• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিশ্বজুড়ে প্রজননহারের বিস্ময়কর পতন!

প্রজনন হারের এই হ্রাস কি সফলতার নির্দেশক নাকি অশনি সংকেত?

  এস এম সোহাগ ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:২৫

প্রজনন হারের পতন
এভাবে জন্মহারের পতন ঘটলে দাদা-দাদি থাকবে, থাকবে না নাতি-নাতনি, জন্মহারের সামঞ্জস্যতা সমাজের ভারসাম্য রক্ষার্থে অতি প্রয়োজন। ছবি : সম্পাদিত

বিশ্বজুড়ে নারীদের সন্তান জন্মদানের হার চমকপ্রদভাবে হ্রাস পাওয়ার তথ্য এক গবেষণায় বের হয়ে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক দেশে প্রজনন হারের এমন হ্রাস ঘটেছে যা দেশগুলোতে জনসংখ্যার আকারের সামঞ্জস্য রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। ‘বিবিসি নিউজ’

গবেষকরা প্রাপ্ত এই তথ্য-উপাত্তকে ‘বিরাট বিস্ময়’ মনে করছেন। সমাজে ‘নাতিনাতনির তুলনায় অধিক দাদা-দাদির’ এই অবস্থার মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

প্রজননহারের এই পতন কতটা বিশাল?

বিশ্বে স্বনামধন্য মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট প্রকাশিত নিবন্ধে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৫০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতিটি দেশের জন্মহার প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে এ গবেষণা করা হয়েছে।

ছবি : সম্পাদিত 

১৯৫০ সালে গড় প্রতি নারী জীবদ্দশায় ৪ দশমিক ৭ শিশুর জন্ম দিতেন সেখানে সেই হার হ্রাস পেয়ে ২ দশমিক ৪ এ নেমে এসেছে ২০১৭ সালে। 

কিন্তু এই চিত্র দেশ-জাতিভেদে বিশাল তারতম্য বজায় রেখেছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে যেখানে গড় প্রতি নারী ৭ দশমিক ১ সন্তানের মা হচ্ছেন সেখানে সাইপ্রাসের ভূমধ্য দ্বীপাঞ্চলের নারীরা গড় প্রতি মাত্র ১ সন্তানের মা হচ্ছেন।

প্রজননহার কতটা বৃদ্ধি আবশ্যক?

যখনই একটি দেশের গড় প্রজনন হার প্রায় ২ দশমিক ১ এর নিচে নেমে আসে তখন জনসংখ্যা সঙ্কুচিত হতে শুরু করে (এই "শিশুর বক্ষ" চিত্রটি উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চতর যেসব দেশে শিশুমৃত্যুহার উচ্চতর)।

১৯৫০ সালে গবেষণার শুরুতে এই অবস্থানে দেশের সংখ্যা শূন্য ছিল। 

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যারুমনের পরিচালক অধ্যাপক ক্রিস্টোফার মুরে ‘বিবিসি নিউজ’কে বলেন, ‘অর্ধেকেরও বেশি দেশে জন্ম দেয়ার হার একেবারে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে, যেখান থেকে জনসংখ্যা প্রতিস্থাপন প্রায় অসম্ভব। সুতরাং যদি কিছু না ঘটে তাহলে ওসব দেশে জনসংখ্যার হার কমতেই থাকবে।’