• শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তুরস্কে আজকের নির্বাচনে এরদোগানের সামনে বড় পরীক্ষা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ মে ২০২৩, ১২:১৮
তুরস্কে আজকের নির্বাচনে এরদোগানের সামনে বড় পরীক্ষা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কুলুচদারুলু (ছবি : ইউরো নিউজ)

মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ তুরস্কে আজ প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ রবিবার (১৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। আর এই নির্বাচনেই বড় ধরনের পরীক্ষা মুখে পড়তে চলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

শক্তিশালী এই নেতা টানা ২০ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন। আজ রবিবার প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবারের এই নির্বাচন তুরস্কের প্রবল ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জন্য হতে যাচ্ছে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই। কারণ এবার তাকে মোকাবিলা করতে একজোট হয়েছে তুরস্কের বিরোধী সবগুলো দল।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কুলুচদারুলু গত শুক্রবার আঙ্কারায় আয়োজিত এক সমাবেশে ঘোষণা করেন, তিনি দেশে ‘শান্তি ও গণতন্ত্র’ পুনঃ প্রতিষ্ঠা করবেন।

অপর দিকে ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলছেন, বহু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তুরস্কের মাথা উঁচু রেখেছেন তিনি। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে দুই অংকের মুদ্রাস্ফীতিতে পৌঁছে যাওয়া অর্থনীতি এবং গত ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পের বিষয়টিও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এবারের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে এ দু’টিই মূলত প্রধান ইস্যু হিসেবে রয়েছে।

কেমাল কুলুচদারুলুর বয়স এখন ৭৪ বছর এবং তাকে একজন মৃদুভাষী লোক হিসেবেই মনে করা হয়। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সামান্য ব্যবধানে হলেও তাতে এগিয়ে আছেন কুলুচদারুলুই। এমনকি তার সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন, তিনি হয়তো ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে সরাসরি নির্বাচিত হবেন। আর তা হলে দ্বিতীয় দফা ভোটাভুটির দরকার হবে না।

গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবার দেশটির ছয়টি রাজনৈতিক দল জোট বেঁধেছে। আর এ জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন কেমাল কুলুচদারুলু। তুরস্কের ইতিহাসে এর আগে কখনো এতগুলো দলকে ‘এক হতে’ দেখা যায়নি।

ইউরোপীয় রাষ্ট্র তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে টিভি সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, নির্বাচনে তিনি হেরে গেলে কী করবেন। জবাবে এরদোগান বলেছিলেন, এটা অর্থহীন প্রশ্ন, কিন্তু তার সরকার গণতান্ত্রিকভাবেই ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ যদি মত পরিবর্তন করে, তাহলে আমরা ঠিক তাই করবো যা গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন।

তুরস্কে এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৫০ লাখ নতুন ভোটার। তাদের একজন হলেন ফিরাত। তিনি বলছেন, এটা দেখে তিনি খুবই খুশি যে মধ্যবাম রিপাবলিকান পিপলস পার্টির প্রধানের সাথে একই মঞ্চে এবার রক্ষণশীল এবং জাতীয়তাবাদীদের দেখা যাচ্ছে।

এখানে জাতীয়তাবাদী এবং ছয় দলীয় জোটের একমাত্র নারী নেত্রী মেরাল আকসেনার পাশাপাশি আরও ছিলেন ইসলামপন্থি ফেলিসিটি পার্টির নেতা তেমেল কারামোল্লাওলু। কুলুচদারুলুর দল মূলত ধর্মনিরপেক্ষ, কিন্তু তিনি হিজাব পরেন এমন নারীদের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিতে অনেক পরিশ্রম করেছেন।

তুরস্কের নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে এককভাবে ৫০ শতাংশ বা এর বেশি ভোট পেতে হবে। এমনটি না হলে যে দু’জন প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তাদের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

যদিও কেমালের সমর্থকরা আশা করছেন, রানঅফ নয়— রবিবারের নির্বাচনে এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট পাবেন তিনি। তবে আশা ছাড়ছেন না প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার সমর্থকরা। তবে সে কাজে বড়সড় পরীক্ষার মুখেই রয়েছেন টানা ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তুরস্কের প্রভাবশালী এই নেতা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড