সিরিয়ায় আইএস হামলায় ৪ আমেরিকানসহ নিহত ১৬

সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার মধ্যেই আত্মঘাতী বোমা হামলা

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:১৭

 অধিকার ডেস্ক   

সিরিয়ায় উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় দুই সেনাসদস্যসহ চার মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পরাজিত দাবি করে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ঘোষণা দেয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

সিরিয়ার মানবিজ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বোমা হামলাটি ঘটেছে। মার্কিন সেনারা এখানে নিয়মিত জড়ো হতেন। হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের চার বছরের উপস্থিতিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করে বলেছে, দুই মার্কিন সেনা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বেসামরিক কর্মকর্তা ও একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আর তিন সেনা আহত হয়েছেন।

দুটি বিকলাঙ্গসহ বেশ কিছু মরদেহ মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তাদের চারপাশে লোকজন জড়ো হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, গাড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগও স্থানীয় কুর্দি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে। নিজেদের প্রচারমাধ্যম আমাকে দ্রুতই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। গত চার বছর একটি সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে মানবিজ থেকে তাদের তাড়ানো হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এমন দাবি করলেও তাদের স্লিপার সেল রয়ে গেছে। যার মাধ্যমে তারা স্থানীয় কর্মকর্তা ও বিরোধী যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালাত। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা রেস্তোরাঁয় বসে নিজেদের সমর্থিত মিলিশিয়াদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। তখন হামলার ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও বলছে, মানবিজে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা চলার সময় হামলাটি হয়।

আমেরিকানদের লক্ষ্য করে একটি রেস্তোরাঁর কাছে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে মানবিজ সামরিক কাউন্সিল বাহিনীর কিছু ফোর্সও ছিল। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীগুলো ২০১৬ সালে আইএসকে হটিয়ে মানবিজের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে শহরটি এই সামরিক কাউন্সিলের কর্তৃত্বাধীনে আছে।

এক বিবৃতিতে সামরিক কাউন্সিলটি জানায়, নিহত বেসামরিকদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। বীর আমেরিকান সৈন্যদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সিরিয়ার মানবিজের কাছেই রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও তুরস্ক সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা রয়েছে।