• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

এ আর রহমানের মেয়ের বোরকা নিয়ে থামছেই না বিতর্ক

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ মার্চ ২০১৯, ১৪:৫৫
এ আর রহমান
ভারতের অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান ও তার মেয়ে খাতিজা। (ছবিসূত্র : ডিএনএ ইন্ডিয়া)

ভারতের অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের মেয়ে খাতিজা কেন বোরকা পরেছেন। আর যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক মাত্রায় 'ট্রলড' শুরু হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে এবার নিজের মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন অস্কারজয়ী এই সঙ্গীত পরিচালক।

সম্প্রতি মেয়ে খাতিজার বোরখা পরাকে সমর্থন জানিয়ে একটি টুইট করেছিলেন এই সঙ্গীত পরিচালক। যেখানে তিনি 'ফ্রিডম টু চুজ' অর্থাৎ সবারই পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

টুইটার পোস্টে তিনি তার স্ত্রী এবং দুই মেয়ের সঙ্গে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নিতা আম্বানির একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার পরিবারের তিন অমূল্য নারী খাতিজা, রাহিমা এবং সায়রার সঙ্গে নিতা আম্বানিজি।’

সেই ছবিটিতে স্ত্রী এবং এক কন্যা রাহিমার মুখ দেখা গেলেও ছোট মেয়ে খাতিজা কালো রঙের একটি বোরকা পরে রয়েছেন। ছবিতে তার মুখ পুরোপুরি ঢাকা রয়েছে।

od

ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের পরিবারের সঙ্গে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নিতা আম্বানি। (ছবিসূত্র : টুইটার)

বেশ কিছুদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্যা খাতিজার বোরকা পরা নিয়ে যে বিতর্ক চলছিল তার মধ্যে সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের এই নতুন টুইট বার্তা আরও ব্যাপকভাবে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

যেখানে একদল এই বোরকা পরা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করছেন। আর অন্য দল এ আর রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রত্যেকেরই রয়েছে।

মহাভারত নামে একজন টুইট ব্যবহারকারী অস্কারজয়ী এই সঙ্গীত পরিচালকের করা পোস্টের জবাবে লিখেছেন, ‘প্রথমত খাতিজা-জীর নিশ্চয়ই ডিনার করতে বেশ অসুবিধা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, খাতিজা-জী তার বদলে অন্য যে কাউকেই পাঠিয়ে দিতে পারতেন, কেউ চিনতে পারত না।’

যেখানে মহাভারতের এই ব্যঙ্গ করা টুইটের জবাবও দিয়েছেন শ্রীরাম ভি নামে আরেক টুইট ব্যবহারকারী।

তিনি লিখছেন, ‘নিম্ন রুচির পরিচয় দিলেন ভাই। রাজপুত নারীরাও তো মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকে, তারাও কাউকে নিজেদের মুখ দেখান না। হিন্দু ধর্ম সব ধর্মকে সম্মান করে। সে জন্যই এখানে সব ধর্মের সহাবস্থান রয়েছে।’

এদিকে এ আর রহমানের এই টুইটে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষ লাইক করেছেন। এতে রি-টুইট করেছেন আরও প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। যেখানে মন্তব্য করেছেন অন্তত দুই হাজার দুশর বেশি লোক। যদিও এর সব মন্তব্যগুলিই যে শালীন, তা কিন্তু নয়।

মুসলমান এবং হিন্দু নামধারী টুইট ব্যবহারকারীরা এতে একে অপরের ধর্ম নিয়ে যেমন কটু কথা বলেছেন, তেমনই বিখ্যাত এই সঙ্গীত পরিচালককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন।

এখানে শঙ্কর নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘সঠিক কথা। কিন্তু এ আর স্যার, কোনো বিরূপ মন্তব্যে আপনার কাছ থেকে জবাব পাওয়া খুব খুব খুবই বিরল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আপনি খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কেন? ধর্মের প্রসঙ্গ রয়েছে বলে?’

পরে নভীতা শ্রীকান্ত নামে আরও এক নারী লিখেন, ‘অভিনন্দন একজন গর্বিত পিতাকে। আপনার মেয়েদের কাছে আপনি হিরো, কারণ আপনি তাদের 'ফ্রিডম টু চুজ' দিয়েছেন।’

তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আপনার মতামত ইসলামের শিক্ষাই দেখায়। যেখানে নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখানোর আর তাদের অধিকারের কথা শেখানো হয়।’

নুজহাত ফিরদোস নামের আরও একজন টুইট ব্যবহারকারী লিখেন, ‘এতে অন্য কারও দু:খ পাওয়ার কী আছে? প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা রয়েছে এবং সে তো আর বাচ্চা নয়। তার থেকেও বড় কথা, মি. রহমান তো তার অন্য কন্যার ছবি দিয়েছেন যে হিজাব পরে নি। এটাই প্রমাণ করে যে তিনি মেয়েদের নিশ্চয়ই জোর করেন নি পোশাকের ব্যাপারে।’

আরও পড়ুন :- উত্তর কোরিয়া থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

পরবর্তীতে এ আর রহমানের মেয়ে খাতিজার একটি আনভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়েছে যে, ‘আমার বাবা (মি. রহমান) আমাকে কখনোই হিজাব পরতে বাধ্য করেন নি। আমি নিজ ইচ্ছাতেই এই বোরকা ব্যবহার করি।’

সূত্র : বিবিসি বাংলা

অডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড