• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

টোটাল-শেভরন-শেলের মিয়ানমার ত্যাগ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৫৬
টোটাল-শেভরন-শেলের মিয়ানমার ত্যাগ
মিয়ানমারের সড়কে প্রতিবাদকারী জনতা (ছবি : রয়টার্স)

মিয়ানমার থেকে একের পর এক বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যোগ দিয়েছে বিশ্বের জ্বালানি খাতের বড় দুই প্রতিষ্ঠান শেভরন এবং টোটাল। এমনকি শেলও জানিয়েছে দেশটিতে আপাতত আর কোনো কার্যক্রম চালাবে না।

মিয়ানমারের বিতর্কিত সামরিক সরকারের অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ফরাসি প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন দেশটিতে নিজেদের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গেল শুক্রবার প্রতিষ্ঠান দুটি ঘোষণাটি দিয়েছে। দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ইয়াদানা গ্যাস প্রকল্পে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে যুক্ত ছিল শেভরন ও টোটাল।

প্রকল্প থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে দুইটি প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেছে।

টোটাল এনার্জিস জানায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মানবাধিকার, আইনের শাসনসহ মিয়ানমারের পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। যার কারণে আমরা পরিস্থিতি পুনঃ মূল্যায়নে বাধ্য হয়েছি।

শেভরনের মুখপাত্র বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতি বিবেচনায় ইয়াদানা প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প থেকে নিজেদের কার্যক্রম হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশটি ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

আরও পড়ুন : মমতাকে দেখিয়ে বিধানসভায় ভোট টানার চেষ্টা

মিয়ানমারের এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ২৪ শতাংশের মালিক টোটাল ৷ অপর দিকে তাদের অংশীদার শেভরনের রয়েছে ২৮ শতাংশ মালিকানা। বাকিটা মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মালিকানাধীন।

এ দিকে রয়্যাল ডাচ শেলও মিয়ানমারে তাদের কার্যক্রম বন্ধের খবর শুক্রবার নিশ্চিত করেছে। সমুদ্রে একটি ব্লকে উডসাইড এনার্জি ও মিয়ানমার পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির সঙ্গে তাদের যৌথ বিনিয়োগ কার্যক্রম রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র দাবি করেন, অনুসন্ধান কাজ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। যার কারণে কারণে এর সঙ্গে কোনো উৎপাদন বা সরকাররে সঙ্গে আমাদের কোনো লেনদেনও নেই।

শুধু এই তিন প্রতিষ্ঠানই নয় একে একে প্রায় সব বিদেশি বড় বড় প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার থেকে তাদের বিনিয়োগ গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে আরও বিপাকে পড়ছে দেশটির অর্থনীতি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য মতে, শুধু টোটাল ও শেভরনই ইয়াদানা গ্যাস প্রকল্পের আয় থেকে সরকারকে বছরে একশ কোটি ডলারের অধিক কর দিতো। যা দেশটির বিদেশি মুদ্রা আয়ের এককভাবে সবচেয়ে বড় উৎস ছিল।

অপর দিকে মিয়ানমার ছেড়েছে ফরাসি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ভোল্টালিয়াও। সবচেয়ে বড় টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক নরওয়ের টেলিনর গত বছর দেশটিতে তাদের ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন : ট্রেন সংকট-মূল্যবৃদ্ধিতে স্থবির ভারতের চাল রফতানি

গত বছরের অক্টোবর মাসেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো। দেশটিতে তাদের কর্মী বহরে ছিল এক লাখেরও অধিক মানুষ।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে, ব্লুমবার্গ

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড