• সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

'অঞ্চলটিতে আসাদ সরকার,রাশিয়া,ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা'

  এস এম সোহাগ ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২১

সিরিয়া
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে খনিজতেল সম্পন্ন অঞ্চলটিতে রাশিয়াসহ অন্যদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও সহিংসতা বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে ট্রাম্পের দেয়া চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় পুরো বিশ্বে তোলপাড় লেগে গিয়েছিল, যা শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) বাস্তবায়ন হতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল যুদ্ধ-ময়দান থেকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে বলে মার্কিন জোট এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে। 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'

সেনা প্রত্যাহার বাস্তবায়নের ঘোষণা ঘোষণা এক বিবৃতিতে জানায় সিরিয়ায় আইএস বিরোধী মার্কিন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল সন রায়ান। তিনি মার্কিন জোটের ব্যাপারে বলেন, 'সিরিয়া থেকে আমাদের প্রত্যাশিত প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।' তবে 'সঠিক সময়, স্থান কিংবা বাহিনীর গতবিধি' সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের ফলে আইএস'র সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে পরাজয়ের হুমকির মুখে পড়েছিল এবং সিরিয়ায় অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সম্ভাব্য সহিংস হুমকিকে ছড়িয়ে দিয়েছিল। মি. ট্রাম্প সেনাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনতে তার ইচ্ছার কোন গোপনতা প্রকাশ করেননি, তিনি বলেছেন যে, আইএস'র বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য মার্কিন সেনাদের পাঠানো হয়েছিল এবং তাদের মিশনটি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু তার পরিকল্পনা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে বলেছিলেন যে, ৩০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার চায় কিন্তু তার প্রশাসনে অন্যদের সাথে আলোচনার পর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। কূটনীতিকরা তুরস্কের হামলা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুর্দি সহযোগীদের রক্ষা করার জন্য এবং তুরস্কের জিহাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গ্রহণের উপায় খুঁজে বের করতে চেয়েছিল।

সম্প্রতি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন, সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর শর্তাধীন ছিল যা এসব যুদ্ধাঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে ফিরিয়ে নিতে কয়েক মাস সময় লাগিয়ে দিতে পারে।  

সিরিয়ায় স্থানীয় কুর্দি নেতৃত্বাধীন মিলিশিয়াদের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মার্কিন সেনা বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। সিরিয়া ও ইরাকের সীমান্তে ছড়িয়ে থাকা স্ব ঘোষিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল আইএস। জঙ্গিরা পশ্চাৎগামী হচ্ছিল, সিরিয়ার প্রায় এক-চতুর্থাংশ অঞ্চলের মধ্যে আমেরিকান প্রভাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, যেখানে মিলিশিয়া বেসামরিক শাসন পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় কাউন্সিল স্থাপন করেছে আমেরিকান জোট। 

সিরিয়ার সরকার এবং তার রাশিয়ান ও ইরানি মিত্ররা এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েকটি কারণে চায় যার মধ্যে রয়েছে তেলের মজুদ, কৃষি আবাদি জমি ও ইরাকের সঙ্গে সীমান্ত পুনরায় খুলে দেয়াসহ দু-দেশের পুনর্মিলন, যা ২০১১ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধের কারনে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

ছবি : সংগৃহীত

এই অঞ্চলে তুর্কি স্বার্থও বিদ্যমান এবং এটি প্রাথমিকভাবে কুর্দি মিলিশিয়াকে একটি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসাবে দেখে। ফলশ্রুতিতে সিরিয়া সীমান্তে তুর্কি সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং কুর্দিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর হুমকিও দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে অন্যসব বাহিনীর জন্যে এই অঞ্চলে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে যা দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করবে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড