মের যে উগ্রবাদি সংগঠনের জন্ম হয়, তারপর থেকেই বিশ্ববাজারে বাড়তে থাকে ইসলামোফোবিয়ার চাহিদা, সর্বশেষ বিক্রিটা নিউজিল্যান্ডের মতো নিরাপদ রাষ্ট্রটিতেই হয়। মানুষের মধ্যে যে অসভ্য উগ্রতা শায়িত থাকে, বর্ণবাদের যে ধারণা শৈশব থেকে মানুষকে পণ্যের ন্যায় চিহ্নিত করতে শেখায়, সেই উগ্রতাকে উস্কে দিতে ইসলামোফোবিয়া খুবই কার্যকরি হাতিয়ার হয়ে ওঠে পশ্চিমা শেতাঙ্গ অভিজাত শ্রেণির কাছে। 

শান্তিপ্রিয় দেশে এমন নারকীয় ঘটনায় বিমর্ষ করে ফেলে দেশটির সব ধর্মের মানুষকে। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামোফোবিয়া শিল্প 

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এবং ইউসি বার্কলে সেন্টারের রেস অ্যান্ড জেন্ডারের ২০১৬ সালের এক রিপোর্ট অনুসারে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩২টি সংগঠন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অথবা ইসলাম ও মুসলিমঘৃণা প্রচারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য নিয়ে একটি 'অভ্যন্তরীণ কোর' গঠন করে। 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'

২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এই সংস্থাগুলি ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি পরিমাণে অ্যাক্সেস পেয়েছিল। নাথান লিয়ানের গবেষণা মতে, ইসলামোফোবিয়া ইন্ডাস্ট্রি (২০১২), 'বিশেষজ্ঞদের' একটি আদর্শগত ব্যান্ড এ পরিণত হয়। ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি নিউজ এজেন্সি দ্বারা নিয়মিতভাবে মুসলিম এবং ইসলামের সহিংস, নেগেটিভ ও স্টেরিওটাইপ প্রতিচ্ছবি প্রচার করা হতে থাকে।

বিশ্বে প্রতিটা ধর্মের কিছু মানুষের মধ্যেই উগ্রতা থাকে, সহিংসতা থাকে। সেখানে এই বিশেষ দল কেবল ইসলাম আর মুসলিমদের নির্দিষ্ট করে বাছাই করে নিয়েছে, মানুষের কাছে একে সন্ত্রাসের তকমা দেয়াটা সুচারুপূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মুসলিম-বিরোধী মনোভাবের এই পদ্ধতিগত প্রচারে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, অপব্যবহার এবং সহিংসতার প্রতিবেদনগুলি ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দেয়। শুধুমাত্র ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে জুনের মধ্যেই ইসলামোফোবিয়ার ৬০৮টি ঘটনার কথা জানায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেল মামা (মুসলিম বিরোধী হামলার পরিমাপ) এর প্রতিবেদনে। পরিস্থিতি এতই গুরুতর যে, গত বছর ইউরোপীয় কমিশন বিচার বিভাগের পরিচালক ইউরোপ মহাদেশজুড়ে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য একটি টুলকিট চালু করেছে।

ক্রাইস্টচার্চ হামলা বিশ্বকে জাগিয়ে তোলার একটি ডাক মাত্র, দূরবর্তী ডানপন্থী উগ্রবাদী দ্বারা সৃষ্ট বিপদ যে বাস্তব, তার ডাক। ১৫ মার্চ, যখন এক আত্মস্বীকৃত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি করে প্রার্থণারত ৫০ জন মুসলিমকে হত্যা করে আর সেই নারকীয় দৃশ্য ইসলাম বিদ্বেষী বার্তা অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে বিপদের জানান দেয়। 

ইসলাম, মুসলিমবিদ্বেষী ধর্মান্ধ, বর্ণবাদী অস্ট্রেলিয় এই খুনির ঘৃণা ইসলামোফোবিয়াকে স্পষ্ট করে দেয় বিশ্বের কাছে। যে শিল্পটি বাজারজাতকরণে একটি নৈতিক বাধা কাজ করতো মানুষের মধ্যে, তা ক্রাইস্টচার্চের খুনির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেটে যাওয়ার প্রমাণ মিলে। ইসলামোফোবিয়া বিশ্বে এখন স্বচ্ছ, বাস্তব এক সত্য। পশ্চিমা মোড়লরা 'ওয়ার অন টেরর'র নামে মুসলিম বিশ্বকে সামরিকভাবে যুদ্ধের বেশে ধ্বংস করতো, তা এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করে দিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়াই অমুসলিমরা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে সামরিক ঢঙ্গে মুসলিমকে মারা শুরু করেছে, ইসলাম আর সংখ্যালঘুদের ওপর যেখানে সেখানে আক্রমণ করছে।

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামোফোবিয়া ও উদ্বাস্ত তত্ত্বের সম্পর্ক 

পশ্চিমারা আবার দুভাগে বিভক্ত হয়ে আছে, একদল মার্কিনপন্থী তো অন্যদল রুশ। আরব বিশ্বেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি, তেল কিংবা এই শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সমর্থনের পক্ষপাত। কোনো না কোনো কারণে একেকটি ইসলামি রাষ্ট্রে হামলে পরেছে পশ্চিমা শাসকরা। উপনিবেশবাদ অনেক আগেই প্রাচীন তত্ত্বের কোটায় পড়ে গিয়েছে, নব্য-উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ, উদারতাবাদ, নব্য-উদারতাবাদ নামের নানান শিরোনামে সর্বদাই উচ্চ শ্রেণি নিম্নশ্রেণিকে শোষণ করছে। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার নামে একেকটা দেশ গৃহযুদ্ধের নামে ধ্বংস হতে থাকে, এই প্রক্রিয়ায় যাদের প্রাণ যায় তারা হয়তো বেঁচে যায়। যারা জীবিত থাকে তারা স্বজন হারিয়ে কিংবা পরিবারসহ নিজভূমি ছেঁড়ে পাড়ি জমায় উন্নত, উদার বিশ্বে, আর তারাই পরিচিতি পায় উদ্বাস্তু হিসেবে। পরিসংখ্যান না ঘেঁটেও বলে দেয়া যায় চলমান শতকের সব যুদ্ধক্ষেত্র ছিল একেকটা মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র, স্বভাবতই উদ্বাস্ত ও হয়েছে এসব দেশের নিপীড়িত মুসলিমরা।

মানবতা রক্ষার্থে পশ্চিমারা নিজদেশে এই উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়। জোর করেই হোক কিংবা চক্ষুলজ্জায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আহত, ক্ষত-বিক্ষত এই মুসলিম শরণার্থীরা সেই পশ্চিমাদের কাছেই আশ্রিত হচ্ছে যাদের হাতে ইসলামোফোবিয়ার প্রচলন। কাকতালীয়ভাবে না, অনেকটা স্বচ্ছভাবেই এই যুদ্ধে সৃষ্ট মুসলিম শরণার্থীরা সেসব দেশেই আশ্রয় নেয়। যেখানকার নাগরিকদের মনস্পটে তাদের মতমোড়লেরা 'ওয়ার অন টেরর' নামের এক আদর্শের বীজ আগে থেকেই রোপন করে যত্ন নিয়ে বড় করে তুলছে। 

ইসলামি জঙ্গি থেকে মুসলিম অভিবাসী, যেন আধুনিক, শিক্ষীত,মানসিক ভারসাম্যহীন সভ্য শেতাঙ্গ অমুসলিমদের সামনে শিকারের মতো আবির্ভূত হয়। জঙ্গিবাদ আর অভিবাসী দুটো বিষয়ের মধ্যেই সাধারণ একটি বিষয় হলো ইসলাম। একটা ধর্মকে কেন্দ্র করে মানুষের ইন্দ্রিয়ের মধ্যে বিদ্বষী শিল্পকে ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে সমাজের নগণ্যসংখ্যক শোষকশ্রেণি। 

ব্রিটিশ গণমাধ্যম 'দা গার্ডিয়ান' এ বলা হয়েছে, ইসলামোফোবিয়া আর কোন বিভ্রম নয়। ক্রাইস্টচার্চে মুসলমানদের ওপরে নারকীয় হামলাকারীকে কোন নিঃসঙ্গ কিংবা পরিণাম চিন্তাশীল বলে চালানোর উপায় নেই। সমাজের কিছু বিচ্ছিন্ন মানুষের কার্যক্রমের চাঁদরে এই ভয়াবহ সংকটকে ঢেকে রাখার সুযোগ আর নাই। এটা একটা হুমকি, যা এখন মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে, সবাই মিলে অনতিবিলম্বেই তা প্রতিহত করতে হবে। না করতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে পথে পথে ধর্মযুদ্ধ হবে, অমুসলিমদের হাতে মুসলিম, মুসলিমদের হাতে অমুসলিমরা মরবে।

আজোভ ব্যাটালিয়ান ও আল-কায়েদা 

বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত অনেক ষড়যন্ত্রতত্ত্বে আল-কায়েদা, আল-শাবাব কিংবা আইএসকে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার স্বার্থে সৃষ্ট সংগঠন বলা হয়। যার বাস্তব প্রমাণ সরাসরি সাধারণের কাছে পৌঁছায়নি কিংবা পৌঁছাতে দেয়া হয়নি। তবে তা যাই হোক, আল-কায়েদাকে পুঁজি করে মুসলিমদের একটি জঙ্গিবাদী ধর্মীয় জাতি হিসেবে বিশ্বে চিহ্নিত করতে সফল হয়েছে পশ্চিমারা। এটা এমন সুসংগঠিত প্রোপাগান্ডা, যে স্বয়ং মুসলিমরাও আজকের দিনে নিজেদেরকে অবলীলায় জঙ্গিবাদী কিংবা উগ্র জাতি হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত। 

আল-কায়েদা কিংবা ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারীর, মানব হত্যায় দুয়ের একই বেশ। ছবি : সংগৃহীত

তবে, এসব জঙ্গি সংগঠন তো কেবল মুসলিমদের অংশগ্রহণে সংগঠিত, এদের হিংস্রতাকেই বানানো হয়েছে ইসলামের প্রচ্ছদ। সেই প্রচ্ছদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অমুসলিম শেতাঙ্গ বর্বরের মিল খুঁজে পেয়েছে 'দা সোফান সেন্টার' নামের একটি সংগঠন। সেখানে বলা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারী ও আজোভ ব্যাটালিয়ন নামক ইউক্রেনের অতি উগ্রজাতীয়তাবাদী, শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী আধা-সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক রয়েছে। হাস্যকরভাবে এই ডানপন্থী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও ইসলামের নামে জিহাদি গোষ্ঠীর মধ্যে মতাদর্শ, কৌশল এবং নিয়োগ পদ্ধতির মিল রয়েছে, অথচ ধর্মীয় দিক থেকে দুটো আলাদা।

ক্রাইস্টচার্চের খুনি শেতাঙ্গকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ সত্যিই শেষ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে সে বিশ্বের কাছে তার ঘৃণার ইশতেহারের মাধ্যমে চলমান হুমকির বাস্তবিকতাকে প্রমাণ করেছে। ৫০জনকে গুলি করে হত্যার সময়ে মাথায় ছিল তার ক্যামেরা, ভিডিও গেইমের মতো মানবসন্তানদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়েও দিয়েছে এই সন্ত্রাসী। ঠিক যেভাবে আইএস এবং আল-কায়েদাকে দেখা গিয়েছে মানুষ হত্যা করে তার ভিডিও সম্প্রচার করতে, যার সঙ্গে থাকে একটা বার্তা। দুটো একই ঘরানার। হিংস্রতার জন্ম একই স্থান থেকে যার প্রকাশেও রয়েছে সাদৃশ্য, এরপরও বিশ্বে শুধু মুসলিমরাই সন্ত্রাসী, এরচেয়ে হাস্যকর তত্ত্ব থাকতে পারে না।

মসজিদে হামলাকারী তার ইশতেহারে বহুদেশ ভ্রমণের মধ্যে ইউক্রেনের কথাও উল্লেখ করেছে। আক্রমণের সময় তিনি যে ফ্লাক জ্যাকেট পরেছিলেন তার মধ্যে একটি প্রতীক ছিল, যা সাধারণত অজোভ ব্যাটালিয়ন দ্বারা ব্যবহৃত হয়।

ইউক্রেনের বাইরে তার এমন উগ্রবাদী আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা মানুষের চিন্তাকেও ছাড়িয়ে যায়। ইশতেহারে তিনি নরওয়ের আরেক ডানপন্থি সন্ত্রাসী আন্দ্রে বিয়ারিং ব্রেইভিকের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার এবং বলকানসহ ইউরোপজুড়ে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধের প্রতীকসম সাইটগুলো ভ্রমণ করার দাবি করেন।

হামলার ভিডিওতে তাকে একটি গান শুনতে দেখা যায়, যেখানে সার্বিয়া-বসানিয়া যুদ্ধের যুদ্ধাপরাধী রাদোভান কারাদজিককে গৌরবান্বিত করে এবং তার বন্দুকে বর্ণবাদী এবং বিশ্বব্যাপী সাদা আধিপত্যবাদী শ্রেণীর নাম বহন করেছিল।

ছবি : সংগৃহীত

আজোভ ব্যাটালিয়ন ট্রান্সন্যাশনাল রাইট উইং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিস্ট (আরডব্লিউএইচ) নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বেড়ে উঠছে। এই গোষ্ঠীটি নিজস্ব 'ওয়েস্টার্ন আউটরিচ অফিস' পরিচালনা করে, যা বিশ্বব্যাপী এমন সহিংস ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে হিংস্র সংস্থার লোকেদের আকর্ষণ করতে সহায়তা করে এবং এদের প্রশিক্ষণের জন্যে বিদেশী যোদ্ধাদের নিয়োগদান করে। 

আউটরিচ অফিসের অপারেটররা সংগঠনটিকে প্রচার করার জন্য এবং সাদা আধিপত্যবাদি মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে সমগ্র ইয়রোপ ভ্রমণ করে। ২০১৮ সালের জুলাইতে, জার্মানির থুরিঙ্গা প্রদেশে ডানপন্থী এক রক উৎসবে জার্মান ভাষায় লেখা আজোভ ব্যাটালিয়নে যুক্ত হতে আমন্ত্রণপত্র বিলানো হয়। আমন্ত্রণপত্রে 'বিলুপ্তি থেকে ইউরোপকে রক্ষার জন্য' এবং 'সেরাদের দলে যোগদান করতে' আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এমন ঘটনা মানুষ জানে ও না তেমন, পশ্চিমা মিডিয়ায় জানানো হয়নি এসব, অথচ একদল মুসলিম একই কাজ করলে প্রভাবশালী মিডিয়াগুলো চাউর করে সংবাদ প্রকাশ করতো। তার মানে, এই নয় যে উগ্রবাদ ভালো। উগ্রবাদ ক্ষতিকর তা সব ধর্মের জন্যেই একইভাবে সত্য। 

তবে, মুসলিমদের যেকোন ক্ষুদ্র সহিংসতাকেও যত সহজে জঙ্গিবাদের তত্ত্বে ফেলা যায়, অমুসলিমদের এমন নারকীয় কাণ্ডেও তাদেরকে সন্ত্রাসী বলতে বিশ্ব মিডিয়ার অনীহা দেখা যায়। বর্ণ, ধর্ম আর শ্রেণিভেদের পক্ষপাতে মানবতাকে গলা টিপে হত্যা করতেও বাধে না সুশীল সমাজের এই প্রতিনিধিদের।

কেবল পশ্চিমা বিশ্বেই নয়, ইসলামোফোবিয়া বৈশ্বিক সংকটে উপনীত

বিশ্বে পশ্চিমা শিক্ষিত পণ্ডিতদের প্রচারিত বিচিত্র সমাজের ধারণা যে অকার্যকর হয়ে পরেছে, তা দাতব্য সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২২শে মার্চের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। সেখানে বলা হয়েছে, নিজেদের সঠিক প্রমাণ করতে শেতাঙ্গ ধর্মান্ধরা এখন হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। আমরা কেবল শোক প্রকাশ করে পরবর্তী নারকীয়তার জন্যে অপেক্ষা করে থাকতে পারি না। অস্ট্রেলিয়ার এই হেটার ক্রাইস্টচার্চে যে নৃশংসতার সৃষ্টি করেছে তা বিশ্বে ভয়াবহ এক পরিণতির চূড়ান্ত সতর্কতা মাত্র। 'স্পষ্টত, এটা শুধুমাত্র পশ্চিমা সমাজের ব্যাপার নয়। অনেক মুসলিমই ক্রাইস্টচার্চকে বিশ্বে বিপজ্জনক সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়ার ক্ষুদ্র একটা অংশ হিসেবেই দেখছে।'

মিয়ানমারে কয়েক দশক ধরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তৃতা ও অত্যাচারের পর এক জাতিগত নিধনযজ্ঞ অভিযান চালায় ২০১৭ সালে। যাতে, প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী চীনের কাছ থেকে ব্যাপক কূটনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছে, যে দেশটিতেও প্রায় ১০ লক্ষাধিক উইঘুর সংখ্যালঘু মুসলিম, কাজাখস এবং অন্যান্য মুসলিমপ্রধান সংখ্যালঘু জাতিকে দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশে 'শিক্ষার মাধ্যমে রুপান্তর' শিরোনামের এক শিবিরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এটা আমাদের সময়ের এমন অনেক গল্প, যা একটা জাতিকে মহাকাব্যের স্তরে নিয়ে গিয়ে অধীনস্ত করে।

ছবি : সংগৃহীত

এদিকে, ভারতের ঐতিহাসিক বহু বিশ্বাসের চরিত্রটি ২০০২ সালের গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এক আঘাতের শিকার হয়। যে আঘাতে শত শত মুসলমান মারা গিয়েছিল। হিন্দু জাতীয়তাবাদের মোদির ব্র্যান্ড ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে ক্রমবর্ধমান ঘটনা যেমন সম্প্রতি 'গরু সম্পৃক্ত সহিংসতা' ঘটেছে।

ব্যালট বক্স ইসলামোফোবিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা লাভ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে ট্রাম্পের 'মুসলিমদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সম্পূর্ণ সমাপ্তি'র প্রচার অভিযান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থির থাকবে যতক্ষণ না দেশের প্রতিনিধিরা "কী ঘটছে তা বের করতে পারে"। 

সম্ভবত, তার সব বুদ্ধিমত্তার সত্ত্বেও, তিনি এখনও এটি উপলব্ধি করতে পারেনি। ট্রাম্প ইসলামফোবিয়ার একটি প্রজন্মের পেছনে এসে পৌঁছেছিল যা আফগানিস্তান ও ইরাকের বিতর্কিত যুদ্ধগুলির সাথে হাত মিলিয়েছিল, যা আমাদের ভুলে যেতে দেয় না যে, এই যুদ্ধের ফলে লাখ লাখ মুসলমানের মৃত্যু হয়েছে। 

'এই হিংস্রতার বৈশ্বিক চিত্র যখন স্পষ্ট, তখনও অনেক মুসলিম নিজেদের যুদ্ধবাজ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করলে খুব একটা আশ্চর্য হবার কিছু নেই। বিশেষত, এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেও তাদেকেই যখন প্রকৃত আক্রমণকারী কিংবা উগ্র বিপজ্জনক বলা হচ্ছে।'  

ফের কোন ধর্মযুদ্ধ হতে যাচ্ছে কি!

এটি কোন ধর্মীয় যুদ্ধ না, যেখানে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রাণ হারিয়েছে, আটক রয়েছে বা অন্যান্য বহুবিধ উপায়ে দমন করা হয়েছে, ধর্মীয় যুদ্ধের নামে  তাদের এইভাবে বিচার করা যায় না। এটা নতুন ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ না। অপরাধীরা একে ইস্যু করার জন্যে খুব বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। খ্রিস্টানরাও চীন, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায়ও নির্যাতিত হচ্ছে। খ্রিস্টান ও মুসলিম ফিলিস্তিনিরা তাদের অঞ্চলে ইজরায়েলের দখলদারিত্বের প্রভাবে প্রতিনিয়তই সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। 

এদিকে, ফ্রান্স এবং জার্মানি গত বছরে ইহুদিবিদ্বেষের তীক্ষ্ণ উত্থানের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পূর্ব ফ্রান্সের হেরলিসহেম এবং কুইৎসেনহেমের ইহুদি গোরস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে গত শতকে হিটলারের বিদ্বেষের চিত্রগুলি কে ভুলে যেতে পারে? ঠিক একইভাবে এই শতকেও কি এমন এক 'ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' স্থান করে নিবে? সৌদি আরবে কোন গীর্জা নেই, তার মানে কি দাঁড়াবে, যুবরাজ সালমান তার দেশে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ওপর এমন আচরণ করবে?, যেমনটি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে শি জি পিং উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর করেছে। 

ছবি : সংগৃহীত

এমনটা হতে পারে না। ধর্মকে কেন্দ্র করে মানুষের হাতেই মানবতার বিনাশ। 'আমরা যদি কেবলমাত্র আন্তঃধর্ম সংলাপ ও আরও মসজিদ খুলে থাকি, তবে সাম্যতা অর্জন হবে, এমনটা ভুল। এই হুমকি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের স্বাধীনতা, সমতা ও সবাইকে শ্রদ্ধার ধরণে মৌলিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন।'

একদিকে আল-কায়েদা, তালিবান, হিজবুল্লাহ, আল-শাবাব, আইএস এর মতো জঙ্গিবাদ একে একে বিশ্বে দাপট দেখাতে শুরু করে। অন্যদিকে এই উগ্র কাঁচামালকে পুঁজি করে সাদ্দাম হোসেনের ইরাক, গাদ্দাফির লিবিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে লাখ লাখ মুসলিম প্রাণ কেড়ে নেয়ার বৈধতাকে শৈল্পিক বিদ্বেষে রুপ দিতে থাকে পশ্চিমারা। 

দীর্ঘকাল ধরেই নিউজিল্যান্ডের মাসসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল স্পুনলি দেশটিতে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী জাতীয়তার রাজনীতির ব্যাপারে সতর্ক করে আসছিলেন। ক্রাইস্টচার্চ দুর্ঘটনার আগের সাম্প্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যালঘুরা কিভাবে ঘৃণিত এবং অপব্যবহারের সম্মুখীন হয়েছিল তা রেস রিলেশন্স কমিশনার সুসান দেবয় গ্রাফিকালভাবে বর্ণনা করেছেন। 

যতবার মুসলমানদের ওপর হামলা হয়েছে ততবার আমরা দূরবর্তী ডানপন্থীদের জনপ্রিয় মুসলিম বিদ্বেষী মতবাদকে প্রমোট করেছি, বলে দাবি করেন রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের একজন সিনিয়র সহযোগী এবং ইউরোপের মুসলমান : 'অন্যান্য' ইউরোপীয়দের লেখক এইচ এ হেলিয়ার। 'ইউরোপীয় সভ্যতার জন্য মুসলিমরা হুমকি', এই আদর্শ এমন এক আবহের সৃষ্টি করে যা ডানপন্থিদের উগ্রবাদী চেতনাকে তুলনামূলক কম ঝুঁকি হিসেবে ফুটিয়ে তোলে। 

যতবার আমরা মুসলিমবিরোধী ধর্মান্ধ তত্ত্বকে বিশ্বাস করছি বা ইসলামোফোবিয়ার পরিণতির ভয়াবহতা হ্রাস করেছি, ততবার আমরা সমাজে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণাকে উদ্বুদ্ধ করেছি। পশ্চিমা বিশ্বের প্রচলিত ইসলাম বিদ্বেষী চেতনা সমগ্র বিশ্বকে মুসলমানদের প্রতিকূল করে ফেলেছে। প্রতিটা দেশের প্রতিটা অমুসলিম মানুষের কাছে মুসলিম নিষ্পাপ শিশুটিকেও একটা সন্ত্রাসের রুপে দেখা হয়। 

এমন চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করে একটা নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের যত না ক্ষতিসাধন করা যায়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়ে যায় মানবতার। মানুষের চেয়েও ধর্ম, বর্ণ, গোত্র কিংবা জাতীয়তাকে মুখ্য করে মানবজীবন কেড়ে নেয়ার ভেতর কখনও শ্রেষ্ঠত্ব থাকতে পারে না। মানুষের কাছে যারা ইসলামকে সন্ত্রাসের সমার্থক বানিয়েছে, তাদের ওপরেই এই তত্ত্ব একসময় ভারী হয়ে উঠবে, নয়তো বিশ্ব থেকে মানবজাতি বিলুপ্ত হবে অচিরেই। বিদ্বষ, ঘৃণা, ক্ষোভ কখনও মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি, এসব থেকে কেবল সহিংসতারই জন্ম হয়েছে, যা বন্ধ করতে না পারলে ক্রাইস্টচার্চের শাখা-প্রশাখা ছড়াতে খুব একটা সময় লাগবে না। 

ছবি : সংগৃহীত

হিটলারের হাতে মিলিয়ন মিলিয়ন ইহুদি নিহত হবার পরে যে ইজরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়, তার প্রভাবে বিশ্বে শান্তি কতটা ভয়াবহভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে তা এখন স্পষ্ট। আজকের ক্রাইস্টচার্চের পুনরাবৃত্তি একসময় হয়তো এমন এক পরিস্থিতির দাঁড় করাবে, যা বিশ্বের সমগ্র অঞ্চলের শান্তির বিনাশ ঘটাবে। মানুষের চেয়ে ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তা কখনও বড় হতে পারে না। মানুষের প্রয়োজনে এসবের আবির্ভাব, আর তার জন্যে মানুষের বিলুপ্তি হলে চমকের কিছু হবে না।  

ওয়ার অন টেররের মাধ্যমে বিশ্বে ইসলামোফোবিয়ার যে নেতিবাচক জনপ্রিয়তা অর্জিত হয়েছে, তা অচিরেই নির্মূল করতে সমাজ থেকে বৈষম্য মুছে ফেলতে হবে। গুটিকতক মানুষের স্বার্থ হাসিলে, বিশ্বের অমুসলিমরা এমন ইসলামঘৃণার তত্ত্বকে আয়ত্ত্ব করতে থাকলে, তা অচিরেই সবকিছু ধ্বংস করে দিবে। মানুষ সবার ওপরে, বৈষম্যকে কখনই যেখানে স্থান দেয়া উচিৎ নয়। সন্ত্রাসের কোন ধর্ম থাকে না। 

সর্বকালের অন্যতম সেরা শিল্পী জন লেনন 'ইমাজিন' গানে যে বার্তা দিয়েছে তা যদি শিক্ষিত শেতাঙ্গ অমুসলিমরা একটাবার অনুধাবন করতে পারতো তাহলে হয়তো বৈষম্যের আর ঘৃণার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হতো না মানুষকে। তিনি এক অহিংস রাষ্ট্রের কথা বলেছিলেন। ১৯৭৩ সালের পহেলা এপ্রিল জন লেনন এবং তার স্ত্রী ইয়কো নিউইয়র্কের এক সংবাদ সম্মেলনে কন্সেপচুয়াল রাষ্ট্র 'নুটোপিয়া'র পরিচিতি দান করেন । 'ইমাজিন' গানটির কনটেন্ট ছিল 'নুটোপিয়া : শান্তির দেশ' এর অনুপ্রেরণা । লেনন এই গানকে নুটোপিয়ার জাতীয় সংগীত হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তেমন রাষ্ট্র বাস্তবে কোনদিন না আসলেও, তার এই গানের কথায় আমরা পৃথিবি থেকে ইসলামোফোবিয়া, মুসলিমবিদ্বেষসহ যেকোন ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তার নামে বৈষম্যকে নির্মূল হবার স্বপ্ন দেখতেই পারি। নিচে ফাহাদ চৌধুরীর অনূদিত লেননের ইমাজিনের কয়েক লাইন তুলে দেয়া হলো। 

'ধরে নাও কোন দেশের সীমান্তরেখা সেখানে নেই 
আর এটা খুব অসাধ্য কোন ব্যাপারই নয়
এমন কিছু নেই যার জন্য নির্মম হত্যাকাণ্ড হয়'

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড