• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

ব্রিটেনে আনা হবে না আইএস কর্মী শামীমাকে : ব্রিটিশ মন্ত্রী

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৭

আইএস কর্মী শামীমা
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম এবং ব্রিটেনের নিরাপত্তামন্ত্রী বেন ওয়ালেস। (ছবি : সম্পাদিত)

যুক্তরাজ্যে ফিরতে চাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমকে সিরিয়া থেকে কখনোই উদ্ধার করা হবে না। এমনকি তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্রিটেন সরকার। শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী বেন ওয়ালেসের বরাতে করা প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে লন্ডন ভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি শরণার্থী শিবির থেকে সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যে ফেরার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন শামীমা। মূলত এর পরই ব্রিটেনের এই মন্ত্রী এমন মন্তব্য করলেন।

ব্রিটেনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মের ফল ভোগ করতে হবে উল্লেখ করে বেন ওয়ালেস বলেছেন, ‘ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এমন সব জঙ্গি কিংবা সাবেক জঙ্গিদের খুঁজতে যাবে না ব্রিটেন।’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমার ব্যাপারে এই একই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ব্রিটেনের এই নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, ‘সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়ায় পাড়ি জমানো শামীমা বেগমকে কখনোই যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।’

১৯ বছরের শামীমা বেগম যদি ব্রিটেনে ফিরে আসেন তাহলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে উল্লেখ করে ব্রিটিশ এ ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, ‘আমার বক্তব্য পুরোপুরি পরিষ্কার। আমাদের মনে রাখতে হবে যিনি আইএসে যোগ দিতে ব্রিটেন ত্যাগ করেছিলেন, তিনি আমাদের দেশকে পুরোপুরি ঘৃণা করেন।’

তিনি এও বলেন, ‘এখন যদি তিনি ফিরতেই চান, তাহলে তাকে প্রশ্ন, তদন্ত ও সম্ভাব্য বিচারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের জন্য গুরুতর হুমকি এমন সব নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যুক্তরাজ্য।’

এর আগে দ্য টাইমসের সাংবাদিক অ্যান্টনি লয়েডের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীমা বেগম বলেছিলেন, ‘আমি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখন যেকোনো দিন তার সন্তানের প্রসব হতে পারে। এর আগেও গত চার বছরে আমাকে দুইবার অন্তঃসত্ত্বা করা হয়েছিল।’

সাক্ষাৎকারে আইএসে যোগদান করা এই তরুণী আরও বলেন, ‘আইএসে থাকা অবস্থায় অপুষ্টি আর রোগে ভুগে আমার দুই সন্তানের মৃত্যু হয়। নবাগত সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে চাই। যদিও জঙ্গি সংগঠন আইএসে যোগ দেওয়ার জন্য আমি কখনোই অনুতপ্ত নই।’

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটেনের বেথনাল গ্রিন অ্যাকাডেমির যে তিনজন ছাত্রী পালিয়ে সিরিয়া গিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দিয়েছিলেন, শামীমা তাদের মধ্যেই একজন। সে সময় পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা শামীমার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া অপর দুইজন স্কুল ছাত্রী ছিলেন খাদিজা সুলতানা (তিনিও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত) ও আমিরা আবাসে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড