• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

স্বামী-সন্তান রেখে জীবন বাঁচাতে শাপারক পালিয়ে গিয়েছিলেন তুরস্কে

হিজাবের প্রতিবাদে শাস্তি হয় ২০ বছরের, ছাড়তে হয় নিজ দেশ

নাবিলা বুশরা  
১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩১

শাপারক সাজারিজাদেহ
শাপারক সাজারিজাদেহ (ছবি: বিবিসি ডট কম)

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ৪২ বছর বয়সী ইরানী নারী শাপারককে হিজাব না পরতে চেয়ে প্রতিবাদের স্বরূপ ২ বছরের জেল এবং ১৮ বছরের জেল ছাড়া সাজাসহ সব মিলিয়ে ২০ বছরের সাজা দেওয়া হয়। 

ইরানে বাইরে বের হলে মেয়েদের মাথায় স্কার্ফ বাধ্যতামূলক।এর বিরোধিতাকারীদের জন্য শাস্তি হল কারাদণ্ড অথবা জরিমানা। 

ইরানের ইসলামিক পেনাল কোডের প্রাদেশিক অনুচ্ছেদ ৬৩৮ অনুযায়ী, ‘মহিলারা যদি জনসম্মুখে বা রাস্তায় হিজাব পরিধান না করে তবে তার শাস্তি হিসেবে তাকে দুই দিন থেকে দশ মাস পর্যন্ত কারাভোগ অথবা ৫০ হাজার বা ৫ লাখ রিয়াল জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।’

এই নিয়মের বিরোধিতা করায় শাপারক সাজারিজাদেহকে ২০ বছরের সাজা দেওয়া হয়। 

কেন হিজাবের বিরোধিতা করেছিলেন শাপারক? 

শাপারক বলেন, ‘যখন আমি হিজাব পরি তখন আমার মনে হয় আমি নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু যখন আমি হিজাব পরি না তখন আমার নিজেকে মুক্ত মনে হয়। যখন আমি এটা ছাড়াই প্রকাশ্যে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম মনে হচ্ছিল আমার একটা শক্তি আছে এবং আমি আমার মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পারি।’

‘আমি একজন সাধারণ গৃহবধূ, একজন সাধারণ নারী। আমি আমার অধিকারের জন্য কিছু করতে চাই। ২০১৪ সালের মে মাসে কিছু নারী এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করে। তারা হিজাব ছাড়াই নিজেদের ছবি পোস্ট করে।এরপর ২০১৬ এর ডিসেম্বরে তেহরানে একজন নারী নীরব প্রতিবাদ করে। তার সাদা পতাকা ওড়ানোর ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। 

শাপারক

শাপারক সাজারিজাদেহ

 

সে একমাস জেলে ছিল। আমার জন্য এটা ছিল চমৎকার উপায়ে বেসামরিক নাগরিকের অবাধ্যতার একটি প্রতীক। আমি একজন নারীকে বলেছিলাম এখন থেকে চলুন আমাদের সাদা স্কার্ফ একটি লাঠির সাথে বেঁধে রাখি।’

জানুয়ারি মাসে আটকের পর এপ্রিলে তাকে জামিন দেওয়া হয়। শাপারক জানায়, ‘তারা আমাকে জোর করে বলাতে চেয়েছিল যে আমি একজন গুপ্তচর। আমি ভীত হয়ে পড়েছিলাম। এরপর তারা কয়েকজন নারী কর্মকর্তাকে ডাকে। হঠাৎ করে আমি ফ্লোরে পড়ে গেলাম এবং তাদের মধ্যে একজন আমার মুখে মারলো। একহাতে সে আমার চুল ধরলো এবং মুখে অনেকগুলো ঘুষি দিলো। আমি সাতদিন বন্দি ছিলাম এবং পাঁচদিন অনশন করেছি।’ 

‘মে মাসে আমি কাশান গিয়েছিলাম আমার নয় বছর বয়সী ছেলের সাথে।একদিন আমার একজন বন্ধুসহ  আমরা পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে ঘুরতে গিয়ে আমরা অনেক আনন্দ করেছিলাম। চুলে মালা পড়ে আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি। এর ঠিক পরদিন পাঁচজন পুলিশ এসে আমাদের আটক করল।’ 

সেবার আটকের পর শাপারক জীবনের ভয়ে স্বামী ও সন্তান রেখে ইরান ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।

একজন পাচারকারী শাপারককে তুরস্ক সীমান্ত অতিক্রম করতে সহায়তা করে।তার পালিয়ে যাওয়ার পর ইরানের একটি আদালত তাকে দু বছরের কারাদণ্ড দেয়। আর হেডস্কার্ফ না পরার জন্য তাকে দেওয়া হয় জেল ছাড়া ১৮ বছরের শাস্তি। 

২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি নারীকে জনসম্মুখে হিজাব খুলে প্রতিবাদ করার জন্য গ্রেফতার করা হয়। এটি করা হয় শুধু দেশটির বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের বিরোধিতা করার জন্য। 

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রসিকিউটরদের মতে, জনসম্মুখে হিজাব না পরে তারা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছে। 

তেহরান

৩১ বছর বয়সী 'ইংহিলাবের মেয়ে' 

 

এই প্রতিবাদ শুরুর নীরব ভূমিকায় ছিলেন ৩১ বছর বয়সী একজন তেহরান নারী। স্কার্ফ না পরে সাদা একটি কাপড় উঁচু করে ধরে রাখাটা ছিল সেই নারীর প্রতিবাদী চিত্র। মেয়েটি পরিচিতি পায় ‘ইংহিলাবের মেয়ে’ বলে। ইংহিলাব সে জায়গা যেখানে দাঁড়িয়ে সে প্রতিবাদ করেছিল। ফার্সি শব্দ ‘ইংহিলাব’ অর্থ বিপ্লব। 

কেন ইরানে ‘হিজাব’ বাধ্যতামূলক?

১৯৩০ সালে, দেশটির শাসক রেজা শাহ পাহলভি পশ্চিমা পোশাক বাধ্যতামূলক করেন। ১৯৭০ এর দশকে দেশটির মানুষ সহিংস বিপ্লব অনুসরণ করে শাসক পরিবারকে উৎখাত করতে। সে সময়ই নারীদের মাথায় কাপড় পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। 

প্রতিবাদ

হিজাবের বাধ্যতার প্রতিবাদে হাজার হাজার নারী নেমে এসেছিল রাস্তায়  

 

১৯৭৯ সালে ইরান রাষ্ট্রের প্রধান আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনি এই আইন জারি করেন। সে সময়, তারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন পেশার দশ হাজারেরও বেশি নারী রোডমার্চ করে। 

তথ্যসূত্র: বিবিসি ডট কম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড