রাখাইনের পাঁচ শহর হারাতে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইনের প্রাদেশিক পার্লামেন্টে দেশটির সেনাবাহিনীর এক প্রতিনিধি দল রাজ্যের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেছেন। সেখানে তারা বলেন, ‘আগামী ২০২০ সালের মধ্যে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় অন্তত পাঁচটি শহরের দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সশস্ত্র এই সংগঠনটি।’ 

সম্প্রতি রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মি যে হামলা শুরু করেছে মূলত এর উপর নানা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দলটি এ আশঙ্কা প্রকাশ করছে। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামরিক কর্তৃপক্ষের বরাতে করা প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনীর সেই প্রতিনিধি দল প্রাদেশিক পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করে। পার্লামেন্টে উত্থাপিত সেই প্রস্তাবনায় রাখাইনের বসবাসরত লোকজনের প্রতি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

প্রস্তাবনায় উল্লেখ আছে, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী সব সময় সাধারণ মানুষের জীবন ও মাল ‘সুরক্ষিত’ রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া সব জাতি এবং ধর্মের মানুষের ‘অধিকার’ রক্ষার্থে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। রাখাইনে বসবাসরত নাগরিকদের স্থানীয় মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর করা ভয়াবহ হামলা থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অবশ্যই রক্ষা করবে।’  

এদিকে পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে চলাকালে রাখাইন প্রাদেশিক পরিষদের সেনা প্রতিনিধি মেজর থেট ও মং বলেন, ‘আরাকান আর্মি ‘‘আরাকান ড্রিম-২০২০’’ মিশনের আওতায় আগামী বছরের মধ্যে রাখাইনের পেলে তোয়া, কিয়া কতো, মারুক-উ শহর দখল করার পরিকল্পনা করছে।’ 

এ সময় তিনি আরকান আর্মি এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে রাখাইনের মায়ু অঞ্চলের বুথিডং এবং মংগদু শহরে হামলা চালিয়ে তা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। যদিও আরাকান আর্মির কমান্ডার দেশটির সেনাবাহিনী এ কর্মকর্তার তোলা অভিযোগ আগে থেকেই অস্বীকার করে আসছেন।

অপরদিকে আরাকান আর্মির মুখপাত্র উ খিনে থুখা সেই সেনা প্রতিনিধির এমন প্রস্তাবনাকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্টকে ব্যবহার করে রাখাইনের জনগণের ওপর প্রভাব খাটানোয় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে আমি এই রাজ্যে আরাকান আর্মি এবং সেনাবাহিনীর জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য কর্তৃপক্ষকে এক গণভোট আয়োজন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’