• রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

ক্রাইস্টচার্চ হামলার ষষ্ঠ দিনে

নিউজিল্যান্ডে স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা

৫ই এপ্রিলে হাজির করা হবে অভিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান খুনিকে

  এস এম সোহাগ ২১ মার্চ ২০১৯, ১৫:২২

নিউজিল্যান্ডে হামলা
শুক্রবারের হামলায় ব্যবহৃত যাবতীয় অস্ত্র ও মডিফায়িং যন্ত্রাংশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্নার্ড। ছবি : সংগৃহীত

দেশের দুই মসজিদে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় ৫০ জন নিহত হবার পর নিউজিল্যান্ড সরকার আক্রমণকারী রাইফেল এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আর্ডার্ন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'কাজটা আমরা যে করতে যাচ্ছি এটা তার আরম্ভের একটা নিশ্চয়তা মাত্র।'

'এটি জাতীয় স্বার্থে এবং নিরাপত্তার বিষয়। আমাদের দেশে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতেই এমনটা করা হবে।' বলে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তিনি এমন ঘোষণা দেন। আর্ডার্ন আগামী ১১ই এপ্রিলের মধ্যেই নতুন নতুন আইনটি বাস্তবায়নের আশা করছেন এবং নিষিদ্ধ অস্ত্রের জন্য ক্রয়-ব্যাক স্কিম স্থাপন করা হবে।

আর্ডার্ন বলেন, 'এখন এই হামলার ছয় দিন পরে, আমরা নিউজিল্যান্ডে সমস্ত সামরিক স্বয়ংক্রিয় ও আধা- স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি। ক্রাইস্টচার্চের দুটো মসজিদে হামলায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তার অস্ত্রাদি বৈধভাবে কিনেছিল এবং তাদের ক্ষমতা বাড়াতে "সহজ অনলাইন" ক্রয়ের মাধ্যমে ৩০ রাউন্ডের ম্যাগজিন কিনে তা ব্যবহার করে।'

তিনি বলেন, এই অস্ত্রগুলিকে সামরিক স্টাইলের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উচ্চ-ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন ও নিষিদ্ধ করা হবে। সংক্ষেপে, শুক্রবারের (১৫ মার্চ) সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহৃত প্রত্যেকটি আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিউজিল্যান্ডে নিষিদ্ধ করা হবে।'

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বৃহস্পতিবার ঘোষণা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা আগামী মাস থেকে কার্যকর হতে পারে তার আগে এই ঘোষণা ভিড় থামাতে সাহায্য করবে। যদিও নিউজিল্যান্ডের কৃষকদের জন্য কিছু সীমিত ছাড় দেয়া হবে, যাদের মধ্যে অনেকে তাদের পশুপালের নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনধারণের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন।'

আল নূর ও লিনউড মসজিদে সন্দেহভাজন শেতাঙ্গ উগ্রবাদী প্রবেশ করে ৫০ জনকে নির্মমভাবে হত্যার ৬ দিন পর আর্ডার্নের অভিযান শুরু হয়।

পুলিশ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলার শিকার ৫০ জনকে চিহ্নিত করেছে, স্বজনরা তাদের প্রিয় মানুষটির মৃতদেহ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করে নিয়েছে। ওয়েলিংটনে একটি সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, 'আমি বলতে পারি, কয়েক মিনিট আগে,  নিহত ৫০ জনের সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সবাইকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এটি এই প্রক্রিয়ার জন্য এক মাইলফলক।'
 
নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ডানেডিনে বসবাসরত ২৮ বছর বয়সী শেতাঙ্গ উগ্রবাদী অস্ট্রেলিয়ান ব্রেন্টন টারান্ট শুক্রবারের হামলার দায়ে অভিযুক্ত হন। তাকে কোনো আবেদন ছাড়াই রিমান্ডে পাঠানো হয় এবং আগামী ৫ই এপ্রিল তাকে ফের আদালতে পাঠানো হবে। পুলিশ বলেছে যে, তাকে আরও অভিযোগের সম্মুখীন হতে হবে।

আক্রমণের মাত্রা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরেছে, যার মধ্যে টারান্টের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করে রিয়েল টাইমে হত্যাকাণ্ডটিকে জীবন্ত করে তুলেছে। ১৫ মার্চ দুই মসজিদে হামলার আগে অনলাইনে ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি অসংলগ্ন 'ইশতেহারে' নৃশংস এ হামলার পেছনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে খুনি ব্রেন্টন ট্যারান্ট। সেখানে উঠে আসে মুসলিমবিদ্বেষ, অভিবাসী বিদ্বেষ ও ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের’ মতো বিষয়গুলো। 

মুসলমানদের উসমানীয় খিলাফত বা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের বিজয়ের কথাও উল্লেখ করেছে সে। তুরস্ককে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরনো শত্রু বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে। এতে ইস্তাম্বুলকে লক্ষ্য করে বলা হয়, আমরা কনস্টান্টিনোপলে (বর্তমান তুরস্ক) আসছি। শহরের প্রতিটি মসজিদ ও মিনার ধ্বংস করব। হাজিয়া সোফিয়াকে মিনার থেকে মুক্ত করা হবে এবং কনস্টান্টিনোপল আবারো খ্রিস্টানদের দখলে আসবে।

নিউজিল্যান্ডের যে স্থানটিতে বর্ণবাদী বিদ্বেষ বন্দুকের গুলি হয়ে আছড়ে পড়েছিল, সেই ক্রাইস্টচার্চে সব সময়ই ধ্বনিত হয়ে আসছে বিশ্বমানবের ঐকতান। ভারতীয় উপমহাদেশ আর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষ সেখানে অভিবাসী হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় তাদের জড়িয়ে নিয়েছে নিজেদের বুকে। 

বিশ্বমানুষের এই সম্মিলনের প্রতীক হয়েই সেখানে দাঁড়িয়ে আছে হামলার শিকার হওয়া নুর মসজিদ। হামলাকারীর বিদ্বেষী ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর তাই কোনো পাল্টা ঘৃণাবাদ স্পর্শ করতে পারেনি ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দাদের। বরং বিভক্তি, ঘৃণা আর বিদ্বেষের বিপরীতে সম্মিলন আর ভালোবাসার শক্তিতে আবারও জাগ্রত হতে চাইছে ছবির মতোন সুন্দর শহরটি। 

ক্রাইস্টচার্চ বার্তা দিচ্ছে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের শরীরে একই রক্ত প্রবহমান, সব মানুষের বেদনাস্থলও এক। ভবিষ্যতে যেন মানুষের এই ঐকতান আবারও কোনও বিদ্বেষী বন্দুকধারীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে না পারে সেজন্যই স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বিক্রি নিষিদ্ধের পাশাপাশি অস্ত্র আইন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউ জিল্যান্ড।  

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড