• রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

মাদকনির্মূলে বাংলাদেশের রেকর্ড

তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিহত, ৫৩ মিলিয়ন ইয়াবা জব্দ

বিনাবিচারে হত্যা : কর্তৃপক্ষের দাবি সফল অভিযান, মানবাধিকার বলছে ব্যর্থ

  অধিকার ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩০

ছবি : সংগৃহীত

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে ৩৩ শতাংশ তৎপরতা বৃদ্ধি করে রেকর্ড ৫৩ মিলিয়ন মেথামফেটামাইন পিল জব্দ করেছে । কর্মকর্তারা রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা 'এএফপি'কে জানিয়েছেন যে, দেশব্যাপী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গৃহীত কঠোর ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধরা পরে। 

২০১৮ সালে ৩ শতাধিক সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতাকে হত্যা করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ জানায়, জিম্মির সংখ্যাটি তাদের প্রচারাভিযান যে কার্যকর হয়েছে তারই প্রমাণ। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, রেকর্ডসংখ্যক হত্যাকাণ্ড আদতে মাদক বাণিজ্যে কোন প্রভাব ফেলছে না।

সরকারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, থাই শব্দে 'ইয়াবা' নামে পরিচিত এই মাদক, যার অর্থ 'পাগলা ঔষধ'। দক্ষিণ এশীয় সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বজলুর রহমান ফ্রেঞ্চভিত্তিক সংবাদ সংস্থা  'এএফপি'কে বলছে, 'এক বছরে জব্দ করা্র সংখ্যার দিক থেকে এটাই সবচেয়ে বেশি।'

আরেকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাসুম-ই-রাব্বানি বলেন, 'গত বছরের মে মাসে চালু করা মাদকদ্রব্য নির্মুল অভিযানটি যে "ইতিবাচকভাবে" কার্যকর হয়েছে তার প্রমাণ ই হলো এত পরিমাণে ইয়াবা আটক। ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস পেয়েছে।'

রব্বানির মতে, প্রায় ৩০০ সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা হত্যা করা হয়েছিল এবং ২৫ হাজারের বেশি আটক করা হয়েছিল। 
বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডের শিকারকেই মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিনাবিচারে সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে।

টেকনাফ শহরেই ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যা মায়ানমারের সংকটকবলিত রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত এবং প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থিত শিবিরের কাছাকাছি অবস্থিত। মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে ইয়াবা আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি বিরুদ্ধে বাংলাদেশ লড়াই করেছে, মিয়ানমারে মিলিয়ন মিলিয়ন ইয়াবা উৎপাদন করা হয়।

রোহিঙ্গাদের সহজ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছিল ইয়াবা, যারা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে সীমান্ত পার হয়ে ঢুকে পরে এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়।

পুলিশের মতে, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ইয়াবা বহনকারী হিসেবে রয়েছে, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছে দেয়াই যাদের দায়িত্ব। সেখান থেকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ইয়াবা ছড়িয়ে দেয়া হয়। 

২০১৮ সালের অক্টোবরে, কর্তৃপক্ষ ইয়াবাকে ক্লাস-এ নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং সংসদ একটি আইন পাস করেছিল যা মাদকদ্রব্য মোকাবিলার জন্য মৃত্যুদণ্ডের অনুমতি দেয়।

শীর্ষস্থানীয় এক অ্যাক্টিভিস্ট বলছেন, রেকর্ড সংখ্যক ইয়াবা জব্দ করার অর্থ হচ্ছে শত শত মানুষকে হত্যা করাটা ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে কোন প্রভাব রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। 

'আইন ও সালিশ কেন্দ্র' নামক মানবাধিকার সংস্থার সাবেক প্রধান নুর খান লিটন 'এএফপি'কে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে পুলিশি অভিযান কাজ করছে না। তাদের ভিন্ন উপায়ের সন্ধান করা আবশ্যক।'
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড