• বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

মুষ্ঠিযুদ্ধের ঈশ্বর : মোহাম্মদ আলির নামে কেন্টাকিতে বিমানবন্দর

  অধিকার ডেস্ক    ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫৮

মোহাম্মদ আলি
ছবি : সংগৃহীত

মুষ্ঠিযুদ্ধের জগতে এক কিংবদন্তির নাম মোহাম্মদ আলি, বিখ্যাত এই মুসলিম মুষ্ঠিযোদ্ধার নামে বিমানবন্দরের নাম রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কেন্টাকিতে অবস্থিত লুইসভিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নাম বদলে লুইসভিল মোহাম্মদ আলি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করা হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছর গবেষণা করে ওয়ার্কিং গ্রুপ এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করার পর লুইসভিল শহর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের এ ঘোষণা দিলো। 'সিএনএন'

প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'বিবিসি'র ঘোষিত শতাব্দির সেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনোনীত ক্রীড়াবিদ, মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলির প্রতি সম্মান জানিয়ে তার নামানুসারে এয়ারপোর্টের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) মোহাম্মদ আলির ৭৭তম জন্মদিনের একদিন আগে তার নামে বিমানবন্দরের নামকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে লুইসভিল এয়ারপোর্ট অথিরিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান জিম উইলস বলেছেন, এ পদক্ষেপ বিশ্ববাসীর সামনে একটি নমুনা হয়ে থাকবে যে, এ মহান ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কত গর্ব। কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলির স্ত্রী লুনি আলি এ সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মোহাম্মদ আলির নামে বিমানবন্দরের নাম রাখায় বিশ্ববাসী এখন থেকে মোহাম্মদ আলীকে সবসময় স্মরণ রাখতে পারবে। ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার যে অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে, বিষয়টি লুইসভিল শহরের জন্যও গর্বের বিষয়।

নিজের জন্মস্থানে ও বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে মোহাম্মদ আলির অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ওই শহরের মেয়র গ্রেগ ফিশারও। বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা লুইসভিলে। ইসলাম ধর্মালম্বী মোহাম্মদ আলি নিজ ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে গর্বের সঙ্গে কথা বলতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, 'এখন আমি যাই করি না কেন,আল্লাহ তায়ালাকে খুশিকে করার জন্য করি।'

ছবি  : সংগৃহীত 

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলাতে মোহাম্মদ আলী ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি আমেরিকান মুসলিমদের আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

অবিশ্বাস্য ফুটওয়ার্ক, বিদ্যুতের মতো গতি,  এবং অকল্পনীয় শারীরিক নমনীয়তায় কিংবদন্তি এই বক্সার মোট ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৫৬টিতেই জিতেছেন। ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৩৭টি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে নকআউট করে জিতেছেন। ক্রীড়া জীবনের শুরুর দিকেই কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী রিংয়ের ভেতরে ও বাইরে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন সর্বকালের এই কিংবদন্তী । তখন বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। তার নামে পল্টনের বক্সিং স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়। ১৯৮০ সালে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হন। ৩২ বছর এ রোগে ভোগার পর ২০১৬ সালের ৩ জুন ৭৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: info@odhikar.news

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড