এখনও সালমানের সঙ্গেই আছেন খাসোগি হত্যাকারী কাহতানি!

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৪

 অধিকার ডেস্ক   

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার পরিকল্পনা যার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়, সেই সৌদ-আল-কাহতানি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পাশেই রয়েছেন। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ও খাসোগির কর্মস্থল 'ওয়াশিংটন পোস্ট' তাদের অনুসন্ধানে এ কথা জানিয়েছে। 

অজ্ঞাতনামা বেশ কিছু মার্কিন ও সৌদি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই সংবাদমাধ্যম বলছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এখনও বিভিন্ন বিষয়ে কাহতানির উপদেশ নিচ্ছেন যুবরাজ। 'ওয়াশিংটন পোস্ট'
 
২০১৮ সালে দোসরা অক্টোবর ২য় বার বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক খাসোগি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব দাবি করে, তুর্কি কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি।

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার পর পুরো বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়, তুর্কি কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে এমন এক হত্যাকাণ্ডে ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশ্বের তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে যায় মুসলিম বিশ্বের পবিত্রতম রাষ্ট্রটি। এরপরেই, সৌদি রাজকীয় আদালতের আদেশের ৪০ বছর বয়সী কাহতানিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

কাহতানির কাছে প্রচুর ফাইল ও দলিল রয়েছে বলে জানান সম্প্রতি যুবরাজের সঙ্গে দেখা করা এমন একজন মার্কিন নাগরিক। 'ওয়াশিংটন পোস্ট'র সাংবাদিক ডেভিড ইগনেশিয়াসকে তিনি বলেন 'ওর সঙ্গে হঠাৎ সম্পর্কচ্ছেদ করা যাবে এমন চিন্তা অবাস্তব'।

সৌদি রাজদরবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও একই রকম মন্তব্য করেছে বলে সংবাদমাধ্যমটি। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে জানায়, 'কাহতানি এমন কিছু বিষয়ে কাজ করছিলেন যেগুলো তাকে শেষ করতে হবে বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে হবে।' 

যুবরাজের মিডিয়া উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন সৌদি যুবরাজের ডান হাত কাহতানি। তুরস্কের প্রসিকিউটরদের বিশ্বাস ইস্তাম্বুলে না গিয়েও কাহতানি খাসোগি হত্যায় অংশ নেওয়া ১৫ জনের হিট স্কোয়াডের কাজের তদারকি করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ কাহতানি সম্পর্কে সর্বশেষ বিবৃতি দেয় ১৫ নভেম্বর। ওইদিন সরকারি কৌঁসুলিরা জানান কাহতানির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।