• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

তেল বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ওপেককে পাশে চেয়ে মাদুরোর চিঠি

  অধিকার ডেস্ক    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩১

ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার সংকটকবলিত দেশ ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ওপেকের সহায়তা চেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোলাস মাদুরো। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং তেল উৎপাদনকারী অন্য দেশগুলোর ঝুঁকি নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি ওপেক মহাসচিব মোহাম্মদ বারকিন্দো’কে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন মাদুরো। 'রয়টার্স'

বারকিন্দো'কে দেয়া সেই চিঠির সম্পর্কে অবগত ওপেকের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা 'রয়টার্স'কে জানিয়েছে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থাটি এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরদিনই ওপেকের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়। তবে ওপেক বলছে, তাদের উদ্বেগ তেল নীতি নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে নয়।

'ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনধিকার চর্চার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওপেক সদস্য দেশগুলোর একাত্মতা ও পূর্ণ সমর্থন আশা করছে কারাকাস। একটি ওপেক সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় আপনার দৃঢ় সমর্থন এবং সহযোগিতা কামনা করছি' বারকিন্দো'কে উদ্দেশ্য করে মাদুরো চিঠিতে এসব লেখেন। ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে নিন্দা জানাতে ওপেকের প্রতি আহ্বান জানান মাদুরো। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সংস্থাটিকে এগিয়ে আসা উচিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভেনেজুয়েলা। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র পক্ষ থেকে ক্রেতাদের রাশিয়ার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম্বার সরবরাহ করা হয়েছে। 

রাশিয়ার ব্যাংকে খোলা ওই অ্যাকাউন্টেই তেল কেনার অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের। প্রতিষ্ঠানটির জয়েন্ট ভেঞ্চারগুলোকেও একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাশিয়ার গ্যাজপ্রমব্যাংক এও-তে সম্প্রতি নতুন এই অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে দৃশ্যত দেশটিকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো। বিদ্যমান ঘটনাপ্রবাহকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের ছায়া হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার পিডিভিএসএ’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় এমনিতেই ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল কারাকাস। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভেনেজুয়েলার তেল খাত থেকে উপার্জিত অর্থ দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো’কে দেওয়ার ঘোষণা। 

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার মিত্ররা এখন থেকে আর দেশটির জনগণের সম্পদ হরণ করতে পারবে না।’ অন্যদিকে রাষ্ট্রের তেল বিক্রি থেকে উপার্জিত অর্থ সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যয়ের হুঁশিয়ারি দেন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। এমন পরিস্থিতিতেই বিশ্ববাজারে তেল বিক্রিলব্ধ অর্থ জমা দিতে রুশ ব্যাংকের শরণাপন্ন হয় ভেনেজুয়েলা সরকার।

হুগো শ্যাভেজের দেশটিতে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুয়াদো। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জার্মানিসহ পশ্চিমা দুনিয়ার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তবে নিজ দেশের শক্তিশালী সেনাবাহিনী এখনও পর্যন্ত মাদুরোর পক্ষে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মেক্সিকো, কিউবার মতো দেশগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড