• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

কলম্বিয়ার পুলিশ একাডেমিতে হামলা : নিহত বেড়ে ২১ (ভিডিও)

কলম্বিয়া
কলম্বিয়ার পুলিশ একাডেমিতে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১

বিগত ১৬ বছরে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা সবচেয়ে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছে। বোগোতার পুলিশ একাডেমিতে বৃহস্পতিবারের (১৭ জানুয়ারি) আত্মঘাতী ট্রাক হামলায় এখন পর্যন্ত ২১ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হবার খবর নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। কলম্বিয়ার সরকার এই দুর্ঘটনার ৩ দিনের শোক জানিয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। 'আল-জাজিরা'

কলম্বিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে একটি 'সন্ত্রাসী কর্ম' আখ্যা দিয়ে বলে, হামলাটি একটি ৮০ কেজি বিষ্ফোরক বহনকারী ট্রাকের মাধ্যমে ঘটানো হয়। কলম্বিয়ান পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, 'দুর্ভাগ্যক্রমে, প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ২১ এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে হামলাকারীও রয়েছে। এছাড়া ৬৮ জন আহত হয় যাদের ৫৮ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে ১১ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হবার কথা জানিয়েছিল।

দক্ষিণ বোগোতাতে জেনারেল স্যান্টান্ডার পুলিশ স্কুলের বাহিরের দৃশ্যটি বোমা হামলার পরেই খুব বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স এবং হেলিকপ্টার নিয়ে এলাকাটিতে নরমালি কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাখা হয়। 

আরও পড়ুন: কুড়াল নিয়ে হামলা, এক নারীর ৯ বছরের জেল 

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর স্বাস্থ্য পরিদর্শক ফ্যানি কনত্রেরাস স্থানীয় রেডিওকে জানায়, ট্রাকটি "হঠাৎ (স্কুলে প্রাঙ্গনে) প্রবেশ করে" পুলিশকে আঘাত করে এবং তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকুয়ে দেশটির সীমান্তে এবং শহরের ভেতরে ও বাইরের রুটগুলিতে কড়া পাহাড়া দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেন, 'এই সন্ত্রাসী হামলার মূল হোতা ও তার সহযোগীদের সনাক্তকরণের জন্য আমি সকল তদন্তকে অগ্রাধিকার দিতে অনুরোধ করেছি।'

ছবি : সংগৃহীত

আগস্ট মাসে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ডানপন্থী দুকুয়ে মাদক পাচারকারীদের, বিশ্বের বৃহত্তম কোকেইন প্রস্তুতকারক ও মার্ক্সবাদী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা, কর্মকর্তাদের মারধর

ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) যোদ্ধাদের সাথে শান্তি আলোচনা-অতীতে যারা পুলিশের ওপর বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে - জুয়ান ম্যানুয়েল সান্টোসকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রতিস্থাপন করার আগে দুকুয়েকে স্থগিত করেছিল যা এখনও পুনরায় চালু করা হয়নি।

শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পূর্বশর্ত হিসাবে সমস্ত বন্দিদের মুক্তিসহ দুকুয়ে বেশ কয়েকটি দাবি করেছিল, কিন্তু ইএলএন তাদের দাবিকে অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন ইকুয়েডরীয় নারী ছিলেন এবং আহতদের মধ্যে আরেকজন ইকুয়েডরিয়ান এবং দুইজন পানামানিয়ান ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস'কে বলেছিল যে তারা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিল যার ফলে নিকটবর্তী ভবনগুলির জানালা ভেঙে যায়। 

রাফায়েল ত্রুজিল্লো বলেছিলেন যে, তিনি তার ছেলে জারসনকে একটি প্যাকেজ সরবরাহ করেন, যিনি দুই দিন আগে স্কুলে প্রবেশ করেছিলেন, যখন স্কুলে তার ব্লকটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন স্কুলে ঢুকে পড়া একটি ব্লকের পাশে একটি ব্লক ছিল।

ত্রুজিল্লো পুলিশের ফিতা দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন,'আমি খুবই মর্মাহত এবং চিন্তিত কারণ আমার ছেলে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। এটি অতীতের কিছু দুঃখজনক দিন আমাকে মনে করিয়ে দেয়।'

ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় গণমাধ্যম দ্বারা পোস্ট করা ভিডিও এবং ছবিগুলিতে অগ্নি বিষ্ফোরিত একটি গাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। কাছাকাছি ভবনের জানালাগুলো ভেঙে যায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে, যার টুকরোগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

আরও পড়ুন: নীচু জাত, তাই মৃত মাকে নিয়ে লড়াইটা সারোজের একার!

গত কয়েক দশক ধরে, বোগোতা অধিবাসীরা বামপন্থী বিদ্রোহী বা পাবলো এসকোবারের মেডেলিন ড্রাগ কার্টেলের বোমা হামলার আতংকের মধ্যেই বসবাস করছিল। কিন্তু কলম্বিয়ার সংঘাতের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছিল, নিরাপত্তা উন্নত হয়েছে এবং হামলার হার কমে এসেছিল।

ইএলএন নিয়ে শান্তি আলোচনা চলছে এবং বন্ধ রয়েছে। গত বছর দুকুয়ের দল শান্তি প্রক্রিয়ার "বিচ্ছিন্ন" করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছিল।

২০১৬ সালে ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পর দেশটির রাজধানীতে এই প্রথম কোনো বড় ধরনের হামলা হলো। তবে এ হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড