• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে বরাদ্দ পেতে

দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প : হোয়াইট হাউজ

কংগ্রেস ও সংবিধান টপকে ট্রাম্প আইনের শাসনকে ঝুঁকিতে ফেলতে যাচ্ছেন

  অধিকার ডেস্ক    ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৫

সীমান্ত দেয়াল।
ট্রাম্প জরুরি অবস্থার ডাক দিলে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য 'তীব্র অস্বস্তি ও আতঙ্কের' মুখোমুখি হতে পারেন। ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব সারাহ স্যান্ডার্স বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেকটি সরকারি শাটডাউন প্রতিরোধে একটি সীমান্ত নিরাপত্তা বিল স্বাক্ষর করবেন, তবে তার প্রতিশ্রুত মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্ত প্রাচীরের তহবিল সংগ্রহের জন্য জাতীয় জরুরি ঘোষণা করবেন। 'আল-জাজিরা'

রাজনীতিবিদরা তার সীমান্ত প্রাচীরের জন্য বরাদ্দ দিতে অস্বীকার করলে কংগ্রেসকে বাইপাস করার প্রচেষ্টা হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প সাংবিধানিক ভিত্তিতে ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে দ্রুত আদালতের চ্যালেঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

স্যান্ডার্স বলেন, 'রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প সরকারের তহবিল বিল স্বাক্ষর করবেন এবং তিনি যেমন আগে বলেছিলেন, তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থাসহ অন্যান্য নির্বাহী কর্মকাণ্ডও গ্রহণ করবেন - যাতে আমরা সীমান্তে জাতীয় নিরাপত্তা এবং মানবিক সংকট বন্ধ করতে পারি। রাষ্ট্রপতি ফের তার সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ, সীমান্ত রক্ষা এবং আমাদের মহান দেশকে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করছেন।'

জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণায় যথাযথভাবে সাড়া দেয়ার জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে হাউজের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এই প্রতিবেদনে সাড়া দেন। মেক্সিকো সীমান্তে এমন কোন সংকট নেই যার জন্য জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন আছে বলে জানান পেলোসি।

ছবি : সংগৃহীত

হাউজ ডেমোক্র্যাটস আইনিভাবে প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ করবে কি না সে ব্যাপারে তিনি বলেননি তবে, পেলোসি বলেছেন যে, যদি ট্রাম্প জরুরি অবস্থার ডাক দেয় তাহলে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য 'তীব্র অস্বস্তি ও আতঙ্কের' মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

তিনি আরও বলেন যে, এই ধরনের ঘোষণার অর্থ ট্রাম্প 'কংগ্রেসকে পাশ কাটাতে চাচ্ছে'। সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাটরা পেলোসির কঠিন মন্তব্যকে প্রতিধ্বনিত করেছে। সিনেটর চাক শুমার বলেন, যদি ট্রাম্প প্রাচীর নির্মাণে একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে, তাহলে এটি একটি 'বেআইনি কাজ' করা হবে। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে, কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে থামাতে পদক্ষেপ নেবে।

ট্রাম্পের জন্য এমন পদক্ষেপ 'আইনের শাসন ও কংগ্রেসের কর্তৃত্বের জন্য নগ্ন অবমাননাকর প্রচেষ্টা' হবে বলে তিনি যুক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউজের ঘোষণার পর কংগ্রেস দ্বিপাক্ষিক আইনটিতে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল, ৩০ সেপ্টেম্বর যা চলমান অর্থবছরের শেষ সে পর্যন্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থাকে তহবিল প্রদানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ প্রদান করবে। শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাগুলির জন্য তহবিল বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার শেষের দিকে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৮৩-১৬ ভোটে বিল পাস হয়। এরপর বিলটি ডেমোক্র্যাটিক-নিয়ন্ত্রিত হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যায়, যেখানেও এটি ৩০০-১২৮ ভোটে পাস হয়ে ট্রাম্পের কাছে যায়।

ছবি : সংগৃহীত

এই বিলটিতে সীমান্ত প্রাচীরের জন্য ট্রাম্পের অনুরোধ করা ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করেনি - এই দাবিটি ই ৩৫ দিনের জন্য মার্কিন সরকারকে অচল করে দিয়েছিল। ডেমোক্র্যাটরা প্রাচীরের বিরোধিতা করে, এটি অকার্যকর, অনৈতিক এবং ব্যয়বহুল বলে ঘোষণা করে।

সীমান্তে ৮৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় শারীরিক বাধা তৈরিতে সহায়তা করার জন্য বিলটিতে নতুন করে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে। গত বছরের সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলির জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন দেয়া অর্থের সমান এই অংশটি তবে যার মধ্যে বাধা রয়েছে কিন্তু কংক্রিট দেয়াল ছিল না।

২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানের প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমান্ত প্রাচীর একটি কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল। তিনি মূলত মেক্সিকো ২০০০-মাইল (৩,২০০ কিমি) সীমান্ত বরাবর প্রাচীরের জন্য অর্থ প্রদান করবে এমনটাই বলেছিলেন কিন্তু এমন ধারণা মেক্সিকো উড়িয়ে দিয়েছে।

এই সপ্তাহের শুরুতে টেক্সাসের এল পাসো সীমান্ত শহরের একটি সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আপনারা যেমনটি জানেন - আমরা যেকোনো ভাবেই হোক প্রাচীর তৈরি করছি।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড