একদিন আগেই আইএস হামলায় ৪ মার্কিন নিহত হয়েছিল

আইএস ঘাঁটির অভিযোগ এনে মসজিদে মার্কিন জোটের বিমান হামলা

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৬

 অধিকার ডেস্ক   

সিরিয়ায় 'ইসলামিক স্টেট' (আইএস) জঙ্গি গোষ্ঠির ব্যবহৃত একটা মসজিদে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। দেশটির দেরউজ জার প্রদেশের সাফাফিয়া শহরে বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) এ হামলা চালানো হয়। আইএস'র হামলায় ৪ মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার একদিনের মাথায় পাল্টা এ হামলা চালানো হলো।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া মসজিদটি ইসলামিক স্টেটের ঘাঁটি ছিল। জঙ্গি সংগঠনটি যুদ্ধের নিয়ম ভঙ্গ করে হাসপাতাল ও প্রার্থনালয়ের মতো স্থানকে নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এ কারণেই এমন স্থাপনায় হামলা না চালানোর নীতি থেকে সরে আসতে হয়েছে তাদের। আইএসের ঘাঁটিতে সফল হামলার কারণে রক্ষা পেয়েছে সিরিয়াতে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর সহযোগীরা। 

তবে, এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি। গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট অনেকগুলো মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিকও। সিরিয়ার মানবিজে আত্মঘাতী হামলায় ৪ মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, এর মধ্যে দুইজন সেনা সদস্য। হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস। এর একদিন পরেই মার্কিন হামলার শিকার হয় আইএস।

সিরিয়ার হাজিন শহরে অবস্থিত একটি মসজিদেও ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালিয়েছিল। সেক্ষেত্রেও মসজিদটি ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল। মসজিদটিতে ছিল ১৬ জন জঙ্গি। ইউফ্রেটিস নদীর পাড়ে ইসলামিক স্টেটের দখলে থাকা সবচেয়ে বড় শহর ছিল হাজিন। সিরিয়াতে এককালে দখলে থাকা বেশিরভাগ এলাকাই হারাতে হয়েছে ইসলামিক স্টেটকে। মার্কিন বাহিনী ও তাদের সহযোগী কুর্দি বাহিনী এবং সিরিয়ার আসাদ বাহিনীর হামলার মুখে তারা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইসলামিক এই জঙ্গি গোষ্ঠি।