• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সৌদিতে রোহিঙ্গাদের করুণ জীবন

সৌদি বিতাড়িততা ঠেকাতে আটক মুসলিম রোহিঙ্গারা অনশনে (ভিডিও)

পেটের দায়ে, পরিবার চালাতে সৌদিতে পাড়ি জমান নির্যাতিত এই জাতি

  অধিকার ডেস্ক    ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:০৭

রোহিঙ্গা
শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা পরিবারের ভরণপোষনের জন্য সৌদিতে পাড়ি দেয়া অসহায় রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশ ফেরত পাঠাতে চাইছে সৌদি সরকার। ছবি : সংগৃহীত

সৌদিতে আটক মিয়ানমারের সংখ্যালঘু নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে বাংলাদেশে বিতাড়নের সিদ্ধান্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছে। 'বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে অনশন করা ছাড়া তাদের 'আর কোন উপায় নেই’বলে জানান জেদ্দায় শুমাইসি আটক কেন্দ্রে অবস্থিত রোহিঙ্গারা। 

জাতিসংঘের রিফিউজি কনভেনশন অ্যাক্ট-এ স্বাক্ষর করেনি সৌদি আরব। শরণার্থী নীতির অনুপস্থিতিতে সেখানে থাকা শরণার্থীদের কাজের অনুমতি কিংবা চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হয় না দেশটির। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। ১৯৭৩ সালে বাদশাহ ফয়সালের সময় মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের সৌদি আরবে আশ্রয় দেওয়া হয়। সেদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়। 

তবে বর্তমানে সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যাপারে ২০১৮ সালের অক্টোবরে দীর্ঘ চার মাসের অনুসন্ধান শেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক 'মিডল ইস্ট আই'। ওই বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত মিডল ইস্ট আই'র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোন অভিযোগ ছাড়াই সৌদি আরবে বেশ কয়েক বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে কয়েকশ রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুদের। এদের বেশিরভাগ ২০১১ সালের পর মিয়ানমারের নিপীড়ন এড়াতে ও জীবিকার তাগিদে তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে পৌঁছায় ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে।

ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের শুমাইসি আটক কেন্দ্রের প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিদিনে খাবার না খেয়ে মেঝেতেই রেখে দিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। ছড়িয়ে আছে রুটির ব্যাগ ও স্যুপ। সবাই নিজের বিছানায় শুয়ে আছে। খাবার না খেয়েই জানাচ্ছে প্রতিবাদ।নিরাপত্তার খাতিরে নাম প্রকাশ না করে গণমাধ্যমটি অনেকের বক্তব্য তুলে ধরে। জাহিদ (ছদ্মনাম) বলেন, 'হোয়াটস অ্যাপসহ অন্যান্য অ্যাপের মাধ্যমে এই অনশনের আয়োজন। আমরা যখন অনশন শুরু করি, তখন আমরা ৩০০ জন ছিলাম। এরপর ধীরে ধীরে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।'

রোহিঙ্গাদের এই অনশনে অংশ নেয়া একজন বৃদ্ধকে ইতোমধ্যেই হাসপাতালে নিতে হয়েছে। জাহিদ বলেন, 'আমরা জানি না আর কতদিন এই আন্দোলন চালাতে পারবো আমরা। তারা আমাদের খাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আটকদের কাছ থেকে তাদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে জোর করে পাঠানোর সময় রোহিঙ্গা ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য জানানোর পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।'

রোহিঙ্গাদের এটাই প্রথম অনশনের ঘটনা নয়, গত চারমাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনশন শুরু করলো সেখানকার রোহিঙ্গারা। রাফিদ (ছদ্মনাম) আরেক রোহিঙ্গা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতার আশ্বাস দিয়ে গতবারের অনশন ভাঙিয়েছিলো। তারা জানিয়েছিলো, অনশন ভাঙা হলে অল্পসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানো হব। তিনি বলেন, 'অন্তত ৬০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশিদের মতো করে ফেরত পাঠানো হয়। এটা দেখোর পর আমরা ফিরে যেতে চাই না। তারা বলেছিলেন আমাদের মুক্তি দিবেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এখান থেকে যেতে পারেনি। আমরা আপনাদের সাহায্য চাই। আমাদের এখান রাখবেন না।'

ছবি : সংগৃহীত

'এখানে অনেকই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, সম্ভব হলে জাতিসংঘ আমাদের নিয়ে নেয়। কারও বাবা-মা মারা যাচ্ছে তো কারও ভাই মারা যাচ্ছে। এভাবে আর সহ্য করা যায় না। আমাদের আবারও অনশন শুরু করতে হয়েছে।' বলে তিনি জানান। তবে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কোনও মন্তব্য করেনি।

শুমাইসি আটক কেন্দ্রে রবিবার (১৩ জানুয়ারি) গোপনে ধারণ করা কিছু ভিডিও চিত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, বেশ ক'জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রবিবার শুমাইসি আটক কেন্দ্রের রোহিঙ্গাদেরকে সারিবদ্ধভাবে প্রস্তুত করতে দেখা গেছে। যেসব রোহিঙ্গা এর বিরোধিতা করছিলো, তাদের হাতকড়া পরিয়ে রাখতেও দেখা গেছে ভিডিওতে।

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নভেম্বরের সৌদি সফরের কিছুদিন পরই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর বিরোধিতা করলে সৌদি অভিবাসন পুলিশের শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে তাদের। সৌদি আরবে প্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই ২০১২ সালে যায়। তখন রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর অপেক্ষাকৃত ভালো জীবন-যাপনের আশা নিয়ে তারা সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিল। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে থাকা তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেছে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড