• রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৪ দিন ধরে পুড়ছে পড়শি মণিপুর, কিংকর্তব্যবিমূঢ় অমিত শাহ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৬ মে ২০২৩, ১৭:৫২
মনিপুর

৪ দিন কেটে গেলেও হিংসা থামছে না বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতীয় রাজ্য মণিপুরে। রাজ্যটিতে এখনও চলছে গুলি, মরছে মানুষ। ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব তুলে নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারফিউ জারি করেছে তারা। মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

মণিপুরে সংবিধানের ৩৭১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাহাড়ি অঞ্চলে শুধু তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষই বাড়ি করতে পারেন। জনসংখ্যার নিরিখে মেইতেই সম্প্রদায়ই মনিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই মেইতেই গোষ্ঠীর তফসিলি জনজাতি (এসটি) তকমার দাবিতে আন্দোলন শুরু করার পরেই সে রাজ্যে হিংসার সূত্রপাত। মেইতেইদের তফসিলি জনজাতি তকমা পাওয়ার বিরোধিতা করছে রাজ্যের অন্য তফসিলি সম্প্রদায়গুলি। রাজ্যে প্রায় ৩৪টি স্বীকৃত তফসিলি সম্প্রদায় থাকলেও, এদের মধ্যে প্রভাবে এবং জনসংখ্যায় সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কুকিরা।

রাজ্যের তফসিলি সম্প্রদায়গুলির দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিসাবে এমনিতেই বহু সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন মেইতেই জনগোষ্ঠীর মানুষরা। তাই তাদের আর আলাদা করে তফসিলি জনজাতির তকমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

অন্য দিকে, মেইতেইদের দাবি, রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও তাদের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। তার প্রমাণ হিসাবে তারা ২০১১ সালের জনসুমারীর পরিসংখ্যানকে তুলে ধরে। ওই পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ১৯৫১ সালে মণিপুরে ৫৯ শতাংশ মেইতেই জনগোষ্ঠীর মানুষ থাকলেও ২০১১ সালে কমতে কমতে তা ৪৪ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। তা ছাড়া মণিপুর উপত্যকায় জনজাতি বিশেষত কুকিদের বিরুদ্ধে জায়গা জমি দখল করার অভিযোগ তুলেছে তারা। মায়ানমারের জুন্টা সরকারের তাড়া খেয়ে বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মণিপুরে এসে জায়গাজমি দখল করছে বলেও মেইতেইদের অভিযোগ। রাজ্যের নানা পাহাড়ি অঞ্চলে জনজাতি সম্প্রদায়গুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও, মূলত রাজধানী শিলং এবং সন্নিহিত উপত্যকায় বসবাস করে মেইতেইরা। রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হলেও মেইতেইরা রাজ্যের মাত্র ১০ শতাংশ অঞ্চলে বসবাস করেন।

মণিপুরের তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়গুলির অধিকাংশই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। অন্য দিকে, মেইতেইদের অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অনেকে মনে করে, এটি নিছক হিন্দু বনাম খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংঘাতের বিষয় নয়। বরং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির যে সাধারণ সমস্যাগুলি রয়েছে, মণিপুরের এই সমস্যাও তার ব্যতিক্রম নয়।

কিছু দিন আগেই অবৈধ উপায়ে জমি দখলের অভিযোগে পাহাড়ি অঞ্চলে তিনটি গির্জা ভেঙে দেয় মণিপুর সরকার। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় কুকি-সহ অন্য তফসিলি জনগোষ্ঠীগুলি। তারও আগে অবৈধ পোস্ত চাষের অভিযোগে পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে অভিযান চালায় সরকারের বিশেষ বাহিনী। কুকিদের অভিযোগ, মেইতেইদের পাহাড়ি অঞ্চলে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

সম্প্রতি মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। এর পরেই জনজাতি সংগঠনগুলি বুধবার থেকে তার বিরোধিতায় পথে নামে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আদালত অবমাননার দায়ে তফসিলি ছাত্র সংগঠন (এটিএসইউএম)-এর সভাপতিকে শো-কজ নোটিস পাঠায় মণিপুর হাই কোর্ট। তারপরই তফসিলি গোষ্ঠীগুলি দাবি করে, হাই কোর্ট মেইতেইদের কথায় কাজ করছে।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ নিজেও মেইতেই জনগোষ্ঠীর মানুষ। এর আগে কুকি, অঙ্গামি, লুসাই, নাগা, থাড়োয়াসের মতো তফসিলি সম্প্রদায়গুলির আস্থা অর্জনে ইম্ফলের বাইরে বেরিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে মন্ত্রিসভার বৈঠক করতেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি নাকি তার সেই উদ্যোগে ছেদ পড়ে।

সব মিলিয়ে হিংসা থামানোর কোনো কার্যকরী উপায় মেলাতে পারেনি অমিত শাহরা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তফসিলি জনগোষ্ঠী এবং মেইতেইদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ফেরাতে না পারলে, মণিপুরের হিংসায় লাগাম পরানো যাবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড