• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

নীচু জাত, তাই মৃত মাকে নিয়ে লড়াইটা সারোজের একার!

মা
মায়ের লাশের সঙ্গে একা সারোজ (ছবি : সংগৃহীত)

ঘোলাটে চোখের দৃষ্টি, অশ্রু বেয়ে পড়ছে, কিন্তু তা মোছারও সময় নেই। বাইসাইকেল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এক কিশোর। কাঁপা কাঁপা হাতে আগাচ্ছে পথ। সাইকেলের পেছনে ক্যারিয়ারে বাঁধা রয়েছে মায়ের মৃতদেহ। তা নিয়েই একা পথে এগিয়ে চলছে পিতৃহারা এক কিশোর। তাকে একাই যেতে হবে। কারণ, সে যে ‘নীচু জাতের’! প্রতিবেশীরা কেউ তাই এগিয়ে আসবে না তাকে সাহায্য করতে। 

শুধু তাই নয়, নীচু জাতের বলে, শ্মশানে দাহ করার সুযোগও মিলবে না, দিতে হবে মাটিচাপা। নির্মম আর নিষ্ঠুর জাতিভেদের বলি হয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের জঙ্গলে মাকে সমাহিত করতে হয়েছে ওই কিশোরকে। 

সম্প্রতি এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের লক্ষ্মণপুর জেলার কার্পাবাহাল গ্রামে। জানা যায়, সরোজ নামের ১৭ বছরের ওই কিশোর সাত বছর আগে তার বাবাকে হারিয়েছিল। এবার তাকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন মা-ও। কিন্তু একা হয়ে যাওয়া এই ছেলেটির পাশে দাঁড়ায়নি কেউ, বাড়ায়নি সহানুভূতির হাত। এমনকি সান্ত্বনাও জোটেনি তার কপালে। উল্টো জাতভেদের সীমাই তারা তাকে নিষ্ঠুরভাবে দেখিয়ে দিল।

সারোজের মৃত মায়ের নাম জানকী সিনহানিয়াই (৪৫)। বাড়ির কাজ থেকে শুরু করে ছেলের দায়িত্ব— সবকিছুই তিনি একা সামলাতেন। মৃত্যুর দিন সকালে কুয়া থেকে পানি তোলার সময় আচমকা পড়ে যান তিনি। জ্ঞান হারান। সেই জ্ঞান আর ফিরে আসেনি, মারা যান তিনি। 

দিশেহারা হয়ে পড়ে সারোজ। কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। বরং ‘নীচু জাত’ বলে সবাই তাকে এড়িয়ে যায়। জাতিভেদের কারণে কেউ শ্মশানযাত্রী হিসেবে সরোজকে সঙ্গ দিতে রাজি নয়। কিন্তু কারও জন্য তো আর মায়ের সৎকার থামিয়ে রাখা যাবে না। তাই ছেলেটি একাই আগাতে থাকে। কিন্তু শ্মশানে মাকে দাহ করাতে চাইলে, সেখানেও বাধা আসে। নীচু জাতের বলে তাকে বাধ্য হয়ে মাকে মাটিচাপা দিতে হবে। 

কষ্ট বুকে চেপে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই প্রস্তুতি নেয় সারোজ। মায়ের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঘরের পুরোনো কাপড় দিয়ে বেঁধে পুরো শরীর ঢেকে দেয় সে। তারপর সাইকেলের ওপর তৈরি করে বাঁশের বিছানা। এরপর ক্যারিয়ারে বাঁধা সেই বিছানায় মায়ের মৃতদেহ রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে নেয়। অতঃপর শুরু হয় মৃত মাকে নিয়ে সারোজের একা শবযাত্রা। 

গন্তব্য পাঁচ কিলোমিটার দূরের জঙ্গল। কিন্তু পথে মানুষের জিজ্ঞাসার শেষ নেই। কে, কী, কোথায় যাচ্ছে—সব প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে ক্লান্ত দেহে। সবাই উত্তর শুনে ঠিকই কিন্তু সাহায্যের জন্য কেউ আর এগিয়ে আসে না। কারণ সে ‘নীচু জাতের’। আর এভাবেই একা একাই মাকে সমাহিত করে এই কিশোর।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড