• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

উসকানিমূলক বক্তব্য

রাখাইনে রোহিঙ্গা নেতাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৬:৫২

রোহিঙ্গা নেতা
রাখাইনে ২০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা নেতা। (ছবিসূত্র : এএফপি)

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সংঘাতে লিপ্ত করার দায়ে অঞ্চলটির এক নেতা ও একজন লেখককে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন মিয়ানমারের একটি আদালত।

সম্প্রতি সু চি সরকারের করা রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় নৃতাত্ত্বিক রাখাইনের এই নেতা ও এক লেখককে কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। খবর এএফপির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের (১৯ মার্চ) এ রায় অঞ্চলটির নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্রতর ক্ষোভের দিকে ধাবিত করবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

রাখাইনে বসবাসরত আই মোং নামে সেই নৃতাত্ত্বিক রোহিঙ্গা নেতা মিয়ানমারের ভীষণ পরিচিত একটি মুখ। তিনি দীর্ঘদিন রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কট্টর দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা আরাকান ন্যাশনাল পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাখাইনের রাজধানী সিত্তের আদালতে যখন রায় ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন তার হাজারো সমর্থককে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তখন পুলিশ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে হালকা সংঘর্ষের শুরু হয়। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার দায়ে করা রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় তাকে এই কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সে সময় তার এ বক্তব্যের একদিন পরেই সেখানে এক প্রাণঘাতী দাঙ্গা শুরু হয়। যা তখন বেশ কিছুদিন যাবত চলে।

২০১৮ সালের সেই বক্তব্যে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে নৃতাত্ত্বিক রাখাইনদের দাস হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছিলেন। তখন আই মোং আরও বলেন, ‘সশস্ত্র এই সংঘাতে নেমে যাওয়ার এটিই উপযুক্ত সময়। তাই কেউ আর ঘরে বসে থাকবেন না।’

তখন বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের একটি সরকারি ভবন ঘেরাও করলে পুলিশ এসে প্রকাশ্যে গুলি করে অন্তত সাতজন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছিল। সে দিন আই মোং ছাড়াও ওয়া হিন আউং নামে আরও এক লেখক বক্তৃতা দিয়েছিলেন। পরে এই একই অভিযোগে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।

কারাদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে ওয়া হিন আউংয়ের আইনজীবী বলেন, ‘আমার মক্কেলদের ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাদের এই সাজা দেওয়া হয়। আমরা আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করবো।’

আরও পড়ুন :- মোদীর বিরুদ্ধে ব্রিটেনে গ্রেফতারি পরোয়ানা

২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিক থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনা সদস্যদের জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। তবে নানা জল্পনা-কল্পনার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের এখন পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড